আজ মনটা খুব ভালো, রোদ্দুর। এই যে এখনও অশান্তিতে ছিলাম; দিন দিন অশান্তি বেড়েই যাচ্ছে, অবহেলা বাড়ছে, ভেতরটা মুচড়ে যায় কখনো কখনো—কিন্তু এসব আমি থোড়াই কেয়ার করি।
সংকোচে তো অনেক কথাই তোমায় বলতে পারি না। তুমি কী একটু লেখো, কাকে লেখো, কীজন্য লেখো, তা-ও তো জানি না, কিন্তু ওটুকুতেই আমার শান্তি। সব কষ্ট দূরে চলে যায়।
তোমার কাছে হয়তো হাস্যকর বোকামি লাগছে। আজকাল বেশি ভাবতে পারি না, ভাবিও না। আমার যা ভালো লাগে, সেভাবেই নিই। নেগেটিভ কিছু থাকলে সরিয়ে রাখি। আমি জানি, কোনো নেগেটিভিটি কোথাও নেই। অভিমানেরাও চলে গেছে। কোনো কিছুর জন্য একটুও দূরত্ব বাড়াতে চাই না, শুধু আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চাই।
আমার কিছু সমস্যার কথা বলি। জীবনে স্যাক্রিফাইস করতে করতে আর মেনে নিতে নিতে বোধ হয় আমার আচরণে কিছু অস্বাভাবিকতা এসেছে। ছেলের জন্মের পর থেকে খুব নাকি বদমেজাজি, একরোখা হয়ে গেছি। এজন্য আমার মা থেকে শুরু করে ভাই-বোন, স্বামী—মানে কাছের মানুষেরা সবাই আমাকে বলছে, আমি খারাপ। ওদের ভালোবাসা পেতে হলে আমাকে ভালো হতে হবে, লক্ষ্মীমন্ত আচরণ করতে হবে। আমার বর, আমার নিজের বাড়ির মানুষ সবাই মিলে আমার সমালোচনা করে।
এখন বিষয়টা হচ্ছে, আমি সব বুঝতে পারছি। কিন্তু এদের ভালোবাসা আমি আর নিতে পারব না। যে-ভালোবাসা পাবার জন্য লক্ষ্মীমন্ত আচরণ করতে হয়, সে ভালোবাসা আমার দরকার নেই। আমি চেষ্টা করছি আরও রণচণ্ডী হয়ে উঠতে, কারণ আমার এদের প্রতি ঘেন্না ধরে গেছে। তাড়াতাড়ি মুক্তি দরকার।
এর ভেতরে আরও কিছু গভীর সমস্যা আছে। কিছু মানুষ চায়, আমি হেরে যাই, কষ্টে থাকি—এরা এই সুযোগে হাসছে। এদের সাথে লড়াই করার আর শক্তি পাচ্ছি না, এখন লড়াইটা আপন মানুষদের সাথে।
সব মিলিয়ে খুব একা হয়ে গেছি। পিচ্চিটা খুব জ্বালায়, ঠিকমতো খেতে পারি না, ঘুমোতে পারি না, কোনো কাজ করতে পারি না, শরীর ভালো থাকে না। জানি না সব ঠিকঠাক হবে কি না!
সব কিছু শেষপর্যন্ত অর্থহীন—তবু আজকের সূর্যাস্তটা সুন্দর। অযৌক্তিক পৃথিবীতে অর্থ খোঁজা—মানুষের সবচেয়ে যৌক্তিক পাগলামি।
...লেখাটা কোথায় যেন পড়লাম, মিলে গেল ভাবনার সাথে। অপেক্ষা আর বিশ্বাস দুটোই আমার মধ্যে প্রখর। কেউ একজন তোমার জন্য আমৃত্যু অপেক্ষায় থাকবে। এর থেকে বেশি কিছু কেউ কখনও দিয়েছে তোমায়?
আর কখনও আসব না। আমার কোথাও কোনো অপেক্ষা নেই। কারো জন্য ভালোবাসা নেই। আমি সব কিছু ঘৃণা করি। তোমাকেও। আমার জন্য যদি কোনো অনুভূতি থেকে থাকে তো তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করে নিয়ো। মুক্ত থেকো।
বন্ধনের অন্ত্যেষ্টি
লেখাটি শেয়ার করুন