অন্ধকার তাকে গ্রাস করে। রোগ তাকে টেনে নিয়ে যায় তলিয়ে। তার চোখ—নিভে-যাওয়া মোমবাতি। আর আমি চাই তাকে অনুসরণ করতে সেই অন্ধকারে—অন্ধকার দয়ালু বলে নয়, বরং সে যেখানে, আমার নামাজ সেখানেই বাঁধা।
প্রেমের সবচেয়ে কঠিন স্বীকারোক্তি এখানেই। বক্তা বলছেন—যে-মানুষটাকে আমি ভালোবাসি, সে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। রোগ তাকে টানছে। তার চোখের আলো নিভছে। আর আমি তাকে ছাড়তে পারছি না—শুধু ভালোবাসি বলে নয়, বরং আমার প্রার্থনা সেখানেই বাঁধা। "আমার নামাজ সেখানেই বাঁধা"—মানে আমার ইবাদত, আমার সমর্পণ, আমার আল্লাহ্র সাথে কথোপকথন—সবই এই মানুষটাকে ঘিরে। সে চলে গেলে আমার নামাজের কিবলা হারিয়ে যায়। কারণ কখনো কখনো আল্লাহ্ একজন মানুষের মুখে নিজের আলো রাখেন—আর সেই মানুষটাই হয়ে ওঠে প্রেমিকের কিবলা।
কখনো কখনো একটা ঝিলিক দেখি—সেই আলো, যা একদিন তার চোখে জ্বলত। আমি তাকে আঁকড়ে ধরি—প্রচণ্ড, মরিয়া, যেমন কেউ শেষ অঙ্গারটুকু বাতাসের হাত থেকে বাঁচায়।
মাশুক, কেন আমরা তাদের আঁকড়ে ধরি, যারা নিজেদের শরীর থেকেই বিদায় নিচ্ছে?
এর কারণ, আত্মা তার আদি বাসভূমি চেনে অন্যের ক্ষতে। যখন কাউকে কষ্টে দেখি, আমাদের ভেতরে কিছু-একটা কেঁপে ওঠে—তা সহানুভূতি, ঠিক। কিন্তু তার চেয়ে গভীরে আরেকটা কিছু আছে—আত্মা চিনে ফেলে যে, এই কষ্ট আমারও। আমিও একদিন এই পথে যাব। আমিও এই শরীর থেকে বিদায় নেবো। কী অদ্ভুত উলটোদিকের ভাবনা—সৌন্দর্যে নয়, ক্ষতে আত্মা ঘর চেনে। আত্মা যেন এই পৃথিবীর সম্পূর্ণ নাগরিক নয়; সে নির্বাসিত, সে স্মৃতিবাহী—তার ভেতরে অন্য কোথাও ফেরার স্মৃতি আছে। অন্যের ক্ষতে আমরা নিজের নশ্বরতা দেখি, নিজের ফেরার পথ দেখি—ক্ষত তাই শুধু যন্ত্রণা নয়, ক্ষত দর্শন হয়ে ওঠে। আর সেই দেখাটাই আমাদের প্রার্থনায় রূপান্তরিত হয়।
কুরআন বলে (সূরা আল-বাকারাহ ২:১৫৬): "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন"—নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহ্র, আর তাঁর কাছেই আমাদের প্রত্যাবর্তন। এই আয়াত মুসলমানেরা কারও মৃত্যুতে পড়ে। কিন্তু এর অর্থ শুধু মৃত্যুতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি ক্ষতিতে আমরা একটু একটু করে ফিরে যাই। প্রতিটি হারানো আমাদের একটু হালকা করে—যেমন আত্তারের পাখিরা প্রতিটি উপত্যকায় একটু একটু করে হারাত—পালক হারাত, নাম হারাত, শক্তি হারাত—যতক্ষণ না শুধু সারাংশটুকু বাকি থাকে। আত্তারের মানতিকুত তায়র-এ তিরিশটি পাখি সাত উপত্যকা পার করে সিমুর্গের কাছে পৌঁছায়—আর দেখে, সিমুর্গ তারা নিজেরাই। কিন্তু সেই "দেখা" সম্ভব হয়েছিল শুধু হারানোর পর। হারানো ছাড়া চেনা হতো না।
কঠ উপনিষদে (১.৩.১৪) বলা হয়েছে: "উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্নিবোধত"—ওঠো, জাগো, শ্রেষ্ঠদের কাছে গিয়ে জানো। প্রতিটি হারানো সেই জাগরণের একটি ধাপ—ঘুম ভাঙার জন্য কখনো কখনো স্বপ্ন থেকে পড়ে যেতে হয়। যে-স্বপ্নে ডুবে আছ—সম্পদের স্বপ্ন, সম্পর্কের স্বপ্ন, সুস্থতার স্বপ্ন—সেই স্বপ্ন ভেঙে গেলেই জাগরণ শুরু হয়। হারানো তাই অভিশাপ নয়—হারানো হলো ঘুম ভাঙার শব্দ।
যখন আমরা বলি, "ফিরে এসো"—কখনো কখনো আমরা তাদের বলি না। আমরা নিজেদেরই ডাকি—সেই অংশকে, যা চলে গিয়েছিল, যখন তারা চলে যেতে শুরু করেছিল।
যখন প্রিয়জন চলে যায়—মৃত্যুতে হোক, বিচ্ছেদে হোক—আমরা চিৎকার করি, "ফিরে এসো।" কিন্তু আসলে কাকে ডাকছি? তাকে? না কি নিজের সেই অংশকে, যা তার সাথে চলে গেছে? কারণ প্রিয়জন চলে গেলে আমাদের একটা অংশও চলে যায়—সেই অংশ, যা তাকে ভালোবাসত, তার সাথে হাসত, তার জন্য কাঁদত। "ফিরে এসো" তাই একটি বুমেরাং—বাইরে ছুঁড়ে দাও, সে ফিরে আসে নিজের দিকে। দুটো ডাক—একটা তাকে, একটা নিজেকে। কারণ ভালোবাসা শুধু অনুভূতি নয়—ভালোবাসা সত্তা-গঠনের ঘটনা। প্রেম আমাকে বদলে দিয়েছে, আর সেই বদলে-যাওয়া ‘আমি’-কেও আমাকে গ্রহণ করতে হবে। তাই দুটো ডাকই আসলে একই ডাক—কারণ যাকে ভালোবাসি, সে আমার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল না কখনও।
এই স্থাপত্য বৃত্তাকার। শুরুতে ধোয়া—রহমতে ধুয়ে দিতে চাওয়া। মাঝখানে গলা, ফাটা, আয়না-পরিষ্কার। শেষে ফিরে যাওয়া। ভাঙনকে সরলরেখায় পতন হিসেবে দেখা হয়নি—দেখা হয়েছে পরিশোধন, উন্মোচন, প্রত্যাবর্তন—এই ত্রিস্তরীয় গতিতে। ক্ষমা ব্যর্থ হয়, প্রেম ক্ষয়ে যায়, দেহ নেভে—তবু শূন্যতা শেষ কথা নয়। কারণ শুকনো কুয়োতেও আকাশ থাকে, ধুলোর নিচেও আয়না থাকে, ফাটা মাটিতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।
খুদি, নলখাগড়া, আগুন ও নৈঃশব্দ্য
ইকবালের খুদি ও নজরুলের নেশা
আল্লামা মুহাম্মাদ ইকবাল (১৮৭৭-১৯৩৮) "কবি-ই-মাশরিক" (প্রাচ্যের কবি) নামে পরিচিত। তাঁর আসরার-ই-খুদী (আত্মার রহস্য) ও বাল-ই-জিবরিল (জিবরাঈলের ডানা) গ্রন্থে তিনি আত্মজাগরণের এক দর্শন গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বলেন: "খুদি কো কর বুলন্দ ইতনা কি হর তাকদির সে পেহলে / খুদা বান্দে সে খুদ পুছে, বাতা তেরি রাযা কেয়া হ্যায়?"
এই শ্লোকটি প্রায়ই ভুল বোঝা হয়। অনেকে মনে করে, ইকবাল বলছেন—নিজেকে এত বড়ো করো যে, আল্লাহ্ও তোমার কাছে অনুমতি চান। কিন্তু ইকবালের "খুদি" অহং নয়—খুদি হলো আত্মসত্তার সেই খাঁটি রূপ, যা আল্লাহ্র ইচ্ছার সঙ্গে সংগতি খুঁজে পায়। নিজেকে এত সত্য করো, এত স্বচ্ছ করো, এত জাগ্রত করো যেন তোমার ইচ্ছা আর আল্লাহ্র ইচ্ছা আলাদা না থাকে। এটা দম্ভ নয়—এটা চূড়ান্ত সমন্বয়। যে-আত্মা শুধু অন্যের মধ্যে আশ্রয় খোঁজে, সে এখনও নিজের খুদির পূর্ণ মর্যাদা চেনেনি।
কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) বাংলার বিদ্রোহী কবি, তাঁর মধ্যে সুফি মাতোয়ারা আর বৈষ্ণব প্রেম একসাথে জ্বলত। তিনি গেয়েছিলেন: "খোদার প্রেমের শরাব পিয়ে বেহুঁশ হলাম আমি।" ইকবালের খুদি যদি আত্মার তলোয়ার হয়, নজরুলের নেশা সেই তলোয়ারের আগুন—যে-আগুনে পুড়ে তলোয়ার ইস্পাত হয়।
ইকবাল বলেন—জাগো। নজরুল বলেন—জ্বলো। দু-জনেই বলেন—নিজেকে চেনো। তবেই বোঝা যাবে, আশ্রয়ের গভীরতম উৎস বাইরে নয়—ভেতরেই ছিল। মানুষ তখন আর দোরে দোরে আশ্রয় ভিক্ষা করে না; সে অনুভব করে—তারই বুকে একটি গোপন কাবা ছিল, তারই শিরায় একটি অবিনাশী আজান ধ্বনিত হচ্ছিল, তারই নৈঃশব্দ্যের ভেতরে একটি গোপন মিহরাব (মসজিদের কিবলা বা সম্মুখভাগের দেয়ালের মাঝখানের অংশ, যেখানে ইমাম সাহেব নামাজ পড়ান) সবসময় জাগ্রত ছিল। সে কেবল মাটি নয়—মাটিতে নিক্ষিপ্ত নক্ষত্রধূলিও।
ইকবাল আর নজরুল—এক চাঁদের দুই কলা, একই সমুদ্রের দুই জোয়ার। ইকবাল বলেন—নিজেকে চেনো। নজরুল বলেন—নিজেকে হারাও। নিজেকে গড়ো, নিজেকে দাও। জাগো, এবং জ্বলতে শেখো।
প্রেম, প্রেমিক আর প্রেমাস্পদ: তিনটি নাম, একটি আগুন
অগণিত উন্মুক্ততার ভেতর কিছু আহ্বান ছিল, কিছু আগমন ছিল, কিছু স্পর্শ এসে থেমেছিল অন্তরের দোরগোড়ায়। তাদের সকলের ঊর্ধ্বে ছিলে তুমি; তবু তোমারও গভীরে ছিলেন সেই অন্তর্লীন সত্তা, যিনি আমার ভেতর দিয়ে প্রেমকে নিজের ভাষায় উচ্চারণ করছিলেন।
এটি প্রেমের সবচেয়ে সূক্ষ্ম স্বীকারোক্তি। আমি অনেককে ভালোবেসেছি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেছি তোমাকে। তবু সেই ভালোবাসাও পূর্ণ নয়—কারণ আমার ভেতর দিয়ে যিনি ভালোবাসছিলেন, তাঁকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। অর্থাৎ আমার প্রেম আমার নয়—আমার ভেতর দিয়ে অন্য কেউ প্রেম করছেন। আমি যন্ত্র, তিনি বাদক। আমি বাঁশি, তিনি নিশ্বাস। তিনি যেমন ডাকছেন, তেমনি ডাকার ভেতর দিয়েও তাঁকে ডাকা হচ্ছে।
জামি (১৪১৪-১৪৯২) ফারসি সুফি কাব্যের শেষ মহান কবি। তাঁর লাওয়ায়িহ (আলোকচ্ছটা)-এর ভাবজগতে এই সত্যই ধ্বনিত হয়: প্রেমিক, প্রেমাস্পদ, আর প্রেম—এই তিন পৃথক প্রদীপ নয়—একটিমাত্র আগুনের তিনটি কাঁপন। যেমন সূর্য, রশ্মি, আর উষ্ণতা—তিনটি নাম, একটি সত্য।
ইবনে আরাবির ওয়াহদাত আল-উজুদ—সত্তার একত্ব—এই কথাই বলে: যা ভালোবাসে, যাকে ভালোবাসা হয়, আর ভালোবাসা নিজে—তিনটি আলাদা নয়। একটি অনন্ত মুখ অসংখ্য আয়নায় নিজের আভা ছড়ায়। পতঙ্গ যখন শিখায় প্রবেশ করে, সে শিখাকে বাড়ায় না—সে আবিষ্কার করে, সে কখনোই শিখা থেকে আলাদা ছিল না।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্মতা আছে। সুফি জগতেই ইবনে আরাবির এই দর্শন সর্বসম্মত নয়। শায়খ আহমদ সিরহিন্দিকে (আনুমানিক ১৫৬৪-১৬২৪) বলা হতো "মুজাদ্দিদ-ই-আলফ-ই-সানি"—দ্বিতীয় সহস্রাব্দের সংস্কারক/নবায়নকারী। তিনি প্রস্তাব করেন: ওয়াহদাত আশ-শুহুদ—প্রত্যক্ষের একত্ব। এর মানে—মরমি অভিজ্ঞতায় সব কিছু এক মনে হয়, কিন্তু সত্তাগতভাবে স্রষ্টা আর সৃষ্টি ভিন্ন। অদ্বৈত-বিশিষ্টাদ্বৈতের বিতর্কের সঙ্গে এটি তুলনীয়—শঙ্কর বলেন, জীব ও ব্রহ্ম অভিন্ন; রামানুজ বলেন, ভিন্ন কিন্তু অবিচ্ছেদ্য।
কুরআন নিজেই এই ভারসাম্য ধরে রাখে—একদিকে তিনি শাহরগের (ঘাড়ের প্রধান শিরা—যা জীবনের জন্য অত্যন্ত জরুরি, একেবারে “প্রাণরেখা”-র মতো) চেয়ে নিকটে ("ওয়া নাহনু আকরাবু"—“আর আমরা অধিক নিকটতর”); অন্যদিকে সূরা আশ-শুরা (৪২:১১) বলে: "লাইসা কামিসলিহি শাইয়ুন"—তাঁর মতো কিছুই নেই। নৈকট্য আছে। অভিন্নতা নয়। দূরত্ব আছে। বিচ্ছেদ নয়। এই মধ্যবর্তী টানেই প্রেমের গূঢ়তা। তিনি এতটাই কাছে যে, শ্বাসের চেয়ে নিকট, আবার এতটাই অতুলনীয় যে, কোনো উপমাই তাঁকে ধরতে পারে না।
নলখাগড়া: ক্ষত থেকে সংগীত
তার হৃদয় বাজানো হয়…যেন এক নলখাগড়া, যাতে ছিদ্র বেশি—আর তার চোখ দিয়ে যে বিষণ্ণতা গায়, সে গায় এমন কারও গান, যাকে গড়া হয়েছিল এক সংগীতের জন্য, যা সে এখনও শুনতে শেখেনি।
এ এক রহস্যময় বাক্য। মানুষ একটি বাদ্যযন্ত্র—তাকে বানানো হয়েছে একটি নির্দিষ্ট সুরের জন্য। কিন্তু সেই সুর সে এখনও শোনেনি। সে কাঁদছে—কিন্তু জানে না, কেন কাঁদছে। সে গাইছে—কিন্তু জানে না, কার গান গাইছে। তার ভেতরে একটি সংগীত ঘুমিয়ে আছে, যা তার চেয়ে পুরোনো, তার জন্মের চেয়ে প্রাচীন।
নলখাগড়া এ কারণে কাঁদে না যে, সে ভেঙেছে—সে কাঁদে, কারণ তার শূন্য অস্থিমজ্জায় এখনও নলবনের বাতাস বাজে। সে কাঁদে, কারণ স্মৃতি কখনও শুকিয়ে যায় না—তা ভূগর্ভের জলের মতো, দৃষ্টির নিচে, অথচ সারামাটি ভিজিয়ে রাখে।
রুমির ‘মাসনাভি’-র সূচনায় এই সুরই আছে: নলখাগড়ার গানে যে-ব্যথা, তা ব্যথা নয়—তা সেই নলবনের জন্য কাতরতা, যেখান থেকে তাকে কেটে আনা হয়েছে। বাউলেরা একে বলেন ‘মনের মানুষ’-এর খোঁজ। মনের মানুষ কোনো বাইরের মানুষ নয়—বরং সেই অন্তর্যামী, সেই "সোনার মানুষ," যাকে হৃদয়ের ভেতরেই পাওয়া যায়, কিন্তু খোঁজার জন্য প্রথমে হারাতে হয়। লালন গেয়েছিলেন: "মিলন হবে কতদিনে, আমার মনের মানুষের সনে?" রুমির নলখাগড়া একই প্রশ্ন করছে ফারসিতে: কবে ফিরব সেই নলবনে?
তাই কেটে যাও, বিদীর্ণ হও। কাটা ছাড়া গান নেই। ক্ষত ছাড়া সংগীত নেই। আর যে-সংগীত ক্ষত থেকে জন্মায়—তা-ই একমাত্র সংগীত, যা আকাশ পর্যন্ত পৌঁছোয়। অবিভক্ত অবস্থায় নলখাগড়া সবুজ ছিল, কিন্তু নির্বাক; বিচ্ছেদের পরে সে রক্তাক্ত, অথচ সংগীতময়। বিচ্ছেদ তাকে নিঃশেষ করেনি—স্মরণক্ষম করেছে। তার শূন্যতা মৃত নয়; তা স্মৃতির পাত্র—তার ফাঁপা বুকের মধ্যে আদিম গৃহের গন্ধ জমা থাকে। সুর আসে ভাঙনের গুহা বেয়ে, দুঃখের ফাঁপা চোঙে ভেসে। ক্ষত তাই সবসময় ক্ষয় নয়; ক্ষত অনেক সময় অনন্তের প্রবেশদ্বার—বাঁশির দেহে ছিদ্র না থাকলে বাতাস কেবল চলে যেত, সুর উঠত না। তেমনি মানুষের অন্তরে কিছু জায়গা না ভাঙলে রহমতের হাওয়াও সংগীতে পরিণত হতে পারে না।
দোঁহা: কাটা নলে সুর জাগে, ভাঙা বুকে গান, যে কাঁদে, সে গায় ভালো—এ-ই প্রেমের সন্ধান।
শূন্যের সপ্তক: ১২
লেখাটি শেয়ার করুন