(২) 'অত্তা' ও 'অনত্তা' শব্দের সুনির্দিষ্ট অর্থ
যাঁরা বুদ্ধকে গোপন বেদান্তী প্রমাণ করতে চান, তাঁদের সবচেয়ে প্রিয় কৌশল হলো পালি শব্দ 'অত্তা' (attā)-কে উপনিষদিক 'আত্মন'-এর সমার্থক ধরে নেওয়া। গ্লাজেনাপ এই ভুলটি ধরিয়ে দেন।
পালি গ্রন্থে 'অত্তা' শব্দটি দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। প্রথম অর্থ: দৈনন্দিন ব্যবহারে 'নিজ ব্যক্তি'—ধম্মপদের দ্বাদশ অধ্যায়ে (অত্তবগ্গ) যখন বলা হয় 'অত্তানং রক্খতু'—'নিজেকে রক্ষা করো'—তখন এটি কোনো অধিবিদ্যিক ঘোষণা নয়, সাধারণ ব্যাবহারিক উপদেশ, যেমন বাংলায় আমরা বলি 'নিজের খেয়াল রাখো।' দ্বিতীয় অর্থ: দার্শনিক পরিভাষায়, জৈন ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের কল্পিত শাশ্বত আত্মা—যা বৌদ্ধরা প্রত্যাখ্যান করেন। 'অনত্তা' (anattā) তাই বিশেষ্য হিসেবে 'অ-আত্মা' (আত্মা নয় এমন) এবং বিশেষণ হিসেবে 'আত্মাহীন' (যার মধ্যে আত্মা নেই)।
গ্লাজেনাপ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্মতা দেখান। ধম্মপদের ২৭৯ নম্বর পদে বলা হয়েছে: 'সব্বে সঙ্খারা অনিচ্চা... সব্বে ধম্মা অনত্তা।' লক্ষ্য করুন—প্রথম পঙ্ক্তিতে 'সঙ্খারা' (শর্তযুক্ত প্রক্রিয়া) অনিত্য বলা হয়েছে, কিন্তু দ্বিতীয় পংক্তিতে 'ধম্মা' (সমস্ত ধর্ম, নির্বাণসহ) অনত্তা বলা হয়েছে। অর্থাৎ অনাত্মতা কেবল শর্তযুক্ত জগতের ওপর প্রযোজ্য নয়—নির্বাণও আত্মা নয়। এটি বেদান্তের ঠিক বিপরীত, যেখানে মোক্ষ বা ব্রহ্মই হলো আত্মা।
আরেকটি সূত্র: সংযুত্ত নিকায়ে (SN 35.85) বলা হয়েছে: 'রূপা সুঞ্ঞা অত্তেন বা অত্তনীয়েন বা'—'রূপগুলো আত্মা থেকেও শূন্য এবং আত্মার সাথে সম্পর্কিত যা-কিছু আছে, তা থেকেও শূন্য।' এখানে 'শূন্য' (সুঞ্ঞা) শব্দটি লক্ষণীয়—পরবর্তীকালে নাগার্জুনের শূন্যতার বীজ এই প্রাচীন পালি ব্যবহারেই আছে।
গ্লাজেনাপ একটি সুন্দর পালটা-যুক্তিও দেন: যাঁরা বলেন, বৌদ্ধধর্মে 'আত্মা আছে, কিন্তু লুকিয়ে আছে', তাঁদের জানা উচিত যে, 'অনাত্মান' শব্দটি ব্রাহ্মণ্য গ্রন্থেও পাওয়া যায়—ভগবদ্গীতায় (৬.৬), শঙ্করের ব্রহ্মসূত্রভাষ্যে (১.১.১), বেদান্তসারে (১৫৮)। সেখানে 'অনাত্মান' মানে 'আত্মা নয়, এমন জিনিস'—অর্থাৎ জগৎ, শরীর, মন ইত্যাদি। তাহলে বৌদ্ধধর্মে 'অনত্তা' যদি একই অর্থে ব্যবহৃত হয়—'এটি আত্মা নয়'—তাহলে সেটি আত্মাবাদকে প্রত্যাখ্যান করছে, নিশ্চিত করছে না।
(৩) আত্মা ছাড়াই পুনর্জন্ম সম্ভব
যারা বৌদ্ধধর্মে গোপন আত্মা খোঁজেন, তাঁদের একটি প্রিয় যুক্তি: 'আত্মা না থাকলে পুনর্জন্ম কীভাবে সম্ভব? কে জন্মায়? কার পুনর্জন্ম হয়?' গ্লাজেনাপ এই যুক্তি খণ্ডন করেন।
তিনি দেখান যে, এমনকি পাশ্চাত্য দর্শনেও আত্মা ছাড়া পুনর্জন্মের ধারণা নতুন নয়। গ্রিক দার্শনিক পিথাগোরাস (আনু. খ্রি.পূ. ষষ্ঠ শতক) ও এম্পেডোক্লিস (আনু. খ্রি.পূ. পঞ্চম শতক) উভয়েই পুনর্জন্মে বিশ্বাস করতেন, কিন্তু তাঁদের কারও কাছে অবিনশ্বর আত্মাদ্রব্যের ধারণা ঠিক সেভাবে ছিল না যেভাবে উপনিষদে আছে।
বৌদ্ধধর্মে পুনর্জন্ম ঘটে প্রতীত্যসমুৎপাদের মাধ্যমে—পরস্পর-নির্ভর উৎপত্তির মাধ্যমে। বুদ্ধ নিজে একটি উপমা দিয়েছেন: প্রদীপের শিখা। একটি জ্বলন্ত প্রদীপের শিখা প্রতিমুহূর্তে বদলাচ্ছে—একসেকেন্ড আগের শিখা আর একসেকেন্ড পরের শিখা ভৌতভাবে একই নয়, কারণ জ্বালানি পুড়ে যাচ্ছে এবং নতুন জ্বালানি আসছে। কিন্তু আমরা বলি, 'একই শিখা জ্বলছে'—কারণ প্রতিটি মুহূর্ত আগের মুহূর্তের কারণ। ঠিক তেমনি, মৃত্যুর মুহূর্তে চৈতন্যপ্রবাহের শেষ মুহূর্ত পরবর্তী জন্মের প্রথম মুহূর্তকে শর্তযুক্ত করে—যেমন একটি মোমবাতি থেকে আরেকটি মোমবাতিতে আগুন ধরানো হলে আগুন 'স্থানান্তরিত' হয় না, নতুন শিখা জন্মায় পুরোনোটির কারণে। কোনো 'আত্মা' এক শরীর থেকে আরেক শরীরে যায় না—একটি কার্যকারণ ধারা অব্যাহত থাকে, যেমন একটি সিলমোহরের ছাপ মোমে পড়লে সিলের কোনো অংশ মোমে যায় না, কিন্তু ছাপটি হুবহু পড়ে।
(৪) গুন্টার ও জেনিংসের ব্যাখ্যার সুনির্দিষ্ট খণ্ডন
বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে দু-জন ইউরোপীয় পণ্ডিত বুদ্ধকে গোপন বেদান্তী প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন: হারবার্ট গুন্টার (The Soul Problem of Early Buddhism, কনস্টান্ৎস, ১৯৪৯) এবং জে.জি. জেনিংস (The Vedantic Buddhism of the Buddha, অক্সফোর্ড, ১৯৪৭)। গ্লাজেনাপ তাঁদের তিনটি প্রধান যুক্তি ধরে ধরে খণ্ডন করেন।
প্রথম খণ্ডন: উদান গ্রন্থের (Ud 8.2) অট্ঠকথায় ধম্মপাল নির্বাণকে 'অনত্তং' অর্থাৎ 'অত্ত-বিরহিত' (আত্মাশূন্য) বলে ব্যাখ্যা করেছেন। বিনয় পিটকেও (Vin V, পৃ. ৮৬) একই কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ পালি ঐতিহ্যের দুটি পৃথক জায়গায়—অট্ঠকথা ও বিনয়—নির্বাণকে 'আত্মা নয়' বলা হচ্ছে। এরপরও নির্বাণকে আত্মা বলার কোনো সুযোগ থাকে না।
দ্বিতীয় খণ্ডন: মহাপরিনিব্বান সুত্তে (DN 16) বুদ্ধ বলেছেন: 'অত্তদীপা বিহরথ, ধম্মদীপা'—'নিজেকেই আশ্রয় করো, ধর্মকেই আশ্রয় করো।' গুন্টার ও জেনিংস এই বাক্যকে আত্মবাদের প্রমাণ হিসেবে দেখাতে চান—'দেখো, বুদ্ধ নিজেই আত্মাকে আশ্রয় করতে বলেছেন!' গ্লাজেনাপ দেখান: এটি একটি ব্যাবহারিক নির্দেশ—'অন্যের ওপর নির্ভর কোরো না, নিজের চেষ্টায় এগিয়ে যাও'—অধিবিদ্যিক ঘোষণা নয়। বুদ্ধ এটি বলেছিলেন তাঁর মৃত্যুর ঠিক আগে, যখন আনন্দ কাঁদছিলেন—প্রসঙ্গটি সম্পূর্ণ ব্যাবহারিক: 'আমি চলে যাচ্ছি, তোমরা নিজেরাই নিজেদের পথ খোঁজো।'
তৃতীয় খণ্ডন—সবচেয়ে চমৎকার। গুন্টার ধম্মপদ ১৬০ নম্বর পদের 'অত্তা হি অত্তনো নাথো'—'আত্মাই আত্মার নাথ (প্রভু/আশ্রয়)'—এই বাক্যকে অনুবাদ করেছেন: 'নির্বাণই মানুষের নেতা' (অর্থাৎ 'অত্তা' = নির্বাণ/পরম আত্মা)। গ্লাজেনাপ দেখান: এই অনুবাদ যদি সত্য হয়, তাহলে ঠিক পরের পদ—ধম্মপদ ১৬১—'অত্তনা ব কতং পাপং'—এর অর্থ দাঁড়ায়: 'নির্বাণ দ্বারা পাপ সৃষ্ট হয়।' এটি এতটাই অবাস্তব যে, গুন্টারের পুরো অনুবাদ-পদ্ধতিই ভেঙে পড়ে। আসল অর্থ সহজ: 'তুমি নিজেই নিজের প্রভু'—অর্থাৎ নিজের কর্মের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে।
(৫) পালি ক্যাননে উপনিষদিক আত্মনের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি
গ্লাজেনাপের পঞ্চম যুক্তি সোজাসুজি চ্যালেঞ্জ: পালি ক্যাননের কোথাও—তিপিটকের হাজার হাজার পৃষ্ঠার কোথাও—একটিও স্থান দেখাও, যেখানে 'অত্তা' শব্দটি উপনিষদিক অর্থে—'সর্বজনীন আত্মা, সব কিছুর পরম ভিত্তি, সৎ-চিৎ-আনন্দ'—ইতিবাচকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জে কেউ সফল হননি।
গ্লাজেনাপ আরও দেখান: 'আত্মন' শব্দটি ভারতীয় দর্শনের অনেক সম্প্রদায়ে আছে—ন্যায়, বৈশেষিক, সাংখ্য, যোগ, মীমাংসা, জৈনধর্ম—কিন্তু তাদের কারও 'আত্মন' উপনিষদিক 'পরম ব্রহ্মের সাথে অভিন্ন সর্বজনীন আত্মা' অর্থে নয়। ন্যায়ের আত্মা একটি দ্রব্য (substance), সাংখ্যের পুরুষ একটি নিষ্ক্রিয় চেতনা, জৈনের জীব একটি সীমিত সত্তা—কেউই বেদান্তের 'তত্ত্বমসি'-র আত্মন নয়। এই বিশেষ অর্থ কেবল বেদান্তের নিজস্ব। তাহলে বৌদ্ধধর্মে কেন সেই বিশেষ অর্থ খোঁজা হবে—যা ভারতের অন্য কোনো অ-বেদান্তিক সম্প্রদায়েও নেই?
(৬) জর্জ গ্রিমের মহাযুক্তির ভ্রান্তি
জার্মান পণ্ডিত জর্জ গ্রিম (Georg Grimm) একটি চতুর ত্রিপদী যুক্তি দিয়ে বুদ্ধের মধ্যে আত্মাবাদ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর যুক্তি: বুদ্ধ বলেছেন, 'রূপ আত্মা নয়, বেদনা আত্মা নয়, সঞ্ঞা আত্মা নয়, সঙ্খার আত্মা নয়, বিঞ্ঞাণ আত্মা নয়'—অর্থাৎ জানা কোনো কিছুই 'আমার অহং নয়।' গ্রিম বলেন, তাহলে জ্ঞানাতীত (জানার বাইরে) একটি শাশ্বত অহং থাকতে হবে—কারণ 'এটি আমি নই' বলার জন্যও তো একটি 'আমি' লাগে, তাই নয় কি?
গ্লাজেনাপ দেখান: এই যুক্তি একটি মৌলিক যুক্তিবিদ্যার ভুলের ওপর দাঁড়িয়ে। 'জগতে নেই' থেকে 'জগতের বাইরে আছে'—এই সিদ্ধান্ত যুক্তিশাস্ত্রে সমর্থিত নয়। 'এই ঘরে হাতি নেই' থেকে 'তাহলে হাতি ঘরের বাইরে আছেই' বলা যায় না—হয়তো হাতি কোথাও নেই।
গ্লাজেনাপ একটি চমৎকার পালটা-উপমা দেন বাইবেল থেকে: মার্ক ১৩.২২-এ যিশু বলেছেন 'ভণ্ড মসীহরা আবির্ভূত হবে' (false Christs will arise)। গ্রিমের যুক্তি অনুসরণ করলে বলতে হয়: 'মিথ্যা খ্রিস্ট (false Christ)' আছে বলেই 'প্রকৃত খ্রিস্ট'-ও থাকতে হবে। কিন্তু একজন নাস্তিক বা অবিশ্বাসী বলতে পারেন: না, শুধু মিথ্যা দাবিদাররাই আছে, 'প্রকৃত' কেউ নেই। ঠিক তেমনি, বুদ্ধ যখন বলেন, 'এটি আত্মা নয়, ওটিও আত্মা নয়'—তখন তিনি বলছেন না, 'আসল আত্মা অন্য কোথাও লুকিয়ে আছে'—বলছেন, 'আত্মা বলে কোথাও কিছু নেই।'
গ্লাজেনাপ আরও দেখান, এমনকি পুদ্গলবাদীরা—বৌদ্ধধর্মের মধ্যেকার সেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যাঁরা একটি 'পুদ্গল' বা ব্যক্তিসত্তায় বিশ্বাসী ছিলেন—তাঁরাও কখনও পালি ক্যাননের মূল গ্রন্থ থেকে 'আত্মা আছে' বলে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। সমগ্র হীনযান (থেরবাদ, সর্বাস্তিবাদ, সৌত্রান্তিক ইত্যাদি) ও সমগ্র মহাযান (মধ্যমক, যোগাচার ইত্যাদি)—সবাই এ বিষয়ে একমত: অনাত্মা মতবাদ বৌদ্ধধর্মের অখণ্ড ও অপরিবর্তনীয় ভিত্তি।
(৭) নির্বাণ আত্মন নয়—আরেকটি যুক্তি
চতুর্থ পরিচ্ছেদে আমরা এই বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করেছি, কিন্তু গ্লাজেনাপ সেই যুক্তিগুলোকে আরও ঘনীভূত আকারে উপস্থাপন করেন।
আত্মন মানসিক ও সচেতন (চিৎ)—নির্বাণকে 'সচেতন' বলা যায় না, কারণ বৌদ্ধ দর্শনে চেতনা (বিঞ্ঞাণ) নিজেই একটি শর্তযুক্ত স্কন্ধ। আত্মন জগতের আদিকারণ (ঐতরেয় ১.১: 'আত্মা একাই ছিলেন, তিনিই সব সৃষ্টি করেছেন')—নির্বাণ কোনো কিছু সৃষ্টি করে না। আত্মন বিশ্বশৃঙ্খলার ধারক (বৃহদারণ্যক ৩.৮.৯: এই অক্ষরের আদেশেই সূর্য-চন্দ্র স্থিত, নদী প্রবাহিত)—নির্বাণ মহাবিশ্ব চালায় না। আত্মন সকল পদার্থের অন্তরতম সার—নির্বাণ কোনো কিছুর 'ভেতরে' থাকে না।
গ্লাজেনাপ একটি সাধারণ-জ্ঞানের প্রশ্নও তোলেন: বুদ্ধ যদি সত্যিই আত্মাবাদী হতেন, তাহলে তিনি কেন 'আত্মন' শব্দটি ব্যবহার করলেন না? তাঁর সমকালীন শ্রোতাদের মধ্যে অনেকেই ব্রাহ্মণ ছিলেন, যাঁরা 'আত্মন' শব্দটি বুঝতেন। বুদ্ধ যদি আত্মাবাদী হতেন, তাহলে সেই শব্দ ব্যবহার করলে শ্রোতারা সরাসরি বুঝতেন। কিন্তু তিনি সচেতনভাবে সেই শব্দ এড়িয়ে গেছেন—কারণ তাঁর শিক্ষা আত্মাবাদের বিপরীত এবং সেই শব্দ ব্যবহার করলে শ্রোতাদের মনে ভুল সংযোগ জাগত।
(৮) আধুনিক গবেষণার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
গ্লাজেনাপের শেষ যুক্তি পাণ্ডিত্যের ইতিহাসের ওপর দাঁড়িয়ে। তিনি দেখান যে, বিংশ শতাব্দীর প্রথম তিন দশকে তিনটি মৌলিক গবেষণা বৌদ্ধ দর্শনের প্রকৃত স্বরূপ চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে—এবং এই তিনটি গবেষণার পর 'বুদ্ধ আসলে আত্মাবাদী ছিলেন' দাবিটি আর পণ্ডিত-মহলে টেকে না।
প্রথমত: রুশ পণ্ডিত অটো রোজেনবার্গের Problems of Buddhist Philosophy (রুশ ভাষায় ১৯১৮, জার্মান অনুবাদ ১৯২৪)—সেখানে তিনি দেখান যে, বৌদ্ধ দর্শনের মূল কাঠামো হলো ধর্মতত্ত্ব (dharma theory), যা আত্মাবাদের সম্পূর্ণ বিপরীত।
দ্বিতীয়ত: রুশ-পোলিশ পণ্ডিত থিওডোর শ্চেরবাৎস্কির দুটি যুগান্তকারী গ্রন্থ—The Central Conception of Buddhism and the Meaning of the Word 'Dharma' (১৯২৩) এবং Buddhist Logic (দুই খণ্ড, ১৯৩২)—সেখানে তিনি প্রমাণ করেন যে, বৌদ্ধ দর্শনে 'ধর্ম' (ক্ষণস্থায়ী উপাদান) হলো চূড়ান্ত বাস্তবতা, কোনো স্থায়ী সত্তা নয়।
তৃতীয়ত: বেলজিয়ান পণ্ডিত লুই দ্য লা ভালে পুসাঁর বসুবন্ধুর অভিধর্মকোষের ফরাসি অনুবাদ (L'Abhidharmakośa de Vasubandhu, ১৯২৩-১৯৩১)—সেখানে বৌদ্ধ অভিধর্মের সম্পূর্ণ কাঠামো পাশ্চাত্য পণ্ডিত-মহলের কাছে প্রথম বারের মতো সুসংহতভাবে উন্মুক্ত হয় এবং দেখা যায় যে, সমস্ত বৌদ্ধ সম্প্রদায়—থেরবাদ থেকে যোগাচার পর্যন্ত—অনাত্মা-ধর্মতত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আলো ও নৈঃশব্দ্য: ৪
লেখাটি শেয়ার করুন