আমার বিয়ে। আজকের পর থেকে আর নিয়ম করে আমাদের কথা হবে না। তুমি করেই বলি আজ?—এতদিন তো তুই করেই বলেছি। কিছু মনে করবে না তো? হয়তো ভাবছ, আমায় আবার কে বিয়ে করবে?
বলেছিলাম না...আমার একজন অন্ধ মানুষের সাথে সংসার হবে?—কোনো এক লেখাতে বলেছিলাম, আমার মনে আছে। প্রতিবারের মতোই তুমি ভেবেছিলে, ওটা শুধুই একটা গল্প।
তুমিই না বলতে—আমার লেখাই আমার মন। তবে, এই কথাটি কেন বুঝলে না? যে-মানুষটা চোখ থেকেও সব কিছু জেনে-বুঝে আমার মতো মানুষকে বিয়ে করতে চায়—তাকে অন্ধ বলব না তো আর কী বলব, বলো?
তবে, বিশাল এক ছাড়পত্র দিয়েছি—বিয়ের পরেও নিশ্চিন্তে স্বাধীনভাবে সে থাকতে পারবে, একেবারে লিখিত চুক্তি। তুমি তো জানো...আমি কতখানি ভঙ্গুর! অমন সুখে থাকার অভিনয় আমি করতে পারব না।
তোমাকে সেই প্রথম দিন যেমনটা দেখেছিলাম...
বড়ো গোছানো একজন মানুষ। কিন্তু...বড্ড এলোমেলো হয়ে আমাকে বুকের ভেতরটায় গভীর নিঃশ্বাসে টেনে নিচ্ছিলে—তোমাকে ভীষণ ভালোবেসে ফেললাম। আজ খুব মনে পড়ছে সে কথা।
ভালোই হয়েছে, আগের দিনগুলো পেছনে ফেলে এসে। এখন আর তোমার ফোনকলও আসে না।
তুমি কি আমায় ভুলে যাবে? আজ কি তোমার আমাকে ভীষণ অপরিচিত লাগছে?—বলো না কিছু, প্লিজ! তুমি কিছু বললেই, আমার চোখের জলে অভিমানগুলো ভিজে যাবে। মাঝেমধ্যেই ভাবি...এত অপারগতা থাকা সত্ত্বেও আমায় তুমি এতদিন সহ্য করলে কেন?
তোমাকে নিয়ে লেখার অধিকারটুকু জোর করেই নিজের করে নিয়েছিলাম—ভালো সময় কেটেছে...ভীষণ। তুমি তো মহাজাদুমন্ত্র জানো—না হলে কি আর আমাকেও পুরোদস্তুর লেখক বানিয়ে ফেলতে পারতে? শেষ একবার তোমার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে খুব ইচ্ছে করছে...কিন্তু, সম্ভব হবে না।
আমি ঈশ্বরের কাছে সবসময় একটা জিনিসই চেয়েছি—'তোমাকে', কিন্তু পাইনি। এমন কিছুই চাইলাম—যা আমার কখনোই ছিল না, হবেও না। এজন্য যা ঘটার, তা-ই ঘটল—সৃষ্টিকর্তা আমাকে শাস্তি দিলেন। তোমার থেকে বহু বহু দূরে যাবার পথটা আচমকাই বেছে দিলেন। আচ্ছা, তুমি কি এখন আবার আমাকে শুভেচ্ছা-টুভেচ্ছা জানাবে নাকি?—এসবের একেবারেই দরকার নেই।
তোমার জন্য কিছু উপহার পাঠিয়েছি—আগের ক্যুরিয়ারের ঠিকানায়। সম্ভব হলে, খোঁজ নিয়ো।
অন্ধের সংসার
লেখাটি শেয়ার করুন