দর্শন ও মনস্তত্ত্ব

দর্পণের দর্পণ: ৩



তৃষ্ণা—পরমসত্তার জন্য ব্যাকুলতা—আধ্যাত্মিক যাত্রার ইন্ধন। তৃষ্ণা ছাড়া যাত্রা নেই—যেমন ক্ষুধা ছাড়া খাওয়ার ইচ্ছে জাগে না, যেমন প্রেম ছাড়া মিলনের আকাঙ্ক্ষা জন্মায় না। কিন্তু একটি প্রশ্ন: যে কখনও পৃথক হয়নি—তার বিরহ কীসের? একটি ধারা বলে: বিরহ বিভ্রম—তুমি কখনও আলাদা ছিলে না, তোমার কান্না অকারণ, তোমার তৃষ্ণা স্বপ্নের তৃষ্ণা। অন্য ধারা বলে: পৃথকতা চিরন্তন—জীব চিরকালই জীব, পরমসত্তা চিরকালই পরমসত্তা—এবং সেই দূরত্ব পার হওয়ার ব্যাকুলতাই প্রেম—এবং সেই প্রেমই সৃষ্টির সবচেয়ে সুন্দর সৃষ্টি। বিরহের গায়করা—যাঁরা প্রিয়তমের অনুপস্থিতিতে রাত জেগে গান বেঁধেছেন—তাঁরা মানবসভ্যতার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—কারণ তাঁরা সেই তৃষ্ণাকে সংগীতে রূপান্তরিত করেছেন, যা ছাড়া আত্মা শুকিয়ে যায়।


মধ্যবর্তী জগৎ—আলো, কল্পনা ও প্রতীকের সত্তা


পদার্থের জগৎ আর আত্মার জগতের মাঝখানে একটি গোধূলিলোক আছে—দিন নয়, রাত নয়—দুটোর মিশেল—যেখানে অর্থ দেহ ধারণ করে এবং দেহ অর্থে দ্রবীভূত হয়। এটি কল্পনার জগৎ নয়—কল্পনা মানুষের তৈরি খেলনা; এটি খেলনা নয়, এটি একটি স্বতন্ত্র সত্তাস্তর। এখানে শোক একটি নদী হয়ে বয়ে যায়, আনন্দ একটি পাখি হয়ে গান গায়, মানুষ তারকায় পরিণত হয় এবং তারকা মানুষে নেমে আসে—কারণ এই স্তরে রূপ ও তাৎপর্য অভিন্ন—যেমন সংগীতে সুর ও আবেগ অভিন্ন।


এই মধ্যবর্তী জগতেই দ্রষ্টারা দেখেন, কবিরা লেখেন, শিল্পীরা আঁকেন। যখন একজন কবি বলেন, "আমার হৃদয় ভেঙে গেছে"—তিনি আক্ষরিক অর্থে বলছেন না—কিন্তু রূপক হিসেবেও বলছেন না—তিনি মধ্যবর্তী জগতের ভাষায় বলছেন—যেখানে হৃদয় সত্যিই ভাঙে, কিন্তু রক্তমাংসের হৃদয় নয়, আত্মার হৃদয়। এই জগতেই স্বপ্ন সত্য হয়, প্রার্থনা উত্তর পায়, মৃতরা জীবিতদের সঙ্গে কথা বলে। এটি বাস্তবতার চেয়ে কম বাস্তব নয়—বরং বেশি—কারণ এখানে পদার্থের ভারী পর্দা নেই, সত্য আরও স্বচ্ছ।


তিনটি অবস্থা—জাগ্রত, স্বপ্ন, সুষুপ্তি—এবং তাদের ওপারে চতুর্থ: যেখানে তিনটিই বিলুপ্ত এবং চৈতন্য একা দাঁড়িয়ে—নিরাবরণ, নিরাকার, নিরঞ্জন—যেমন একটি মোমবাতি নিভে গেলে অন্ধকার থাকে না, আলোও থাকে না—শুধু আকাশ। মধ্যবর্তী জগৎ সেই গোধূলি—যেখানে সত্য প্রতীকের মুখোশ পরে কথা বলে, যেখানে বাস্তবতা তার কঠিন বর্ম খুলে তরল হয়। আলো এই জগতের মূল উপাদান—এবং সবচেয়ে গভীর অন্ধকূপের তলদেশ থেকেও আলো বের হয়ে আসে—কারণ আলো আলোরই ধর্ম—অন্ধকার তাকে হত্যা করতে পারে না, শুধু ক্ষণিকের জন্য ঢেকে রাখতে পারে—এবং ঢেকে রাখাটাও একদিন শেষ হয়।


নৈঃশব্দ্য—শব্দের ওপারে যে-ভাষা


শব্দ থামলেই কি নৈঃশব্দ্য শুরু হয়? না—নৈঃশব্দ্য শব্দের অনুপস্থিতি নয়, নৈঃশব্দ্য শব্দের মাতৃগর্ভ—যেখান থেকে প্রতিটি শব্দ জন্ম নেয় এবং যেখানে প্রতিটি শব্দ ফিরে যায়। শব্দের আগে নৈঃশব্দ্য ছিল, শব্দের পরে নৈঃশব্দ্য থাকবে—শব্দ একটি তরঙ্গ, নৈঃশব্দ্য সেই সমুদ্র, যার বুকে তরঙ্গ ওঠে ও মেশে। সমস্ত সংগীতের গভীরতম মুহূর্ত সুরের মধ্যে নয়, দুটি সুরের মধ্যবর্তী নীরবতায়—সেই ক্ষণিকের থামায়—যেখানে শ্রোতার হৃদয় থমকে যায় এবং পরবর্তী সুরের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে।


পরমসত্তার সবচেয়ে গভীর ভাষা নৈঃশব্দ্য—কারণ শব্দ সীমাবদ্ধ, নৈঃশব্দ্য অসীম। একটি শব্দ একটি অর্থ বহন করে—"গোলাপ" বললে একটি ফুলের ছবি ভাসে, অন্য সব ফুল বাদ পড়ে। কিন্তু নৈঃশব্দ্য? নৈঃশব্দ্যে সমস্ত শব্দ একসঙ্গে বিদ্যমান—অব্যক্ত, সম্ভাবনাময়—যেমন একটি সাদা কাগজে সমস্ত চিত্র লুকিয়ে আছে, একটিও আঁকা হয়নি বলে সবকটি সম্ভব। নৈঃশব্দ্য অসীম সম্ভাবনার ক্ষেত্র—শব্দ সেই ক্ষেত্র থেকে একটি ফসল তোলা—বাকি অসীম ফসল অব্যক্তই থেকে যায়।


প্রার্থনার গভীরতম রূপ শব্দবিহীন—যখন মুখ থেকে কোনো ধ্বনি বেরোয় না, ঠোঁট নড়ে না, এমনকি মনেও কোনো শব্দ তৈরি হয় না—শুধু একটি নির্বাক উপস্থিতি—"আমি এখানে, তুমি এখানে"—এটুকুই। যেমন দুটি মানুষ যারা একে অপরকে এত গভীরভাবে ভালোবাসে যে, কথা বলার দরকার পড়ে না—একই ঘরে বসে থাকা যথেষ্ট—শ্বাসের শব্দ যথেষ্ট—উপস্থিতিই ভাষা। পরমসত্তার সঙ্গে এই নৈঃশব্দ্যের সম্পর্কই সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ—কারণ শব্দ বললেই দূরত্ব তৈরি হয়, শব্দ একটি সেতু—কিন্তু নৈঃশব্দ্যে সেতুর দরকার নেই, কারণ দুই পাড় একই।


ভাষার সবচেয়ে সৎ মুহূর্ত, যখন সে স্বীকার করে—"আমি পারি না।" কবি জানেন এই সীমা—সবচেয়ে বড়ো কবিতার শেষে একটি শূন্যতা আছে—একটি "বলা-হয়নি"—এবং সেই "বলা-হয়নি"-টুকুই কবিতার প্রাণ। সংগীতে শেষ সুরটি থামার পর যে-নীরবতা নামে—সেই নীরবতা সংগীতের অংশ, সংগীতের বাইরে নয়। তেমনি সমস্ত দর্শন, সমস্ত ধর্মগ্রন্থ, সমস্ত প্রার্থনার শেষে একটি নৈঃশব্দ্য আছে—এবং সেই নৈঃশব্দ্যই সবচেয়ে বেশি বলে—কারণ সে বলে: "যা সত্য, তা শব্দের চেয়ে বড়ো।"


ধ্যানের গভীরতম স্তরে শব্দ থামে, চিন্তা থামে, এমনকি অনুভূতিও থামে—যা অবশিষ্ট থাকে, তা নৈঃশব্দ্য নয়, নৈঃশব্দ্যের ওপারে—এটি "কিছু নেই" নয়, এটি "সব কিছু আছে, কিন্তু অব্যক্ত"—যেমন গভীর ঘুমে চৈতন্য আছে (জাগলে মনে পড়ে, "আমি ঘুমিয়েছিলাম"), কিন্তু কোনো বিষয়বস্তু নেই—বিষয়বিহীন চৈতন্য—শুদ্ধ সত্তা—শুদ্ধ "আছি"—এটিই পরমসত্তার নিকটতম অভিজ্ঞতা—কারণ পরমসত্তা শুদ্ধ "আছেন"—কোনো বিশেষণ ছাড়া, কোনো ক্রিয়া ছাড়া, কোনো বিষয় ছাড়া—শুধু "আছেন"।


সত্তার একত্ব—সরল পথ ও সর্বব্যাপী করুণা


সমস্ত সত্তা ইতোমধ্যেই পথে—কারণ পথের বাইরে কোনো স্থান নেই—যেমন মহাকর্ষের বাইরে কোনো বস্তু নেই, যেমন সমুদ্রের বাইরে কোনো তরঙ্গ নেই। "পথভ্রষ্ট" বলে যাকে ডাকা হয়, সে আসলে ঘুরপথে আছে—পথের বাইরে নয়। পিঁপড়ে মরুভূমিতে হারিয়ে গেলেও পৃথিবীতেই আছে—পৃথিবীর বাইরে যায়নি। পরমসত্তার দৃষ্টিতে কেউ হারায়নি—কারণ হারানোর জন্য তাঁর দৃষ্টির বাইরে যেতে হবে, এবং তাঁর দৃষ্টি সর্বব্যাপী।


এই ধারণাটি নৈতিকতার ভিত্তি নাড়িয়ে দেয়। যদি সবাই পথে থাকে, তাহলে "ভুল পথ" বলে কিছু নেই—তাহলে পাপ-পুণ্যের পার্থক্য কোথায়? উত্তর সম্ভবত এমন: পরমসত্তার দৃষ্টিতে কেউ "হারায়নি"—কিন্তু জীবের দৃষ্টিতে কিছু পথ দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক, কিছু পথ সংক্ষিপ্ত ও আলোকিত। ঘুরপথে যাওয়া "ভুল" না—কিন্তু অপ্রয়োজনীয় কষ্ট। সরল পথ মানে কম কষ্টের পথ—পরমসত্তা পৌঁছে দেবেনই, কিন্তু সরল পথে চোখের জল কম ঝরবে।


জগতের এই বৈচিত্র্য—এই গাছ, এই পাখি, এই নদী, এই মানুষ—এরা কি সত্যিই আছে, না কেবল আছে বলে মনে হয়? এই একটি প্রশ্নে তিনটি উত্তর—তিনটি পর্বতচূড়া—কোনোটি অন্যটির চেয়ে উঁচু নয়, শুধু দাঁড়ানোর জায়গা ভিন্ন, এবং তিনটিই একই আকাশের নিচে। প্রথম চূড়া বলে: জগৎ নেই—যেমন স্বপ্নে বাঘ দেখে বুক কাঁপে, কিন্তু জেগে উঠলে বাঘও নেই, ভয়ও নেই, কিছুই ছিল না—এই গাছ, এই পাখি, এই মানুষ সব সেই স্বপ্নের বাঘ—আত্মজ্ঞানের ভোর হলেই কুয়াশার মতো মিলিয়ে যাবে—পরমসত্তাই একমাত্র বাস্তব। দ্বিতীয় চূড়া বলে: জগৎ আছে—তরঙ্গ আছে, ফেনা আছে, ঘূর্ণি আছে—চোখে দেখা যায়, হাতে ছোঁয়া যায়, অস্বীকার করা যায় না—কিন্তু এর কোনোটিই জল ছাড়া কিছু নয়—ভিন্ন ভিন্ন চেহারায় একই পরমসত্তা—আলাদা মনে হয়, আলাদা নয়। তৃতীয় চূড়া বলে: জগৎ সম্পূর্ণ বাস্তব—স্বপ্ন নয়, ছায়া নয়, বিভ্রম নয়—কিন্তু একা দাঁড়াতে পারে না—যেমন হাত শরীরের অংশ, বাস্তব কিন্তু শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হলে অর্থহীন—জগৎ পরমসত্তার শরীর, তাঁর থেকে আলাদা নয়, তবু তিনি নন—যেমন তুমি তোমার হাত নও, কিন্তু তোমার হাত তোমারই।


করুণা সব কিছুকে ছুঁয়ে আছে—এমনকি দুঃখের সবচেয়ে অন্ধকার কোণকেও। যেমন সূর্যের আলো মেঘের পেছনেও বিদ্যমান—মেঘ ঢাকে, কিন্তু আলো নেভে না। করুণা পরমসত্তার স্বভাব—যেমন জলের স্বভাব নামা, আগুনের স্বভাব ওঠা—ক্রোধ পৃষ্ঠের ঢেউ, করুণা তলদেশের স্থির জল—ঢেউ আসে ও যায়, তলদেশ চিরকাল। সত্তা, চৈতন্য ও আনন্দ—পরমসত্তার তিনটি মুখ—এবং দুঃখ? দুঃখ চতুর্থ মুখ নয়—দুঃখ মুখোশ—যা খসে পড়বে—কারণ মুখোশ চিরস্থায়ী নয়, মুখ চিরস্থায়ী।


নিদর্শন ও অলৌকিকতা—কারণ-কার্যের ঊর্ধ্বে


পাথর থেকে প্রাণ—কীভাবে? কারণ-কার্যের পাঠ্যবই বলে "অসম্ভব"। কিন্তু কারণ-কার্য নিজেই কি চূড়ান্ত সত্য, না পরমসত্তার অভ্যাসমাত্র? প্রতিদিন সূর্য পূর্বে ওঠে—আমরা বলি "নিয়ম"। কিন্তু নিয়ম কার? যিনি নিয়ম বানিয়েছেন, তিনি কি নিজের নিয়মে বন্দি? রাজা যে-আইন লেখেন, তিনি কি সেই আইনের আসামী?


অথবা, আরও গভীরে: যদি সব কিছুই পরমসত্তার প্রকাশ হয়, তাহলে "অলৌকিক" বলে কিছু নেই—কারণ শব্দটির অর্থ হয় শুধু "লৌকিক"-এর সীমানা থাকলে। বীজ থেকে বৃক্ষ হওয়া কি কম বিস্ময়কর? একটু থামো—ভাবো—একটি ক্ষুদ্র বীজের ভেতর কীভাবে একটি বিশাল বটগাছ লুকিয়ে থাকে—শত বছরের ছায়া, হাজার পাখির বাসা, লক্ষ পাতার সবুজ—সব একটি বীজে! প্রতিটি জন্ম অলৌকিক—আমরা শুধু অভ্যস্ত হয়ে গেছি বলে আর চমকাই না। যে জানে, সব কিছু একই সত্তার ক্রীড়া—তার কাছে প্রতিটি সকাল একটি অলৌকিকতা—প্রতিটি শ্বাস একটি বিস্ময়।


আরেকটি দৃষ্টিকোণ: "অলৌকিকতা" ঘটে, যখন পরমসত্তা তাঁর নিজেরই অভ্যাস ভাঙেন—যেমন একজন শিল্পী যিনি সবসময় জলরঙে আঁকেন, একদিন হঠাৎ তেলরঙে আঁকলেন—তেলরংটি "অলৌকিক" নয়, শিল্পীর ক্ষমতার নতুন প্রকাশ মাত্র। পরমসত্তা যখন কারণ-কার্যের বাইরে কিছু ঘটান—এটি তাঁর সীমাবদ্ধতা ভাঙা নয়, তাঁর স্বাধীনতার উদ্‌যাপন। এবং এই স্বাধীনতা কেবল তাঁরই—কারণ তিনিই একমাত্র, যিনি সত্যিই স্বাধীন—বাকি সবাই কোনো-না-কোনো নিয়মের অধীন—মহাকর্ষের, সময়ের, কারণ-কার্যের—কিন্তু তিনি? তিনি সমস্ত নিয়মের রচয়িতা—এবং রচয়িতা কখনও রচনার বন্দি নন।


