গল্প ও গদ্য

বিষাদমুদ্রা



তোমার সেই তথাকথিত বেটার অপশনটা চলে গিয়েছে, এ-ই তো? কোনো প্লট মাথায় আসছে না, তুমি এখন আসতে পারো। আমি তোমাকে ঘৃণা তো করতে পারব না, দূরত্বটুকু তো চাইতেই পারি?—এটুকু স্বাধীনতা নিশ্চয়ই আমার আছে। তোমাকে নিয়ে ভাবতে চাওয়াটাই আমার সবচেয়ে বড়ো ভুল ছিল।

আমি বিশ্বাস করেছিলাম, তোমার চোখের গভীরে আমার জন্য রাখা কবিতার ছন্দগুলো—নিঃশব্দে বয়ে-যাওয়া এক সীমাহীন অশ্রুর আলোকপাত! সব কিছু এত মিথ্যে! ভাবলেও নিজের ওপর করুণা হয়। আমি তোমাকে ভালোবাসার পাগলামিতে নিজেকে কতই-না উপহাস করেছি!—এর কোনো প্রয়োজন কখনও ছিল না।

তোমার কণ্ঠে আক্ষেপের সুর আমার খুব আদরের; আমার কানে বিড়বিড় করে তোমার নিঃশ্বাসের সুগভীর ভাবনা বলেছিল...আমিই তোমার প্রিয় আলিঙ্গন।

—কেন ভাবতে যাই ওসব? এসব উপলব্ধি ফিরে ফিরে আসে যতক্ষণ পর্যন্ত লিখি আমাদের মুহূর্তগুলি, যত্নে রাখি তোমার স্পর্শের আকুতি—তবুও, এত বিশ্বাসঘাতক কেন আমার নিয়তি?

তুমি আমাকে নিয়ে কখনও একটা শব্দও কি লিখতে পেরেছিলে?—পারবে কীভাবে? যাকে-তাকে নিয়ে কি আর অনুভূতিরা সৃষ্টির মতো মহৎ কাজে মনোনিবেশ করে? শুনেছ কখনও অমন?

যদিও ওসব নিয়ে আমি চিন্তিত নই। আমার কৌতূহল একটা বিষয় নিয়েই—"তুই আমার কে? আমি তোকে ভুলতে কেন পারি না।"

'তুই' সম্বোধনটা তোমার জন্য নয়—এই মুহূর্ত থেকে তুমি একজন অপরিচিত কেউ আমার চোখে; যাকে আমি কখনও চিনতাম না, যাকে নিয়ে জানার আগ্রহ আমার মধ্যে কখনও তৈরি হবে না।

ভালোবাসা আর ঘৃণা হলো একই মুদ্রার দুটো পিঠ। এই মুদ্রার ঘূর্ণন থেমে গেলেই ভালোবাসা বিষাদে রূপ নেয়। ভালোবাসা তখনই অনন্ত যাত্রাকে ছোঁবে...যখন এই মুদ্রাটা আর কখনও থামবে না, অবিরত ঘুরতে থাকবে।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *