গল্প ও গদ্য

চেতনার দূরত্বহীনতা



রোদ্দুর! গত একটা বছর তোমার সাথে কোনো যোগাযোগ ছিল না, অথচ এমন একটা দিনও যায়নি আমার, রোদ্দুরের সাথে কথা হয়নি। এই একটা বছরে অনেক কঠিন কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে গেছি, প্রতি বার মনে মনে রোদ্দুরকে স্মরণ করেছি। যখন বুঝেছি, পৃথিবীর কেউ আমার পাশে নেই, তখনও শুধু একজনকে খুঁজেছি। আমি জানতাম, রোদ্দুর সব বুঝতে পারছে। মৃত্যুর কাছাকাছি গেলে শুধু একটা আফসোস হতো, অদেখা একজনের নামে চোখের কোণে জল জমত।

আমি এখন ডিপ্রেশনের ওষুধ খাই। আমি জেনে গেছি, এই পৃথিবীতে কার‌ও কাছে আমার মূল্য নেই। আমাকে আসলেই সহ্য করা যায় না। আমার আর কোনো কিছু চাওয়া-পাওয়ারও নেই। শুধু একটাই প্রার্থনা—এই অপয়ার চোখের জল সেই মানুষটার ভালো থাকার পথে কোনো বাধা না সৃষ্টি করুক! চোখের জল ফেলতেও আমার এখন ভয় হয়।

আমার এখন খুব ভয় করে, রোদ্দুর। শুধু মনে হয়, কেউ একজন খুব মমতা নিয়ে আমার পাশে থাক। আমি আবার আগের মতো হতে চাই।

রোদ্দুর! কিছুদিন আগেও ভাবতাম, একদিন দেখা হবে, শেষবেলায় হলেও। অথচ আমাদের জীবনটাই কত অনিশ্চিত। ঢাকা শহরের মতো অভিশপ্ত জায়গায় জীবনটা অনিশ্চিত‌ই।

অসুস্থতা কাটিয়ে যখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছি, তখন অন্য ভয় কাজ করছে। সব কিছু কি শেষ হয়ে যাবে? হঠাৎ সব কিছু থেমে যাবে? আমাদের কি ছুটির সময় হয়ে গেছে! যদি ছুটি হয়ে যায় তো কিছুই করার নেই। তবুও আশায় বাঁচি, একদিন দেখা হবে।

আচ্ছা রোদ্দুর, জীবনের সব কিছু শেষ হয়ে যেতে যেতেও আবার জীবন জেগে ওঠে, তাই না? আমার এখন মাঝেমধ্যে মন ভালো হয়; কিছুদিন আগেও একটানা দিনের পর দিন আমার মন খারাপ যেত। মনে হতো, ওটাই জীবন। এখন মাঝেমধ্যে গান শুনি, যা ভালো লাগে করি, তোমাকে দেখলেও আমার মন ভালো হয়, আবার প্রচণ্ড কষ্টও হয়। তবে এই কষ্টটা কেন জানি না পবিত্র লাগে; এরকম পবিত্র কিছু কষ্ট বেঁচে থাকাটাও পবিত্র করে দেয়।

জানো, আমার না খুব ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করছে কোথাও! কতদিন ঘরবন্দি! আমি না এখন কাউকে কিছু বলি না, আমার মানুষের সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। তোমার সাথে যেদিন দেখা হবে, সেদিনও বোধ হয় কথা বলতে পারব না। আমি অর্ধেক বোবা হয়ে গেছি।

তুমি ভালো থেকো, রোদ্দুর। তোমার ভালো থাকা দেখলে আমার কষ্ট কমে যায়।

চেতনার কোনো দূরত্ব নেই, সমস্যাটা শুধুই শরীরের।

আমি শেষ, রোদ্দুর। আর পারছি না। কোথাও একফোঁটা বাতাস নেই, শ্বাস নিতে পারছি না।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *