গল্প ও গদ্য

শূন্যের ত্যাগ



একটা সময় আমার মধ্যে অনেক দ্বিধা, সংশয়, প্রশ্ন ছিল—এখন আর কোনো সংশয় রাখি না। এখন শুধুই বিশ্বাস করি। আমি তোমার সেই তুমিটা, যে তোমাকে হাজার হাজার কথা বলে গেছে, আর তুমি যাকে একটা কথাও কোনোদিন বলোনি—নীরব শ্রোতার মতো শুনে গেছ।

জানি না, এটাও কোনো সম্পর্ক কি না! কোনো সম্পর্কের বন্ধনে কখনও তো জড়াতে চাইনি, কোনো কারণে তোমার গোছানো জীবনের এতটুকু ছন্দপতন হোক—সেটা কখনোই চাই না।

রোদ্দুর আমার কাছে সেই খোলা জানালা, যেখানে আমি প্রাণভরে শ্বাস নিই। যখন জীবনের সব দরজা-জানালা বন্ধ হয়ে যায়, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়—তখন শুধু আমি সেই খোলা জানালাটায় যাই, একটু শ্বাস নেবার জন্য।

পৃথিবীতে কত মানুষের কত রকম আপনজন, কত রকম প্রায়োরিটি। আমার কাছে রোদ্দুর একটুকরো অক্সিজেন—মুমূর্ষু মুহূর্তে বেঁচে থাকার জন্য।

আমি নিজেকে সান্ত্বনা দিই—আমি ত্যাগী, আমি ভোগী নই। আমি পৃথিবীতে এসেছি ত্যাগ করতে, ভোগ করতে নয়। জানি, এগুলো নিছক না-পাওয়ার সান্ত্বনা, নিজেকে ঠকানো। খুব কষ্ট হয় এতে। পেতে ইচ্ছে কার না করে, ভোগ করতে কার না ইচ্ছে করে! ইচ্ছেকে বিসর্জন দেওয়া কি এতই সহজ! হাতে থাকলে তবেই না ত্যাগ করা যায়—যে শূন্য, সে আবার ত্যাগ করবে কী!

হুটহাট আমার খুব মন খারাপ হয়ে যায়, রোদ্দুর। ভালো থাকার চেষ্টা করতে করতে হঠাৎ খুব কান্না পেয়ে যায়।

তোমার লেখাগুলো পড়ি। অবাক হয়ে যাই—তোমার দর্শন, চিন্তাভাবনা আমাকে স্তব্ধ করে দেয়। তুমি কে? তোমার মধ্যে ঐশ্বরিক আলো আছে। আমার মধ্যেও আছে। তোমারটা জানা, আমারটা অজানা।

আমার কোনো ভাষা নেই,
কথা নেই,
দৃষ্টি নেই,
চেতনা নেই।
আমি কি মানুষ!
আস্ত একটা পাথর শুধু!

কখনো দেখতে পেলে দেখতে—
কী ভয়ংকর নিস্তব্ধ কান্না শুধু চোখে,
আর সব মৃত।

কবিতা লিখো না আর?
তোমার কবিতা আমায় মানুষ বানায়।

মনটা একটু ভালো করে দেবে, রোদ্দুর...
একটু আনন্দের ভাগ দেবে?

একদিন যদি সকাল থেকে রাত অবধি তোমায় দেখতে পেতাম!

জীবন নিয়ে চরম ক্লান্ত, রোদ্দুর। জীবনের ওপর এতটা বিতৃষ্ণা কখনও লাগেনি। আর ভার বইতে পারছি না। অনেক ধৈর্য নিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাইছি, কিন্তু মাঝেমধ্যে দমবন্ধ লাগে।

তোমার লেখাও আর আমার ভালো লাগে না। তুমি বলে কেউ নেই—সেটা আমি শুরু থেকেই জানি। আমার জন্য পৃথিবীর কোথাও কেউ নেই, আমাকে ভালো রাখার দায় কারো নেই, আমাকে সুখী দেখার জন্য কেউ অপেক্ষা করে নেই। শুধু বাচ্চাদুটোর জন্য আমাকে আর কিছুদিন বাঁচতে হবে, যেভাবেই হোক।

মনের কথা বলে নাকি হালকা হওয়া যায়—কথাগুলো তোমাকে বললাম, যদি একটু হালকা হতে পারি! দমবন্ধ ভাবটা চলে যাক।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *