: কুহক পাখির ডাক শুনতে পারছ? এরা খুব ভোরে বা রাতে অত্যন্ত তীক্ষ্ণলয়ে, উচ্চস্বরে এবং একটানা ডাকে, যা ক্ষণেই বাড়ে এবং হঠাৎ থেমে যায়...কিছুটা মানুষের আর্তনাদের মতো শোনায়।
: কই! কিছু শুনতে পেলাম না তো? তিথি, তুমি বড্ড ভূতুড়ে, ইসস্! ঘুমোও।
: না, আজ আর ঘুম আসবে না। একটা মজার ব্যাপার কী, জানো...তুমি আমার সাথে কিছু রাত এভাবে পাশাপাশি কাটিয়ে দিলে...তোমার আমাকে ভারি আধ্যাত্মিক মনে হবে।
: আমি জানি, তুমি অন্য সবার মতো নও...অস্পষ্ট এক রহস্য আছে তোমার ভেতর। আচ্ছা, তিথি...তুমি আমার সাথে কল্পনায় কথা বলতে ভীষণ পছন্দ করো, তাই না?
: খুউব!
: হুঁ, এজন্য তোমাকে বাধা দিই না।
: মৃত্যুকে খুব কাছে থেকে দেখেছি...তা সত্ত্বেও, তোমাকে হারানোর ভয় হয়।
: তিথি, তুমি কতখানি সুখী?
: হা হা হা! (অট্টহাসিতে জোরালো হলো বুকের কম্পন)
: কী হলো! বলো?
: তুমি যতখানি আমার—আমি ঠিক ততখানিই সুখী।
: ইসস্! তিথি...
: হুঁ...
: তোমার বুকের ভেতরটায় কী যেন একটা আছে...বড়ো উত্তাল, ধীরে ধীরে শান্ত হতে থাকে...আচ্ছা, তিথি...তোমার কী হয়েছে?
: অসুখ।
: মানে?
: কিছু না। জানো, আমি শুনেছি—খুউব বেশি ভালোবাসার দু-জন মানুষ কখনও একসাথে থাকতে পারে না, প্রকৃতি নাকি তা মেনে নেয় না।
: এসব কথা কই পাও তুমি? নিশ্চয়ই কোনো উপন্যাসের পাতায়?
: হুঁ, সত্যি।
: তোমার শরীরে এক অদ্ভুত মায়া আছে...জানো, তিথি? আমি কখনও ছুঁতে পারি না বলে কষ্ট হয়।
: তোমাকে মায়ায় বাঁধতে চাওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়।
: তবে? তোমার উদ্দেশ্যটা কী, শুনি?
: লেখা, শুধুই তোমাকে।
: আমি মেয়েদের কান্নায় দূরে পালাই...কিন্তু, তুমি যখন কাঁদছ (মনে হচ্ছে আমার সর্বস্বজুড়ে তোমার উচ্ছ্বাস ছিল)...তোমার চোখের জলের ফোঁটা আমার বুকে এসে পড়ল! তুমি আমার খুউব আদর নিতে চাও, তাই না, তিথি? আহ্, আস্তে জড়িয়ে ধরো! কোত্থাও যাচ্ছি না তোমাকে ছেড়ে...
: আমি চাই, তুমি যাও। আর নাহলে বাধ্য হয়ে আমাকেই যেতে হবে।
বাধ্যতার প্রস্থান
লেখাটি শেয়ার করুন