তোমার প্রতি আর কোনো অভিযোগ নেই, বিশ্বাস করো।
এই চারদেয়ালের মাঝেও আমি নিজের অস্তিত্বকে এমনভাবে বন্দি করে ফেলেছি—যেন কফিনে পুরে-রাখা এক নিস্তেজ জবানবন্দি।
তুমি আজ আমায় দেখতে এলে কেন, সুধীর?
আমাদের যত গাঁথা স্মৃতি, পুরোনো সুরের স্পন্দন—কেন ভুলেছিলে, জানি।
তোমার চোখ এখন অন্য কিছু বলে!
সেই তুমিটাকে ভেঙে টুকরো টুকরো করেছিলে যেদিন—আমার অস্তিত্ব পেয়েছিলে তো?
আচমকা আমার সামনে আসতে তোমাকে বারণ করেছিলাম, দিলে তো ঘুমটা ভাঙিয়ে!
আজকাল অসময়ে আমাদের দেখা হওয়ার ব্যাপারটা প্রায়ই ঘটছে।
গভীর রাতে কাক ডাকছে—তুমি কি জানো, একে অশুভ বলে? না কি এ শুধুই আলোর বিভ্রান্তি?
পূর্ণিমার শেষ আলোয় তোমার মুখটা চকচক করছে, চোখের জ্যোতি সামান্য নিভে গেছে।
দেখেছি, গত সপ্তাহজুড়ে টানা লিখেছ শুধু!—আমাকে নিয়ে লেখাগুলো এনেছ কি সাথে?
মাত্র আট ঘণ্টা ঘুম চারদিনে! এমন কেন করছ?
আচ্ছা, যাও—তোমার ছুটি। আমাকে নিয়ে আর একটা শব্দও তুমি লিখবে না, শুধু আমাকে স্পর্শ করে থাকবে।
ভয় পেয়ো না—জানি, এই ঠান্ডা শরীরটা স্পর্শ করতে তোমার কতখানি অস্বস্তি হয়।
আজ এত দীর্ঘসময় আমার বুকে হাত রাখতে তুমি একটুও ইতস্তত বোধ করছ না যে?
তুমি আমার মৃতদেহ সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলে, এখন পিছিয়ে যাবে না তো?
বেশ কিছুদিন হয়, এই একটা লেখা অনেক সময় নিয়ে পড়ছি—তুমি আমার জন্য লিখেছ, এ নতুন কিছু নয়—তবে, পার্থক্য একটা আছে।
এই চিঠিটি লেখার সময়...তোমার চোখের জল পড়েছিল—কালির দাগ ছড়িয়ে অক্ষরগুলো ঝাপসা হয়ে আছে।
পুরো লেখাটা পড়ে শেষ করতে পারিনি এখনও।
আমাদের দূরত্বটা এত বেড়েছিল কেন হঠাৎ!
আর কিছুক্ষণ আমাকে তোমার বুকে চেপে ধরে রাখতে পারলে না, সুধীর?
আমাকে কেন এভাবে যেতে দিলে?
নিস্তব্ধের স্পর্শ
লেখাটি শেয়ার করুন