হৃদয়ের অসীমতা—সাক্ষীচৈতন্য ও ধারণক্ষমতা


জ্ঞানীর হৃদয় করুণার চেয়েও বড়ো—এমন কথা শুনলে মাথা ঘোরে। করুণা তো পরমসত্তারই গুণ—হৃদয় কীভাবে তার চেয়ে বড়ো? এর উত্তর: হৃদয় প্রতিমুহূর্তে বদলায়। "হৃদয়" শব্দের মূলেই আছে "পরিবর্তন"—হৃদয় স্থির নয়, হৃদয় নদী—সদা প্রবহমান। করুণা একটি নির্দিষ্ট রূপ—কান্নায় সান্ত্বনা, রোগে আরোগ্য—কিন্তু হৃদয় কোনো একটি রূপে থামে না—প্রতিমুহূর্তে নতুন প্রকাশ গ্রহণ করে, পুরোনোটি ছেড়ে দেয়—যেমন আকাশ প্রতিমুহূর্তে নতুন মেঘ ধারণ করে—কিন্তু আকাশ কখনও কোনো মেঘ হয় না।


আকাশ—সাক্ষীচৈতন্যের সবচেয়ে নিখুঁত রূপক। আকাশ মেঘকে ধারণ করে—কালো মেঘ, সাদা মেঘ, সোনালি মেঘ—কিন্তু আকাশ কখনও কালো হয় না, সাদা হয় না, সোনালি হয় না—আকাশ চিরকালই আকাশ—স্বচ্ছ, অসীম, নির্লিপ্ত। রামধনু ওঠে—সাত রঙের মোহনীয় চাপ—কিন্তু আকাশ বর্ণিল হয় না—রামধনু আসে ও যায়, আকাশ যা ছিল, তা-ই থাকে।


হৃদয়ের গুহা—ক্ষুদ্র, অন্ধকার, লুকোনো—কিন্তু সেই ক্ষুদ্র গুহায় অসীম বাস করেন—যেমন একটি বীজে সমগ্র বৃক্ষ ঘুমিয়ে আছে, যেমন সদ্যোজাত শিশুর চোখে সমগ্র বিশ্বের বিস্ময় ঝিকমিক করছে। কিন্তু হৃদয়ের এই অসীমতা হৃদয়ের নিজস্ব কৃতিত্ব নয়—এটি উপহার—কৃপায় প্রদত্ত ধারণক্ষমতা। বাঁশি নিজে গান গায় না—বাঁশিবাদকের নিঃশ্বাস বাঁশির ভেতর দিয়ে গেলে সুর জন্মায়—বাঁশি শুধু ফাঁকা নল—কিন্তু সেই ফাঁকাই তার যোগ্যতা—ফাঁকা না হলে সুর ঢুকত না। হৃদয়ও তেমনই—নিজেকে খালি করতে পারলেই পরমসত্তার সুর বাজে।


হৃদয়ের গুহা—ক্ষুদ্র, অন্ধকার, লুকোনো—কিন্তু সেই ক্ষুদ্র গুহায় অসীম বাস করেন—যেমন একটি বীজে সমগ্র বৃক্ষ ঘুমিয়ে আছে, যেমন সদ্যোজাত শিশুর চোখে সমগ্র বিশ্বের বিস্ময় ঝিকমিক করছে। কিন্তু হৃদয়ের এই অসীমতা হৃদয়ের নিজস্ব কৃতিত্ব নয়—এটি উপহার—কৃপায় প্রদত্ত ধারণক্ষমতা। বাঁশি নিজে গান গায় না—বাঁশিবাদকের নিঃশ্বাস বাঁশির ভেতর দিয়ে গেলে সুর জন্মায়—বাঁশি শুধু ফাঁকা নল—কিন্তু সেই ফাঁকাই তার যোগ্যতা—ফাঁকা না হলে সুর ঢুকতো না। হৃদয়ও তেমনই—নিজেকে খালি করতে পারলেই পরমসত্তার সুর বাজে—এবং সেই খালি করাটাই সাধনা—সবচেয়ে কঠিন সাধনা—কারণ মানুষ খালি থাকতে ভয় পায়, সে সবসময় কিছু দিয়ে ভরতে চায়—চিন্তা দিয়ে, ইচ্ছে দিয়ে, পরিকল্পনা দিয়ে—খালি থাকার সাহস সবচেয়ে বিরল সাহস।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *