গল্প ও গদ্য

ক্লান্তির অভ্যর্থনা



তোমার উষ্ণ নিঃশ্বাস আমার বেঁচে থাকার সম্বল হোক—এমনটাই চেয়েছিলাম। জানো, কিছু অভ্যর্থনা গোটা একটা মুহূর্তকে আজীবন জাগিয়ে রাখতে যথেষ্ট। যখন তোমাকে তীব্রভাবে স্পর্শ করি—তখন মৃত্যুর কথা ভাবতে ভালো লাগে নাকি?

আগের সম্পর্কটা ভেঙেছে!—ভাবছ, “এইসব ক্ষুদ্র ঘটনা কি এই প্রথম ঘটল?” তুমি নিঃসন্দেহে একজন হৃদয়বান পুরুষ, তোমার জন্য সুন্দরতম কেউ-না-কেউ অপেক্ষা করছে পৃথিবীর ঘাটে ঘাটে। কিন্তু আমি? এক-একটা গল্প এভাবেই তৈরি হয় পৃথিবীতে।

মানুষ কি ভালোবাসার মানুষকে ছাড়া বাঁচে না, বলো? কত মানুষ এভাবে বেঁচে আছে…আমি পারছি না কেন?

তোমার কাছাকাছি থাকলে আমি কিছুই বলতে পারি না, অথচ, কত-কী বলব ঠিক করে রেখেছিলাম। এত দ্রুত সময় চলে যায়…তুমি যখন আমাকে তোমার বুকের একদম মাঝখানে, কিংবা শরীরের সাথে মিশিয়ে রাখো; যখন বুঝতে পারি, চলে আসার সময় হয়েছে… কেমন যেন এক হতাশা কাজ করে, চোখজুড়ে নামে ক্লান্তি…তোমাকে বলেছিলাম না…আমার খুউব ঘুম পাচ্ছে!

তোমাকে জড়িয়ে ধরে একটু ঘুমোতে পারলে ভালো হতো; জানো, প্রায়ই মনে হয়…এই পৃথিবীতে আমার কেউ নেই, কেউই না। আমাকে কে গ্রহণ করবে? তুমিও কি পেরেছিলে আমাকে গ্রাহ্য করতে? কত প্রশ্ন মনের দরজায় মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে, ওসবে আমি পাত্তা দিই না। আমার এসব আর জানতে ইচ্ছে করে না, আমি হয়তো একটু বেশিই ক্লান্ত।

মানুষকে কিছু না ভেবেই অনেকসময় আবেগতপ্ত হয়ে উঠতে হয়—কাকতালীয়ভাবে, আমাদের যত বার দেখা হয়েছে…তোমাকে বাড়াবাড়ি রকমের ভালোবাসতে ইচ্ছে করেছে।
ভালোবাসার মানুষটাকে এভাবে নিজের মনের কথা লিখে যেতে পারে ক-জন, বলো?

আমি তো পেরেছি, কিছুটা হলেও পেরেছি, না কি অনেকটাই পারলাম, কে জানে! তোমাকে বলে রাখছি—আমার লেখা অক্ষরগুলোও তোমাকে বড্ড ভালোবাসে; আমি না থাকলে…ওদের যত্ন নিয়ো।

লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *