দর্শন ও মনস্তত্ত্ব

শূন্যের সপ্তক: ১৪



স্মরণ ও পুনর্মিলন: "আলাস্তু বি-রাব্বিকুম?"

আমি জানি না, তুমি কেন এত চেনা—কেন তোমার সাথে দেখা হওয়া নতুন পরিচয়ের মতো লাগে না, বরং লাগে যিকির-এর মতো—সেই স্মরণ, যার কোনো শুরু নেই, কারণ তা কখনও থামেনি।

কুরআনের সূরা আল-আ'রাফ (৭:১৭২)-এ আছে সেই আদি চুক্তির কথা: সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ্ সকল আত্মাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আলাস্তু বি-রাব্বিকুম?"—আমি কি তোমাদের রব নই? আর সকল আত্মা একসুরে বলেছিল: "বালা, শাহিদনা"—হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি। সুফিরা বলেন—প্রেমিক যখন প্রেমাস্পদকে প্রথম বার দেখে আর বুকের ভেতর কেমন একটা চমক জাগে, যেন সে আগে থেকেই চেনে—সেটা এই আদি চুক্তির স্মৃতি। সেই "বালা"—সেই "হ্যাঁ"—এখনও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে প্রতিটি মিলনে, প্রতিটি চেনার মুহূর্তে। সুফিরা একে বলেন ফিতরা—আত্মার আদি প্রকৃতি। কুরআনে (সূরা আর-রূম ৩০:৩০) বলা হয়েছে: "ফিতরাতাল্লাহিল্লাতি ফাতারান্নাসা আলাইহা"—আল্লাহ্‌র ফিতরা (আদি প্রকৃতি), যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তা হচ্ছে সেই জন্মগত স্মৃতি, যা প্রতিটি মানবশিশুর বুকে আল্লাহ্ রেখে দেন—সৃষ্টির আগেই।

‘ফিতরা’ মানে আত্মা জন্মগতভাবে আল্লাহ্‌কে চেনে, শুধু জগতের ধুলো সেই চেনাকে ঢেকে দেয়। তাই "চেনা" মানুষটিকে প্রথম বার দেখে যে-কাঁপুনি লাগে, সেটা ফিতরার কাঁপুনি—আত্মার মনে পড়ছে, সে আগে কোথায় ছিল। আর যখন সেই চেনা সম্পূর্ণ হয়, তখন হৃদয়ে নেমে আসে সাকিনা—ঐশী প্রশান্তি। কুরআনে (সূরা আল-ফাতহ ৪৮:৪) বলা হয়েছে: আল্লাহ্ মুমিনদের হৃদয়ে সাকিনা নাযিল করলেন যাতে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়। সাকিনা হলো সেই মুহূর্ত, যখন ঝড় থামে, যখন নলখাগড়া বাতাস ছাড়াই নিজে থেকে গায়, যখন কোনো কারণ ছাড়াই হৃদয় শান্ত হয়ে যায়—কারণ শান্তি বাইরে থেকে আসেনি, ভেতর থেকে স্মরণ হয়েছে।

প্রতিটি হাসি, প্রতিটি নরম স্বর আমাকে আরও কাছে টেনে নিয়ে যায় সেই অদ্ভুত বিশ্বাসের দিকে যে, তোমাকে আমি এই জীবনের আগেই চিনেছি, আগেই ভালোবেসেছি; যেন অন্য কোনো সময়ে, অন্য কোনো আকাশের নিচে, অন্য কোনো নক্ষত্রের ধুলোর মধ্যে আমি একবার তোমার ফিসফিসের দিকে ঝুঁকেছিলাম, হারিয়েছিলাম, আর আবার নিজেকেই খুঁজে পেয়েছিলাম তোমার হাতের উষ্ণ আশ্রয়ে।

আমির খুসরো (১২৫৩-১৩২৫) দিল্লির সেই কবি, যিনি নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মুরিদ ছিলেন, যিনি হিন্দাভি (প্রাচীন হিন্দি-ফারসি মিশ্র ভাষা) কাব্যের জনক। তিনি গেয়েছিলেন: "ছাপ তিলক সব ছীনি রে মোসে নয়না মিলাইকে—মোহে সুহাগন কিনি রে মোসে নয়না মিলাইকে।"—তুমি আমার সব চিহ্ন মুছে দিয়েছ কেবল আমার দিকে তাকিয়ে। আর বেদান্তের ভাষায়, চিহ্ন মুছে যাওয়া মানে উপাধি খসে পড়া, নাম-রূপের আবরণ সরে যাওয়া, সেই নিরাকার সত্তার উন্মোচন, যা চিরকাল ছিল, কিন্তু নামের আড়ালে দেখা যাচ্ছিল না।

আরেক ভাবে বলা যায়: আমি তুমি হইনি। আমি শুধু ভান করা ছেড়েছি যে, আমি অন্য কেউ ছিলাম। বাউল গানে বলা হয়: "এসব দেখি কানার হাটবাজার—সোনার মানুষ খুঁজি কই, কে দেখায় আমায় তার?"—অন্ধের বাজারে সবাই খুঁজছে, কিন্তু খুঁজে পায় না, কারণ সোনার মানুষ বাইরে নয়, ভেতরে। আর ভেতরে তাকাতে হলে বাইরে থেকে চোখ ফেরাতে হয়। আর চোখ ফেরানোটাই সবচেয়ে কঠিন তপস্যা।

বসন্ত এল, হৃদয় সবুজ পোশাক পরল। গ্রীষ্ম আমাদের কথাগুলো পাকিয়ে দিল, যেমন পাকা ফল নিজের ভারে ঝরে, কারণ পরিপক্বতা মানেই আত্মসমর্পণ। শরতে আমি পড়তে শুরু করলাম—কিন্তু নিচের দিকে নয়, ভেতরের দিকে। গীতায় (২.১৪) কৃষ্ণ বলেন: "মাত্রাস্পর্শাস্তু কৌন্তেয় শীতোষ্ণসুখদুঃখদাঃ / আগমাপায়িনোঽনিত্যাস্তাংস্তিতিক্ষস্ব ভারত"—হে কৌন্তেয়, ইন্দ্রিয়ের সংস্পর্শে শীত-উষ্ণ, সুখ-দুঃখ আসে; এগুলো ক্ষণস্থায়ী, আসে আর যায়—এদের সহ্য করো। ঋতু বদলায়—বসন্তের সবুজ ঝরে, গ্রীষ্মের ফল পচে, শরতের পাতা মাটি হয়, শীতের শুভ্রতা গলে—কিন্তু যে-গাছ এই সব ঋতু সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকে, সে-ই জানে: আমি ঋতু নই, আমি সেই কাণ্ড, যা ঋতুকে ধারণ করে। প্রেমিকও তা-ই—সুখ আর দুঃখ তার ঋতু, কিন্তু সে নিজে ঋতুর অতীত।

গীতায় (১৪.২২-২৫) কৃষ্ণ গুণাতীত-এর স্বরূপ বর্ণনা করেন—সেই মানুষ, যে তিনটি গুণের (সত্ত্ব—আলো ও জ্ঞান; রজঃ—কর্ম ও আসক্তি; তমঃ—আলস্য ও মোহ) অতীত: "সমদুঃখসুখঃ স্বস্থঃ সমলোষ্টাশ্মকাঞ্চনঃ"—যে সুখ-দুঃখে সম, মাটির ঢেলা আর সোনায় সম, নিজের মধ্যে স্থিত, সে-ই গুণাতীত, সে-ই ত্রিগুণের খেলা দেখে, কিন্তু খেলায় জড়ায় না—যেমন আকাশ মেঘ ধারণ করে, কিন্তু মেঘে ভেজে না। সুফিরা একে বলেন ফানা-ফিল্লাহ-র পরের অবস্থা—বাকা-বিল্লাহ—যেখানে মানুষ জগতে থেকেও জগতের নয়, ঋতু বদলায় তার চারপাশে, কিন্তু সে ঋতুর সাক্ষী, ঋতুর অংশ নয়।

তারপর শীত এল—সেই শ্বেতবসনা দরবেশ; আর জগৎকে আত্মসমর্পণে জড়িয়ে দিল। শীত হলো প্রকৃতির ফানা—গাছ তার পাতা হারায়, মাটি তার রং হারায়, আকাশ তার নীল হারায়—আর এই হারানোর ভেতরেই লুকিয়ে থাকে বসন্তের প্রতিশ্রুতি। কুরআন বলে (সূরা আশ-শারহ ৯৪:৬): "ইন্না মাআল উসরি ইউসরা"—নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে। সাথেই—পরে নয়, সাথেই।

তোমাকে শুভরাত্রি জানিয়ে চুমু খাওয়া যেন এমন এক অলৌকিকতার প্রান্ত ছুঁয়ে থাকা, যাকে আলাদা করে বিশ্বাস করারও দরকার পড়ে না, কারণ তা নিজের সত্যতায় নিজেই ঘটে যায়।

তুমি ছিলে তোমার নিজস্ব সত্তায়, আমি ছিলাম আমার—তবু সময়, পরিচয়, আলাদা হওয়া এসব বোঝার আগের কোনো স্তরে আমরা যেন আগে থেকেই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমি তোমার ছিলাম নিজের নাম, নিজের পরিচয় জানারও আগে। আর তুমি ছিলে আমার চিরকাল—এমনকি তখনও, যখন তুমি ছিলে বিস্তীর্ণ আকাশ, আর আমি ছিলাম এক দিশেহারা পাখি, যে উড়ে বেড়াচ্ছে, ডাকছে, অথচ এখনও বোঝেনি যে, আকাশ শুধু তার চলার পথ নয়, বরং সেই অসীম আশ্রয়, যার ভেতরেই তার সমস্ত উড়ান ঘটে।

দৃষ্টির জগতে আমরা দু-জন, কিন্তু প্রেমের আগুনে আমরা এক।

গীতায় (৬.২৯) কৃষ্ণ বলেন: "সর্বভূতস্থমাত্মানং সর্বভূতানি চাত্মনি / ঈক্ষতে যোগযুক্তাত্মা সর্বত্র সমদর্শনঃ"—যে যোগে স্থিত, সে সকল প্রাণীতে আত্মাকে দেখে, আর আত্মায় সকল প্রাণীকে দেখে—সর্বত্র তার সমদৃষ্টি। এই শ্লোকে কৃষ্ণ যে-দৃষ্টির কথা বলছেন, তা সাধারণ চোখের দৃষ্টি নয়—এ হলো হৃদয়ের দৃষ্টি, যেখানে ভিক্ষুকের মধ্যে আর সম্রাটের মধ্যে একই আলো দেখা যায়, কুকুরের মধ্যে আর ব্রাহ্মণের মধ্যে একই চৈতন্য অনুভব করা যায়। শঙ্কর তাঁর ভাষ্যে বলেছেন, এই সমদর্শন মানে ব্রহ্ম থেকে শুরু করে স্থাবর পর্যন্ত সকলের মধ্যে আত্মা ও ব্রহ্মের অভিন্নতার জ্ঞান।

সুফি জগতে ইবনে আরাবির ওয়াহদাত আল-উজুদ ঠিক এই কথাই বলে ভিন্ন ভাষায়—সত্তা একটিই, বহুরূপে সে নিজেকে প্রকাশ করছে। যোগী আর আরিফ—দু-জনেই সেই একই দর্শনে পৌঁছান, যেখানে "অন্য" বলে কেউ নেই, আছে কেবল সেই একজন, যিনি কোটি মুখে নিজেকে চিনছেন। গীতায় (৭.১৯) কৃষ্ণ বলেন: "বাসুদেবঃ সর্বমিতি স মহাত্মা সুদুর্লভঃ"—বাসুদেবই (কৃষ্ণই) সব কিছু—এই জ্ঞানসম্পন্ন মহাত্মা অত্যন্ত দুর্লভ। ‘বাসুদেবঃ সর্বম্’—এই উচ্চারণ মরমি পাঠকের কাছে তাওহিদ ও অদ্বৈত-অনুভবের একটি গভীর অনুরণন জাগাতে পারে; যদিও দুই ঐতিহ্যের ভাষা, ধর্মতত্ত্ব ও পরিভাষা স্বতন্ত্র। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন "সুদুর্লভঃ"—এমন মানুষ অত্যন্ত দুর্লভ। কেন দুর্লভ? কারণ সব কিছুতে ঈশ্বরকে দেখতে হলে প্রথমে নিজের ভেতরের সমস্ত বিচার-বিভেদ মুছে ফেলতে হয়—আর সেটাই সবচেয়ে কঠিন সাধনা। সুন্দরে ঈশ্বর দেখা সহজ, কুৎসিতে কঠিন; বন্ধুতে সহজ, শত্রুতে কঠিন; জীবনে সহজ, মৃত্যুতে কঠিন—কিন্তু "সর্বম্" মানে সব—ব্যতিক্রম ছাড়া, শর্ত ছাড়া, বাছবিচার ছাড়া।

ইবনে আরাবির ফুসুসুল হিকাম-এ একের মধ্যে বহুর আর বহুতে একের রহস্য বারবার উন্মোচিত হয়। অদ্বৈত-পরম্পরায় সুপরিচিত সূত্র: "ব্রহ্ম সত্যম্, জগন্ মিথ্যা, জীবো ব্রহ্মৈব নাপরঃ"—সহজ অর্থ: একমাত্র পরম সত্তা অবিনশ্বর; নাম-রূপের জগৎ পরিবর্তনশীল; আর জীবের গভীরতম সত্তা সেই পরম সত্য থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। দুটো ভাষা, দুটো ঐতিহ্য, একটি উপলব্ধি। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস (১৮৩৬-১৮৮৬) দক্ষিণেশ্বরের সেই মরমি সাধক, যিনি হিন্দু, ইসলাম, খ্রিষ্টান—প্রতিটি পথে সাধনা করে একই সত্যে পৌঁছেছিলেন। তিনি বলতেন: "যত মত, তত পথ"—যতগুলো মত, ততগুলো পথ—সব পথই সেই একের দিকে যায়। তিনি কখনো কালীর ভক্ত, কখনো রামের ভক্ত, কখনো ইসলামি রীতিতে নামাজ পড়েছেন, কখনো খ্রিষ্টের ধ্যান করেছেন—আর প্রতি বার পৌঁছেছেন একই জায়গায়। তাঁর শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ (১৮৬৩-১৯০২) ১৮৯৩ সালে শিকাগোতে বিশ্বধর্মমহাসভায় দাঁড়িয়ে এই সত্যই উচ্চারণ করেছিলেন—যেমন বিভিন্ন নদী বিভিন্ন পাহাড় থেকে নেমে একই সমুদ্রে মেশে, তেমনি বিভিন্ন ধর্মের পথ বিভিন্ন, কিন্তু গন্তব্য এক। প্রেম শুরু হয় দুটো আয়না মুখোমুখি রেখে। শেষ হয় যেখানে কোনো প্রতিবিম্ব থাকে না—কেবল আলো, নিজের প্রাচুর্যে বিস্মিত।

পৃথিবীর উলটো ঘূর্ণন: আত্তারের পাখিদের উপত্যকা

একবার স্বপ্ন দেখলাম, পৃথিবী উলটো ঘুরছে। আমরা উপরে উঠলাম—হাতে হাত, চোখে সেই আতঙ্ক আর বিস্ময়, যা তাদের হয়, যাদের ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে তাদের আদিতে। দেখলাম, আমাদের মুখ তরুণ হচ্ছে, নামগুলো ঝরে পড়ছে।

তারপর আমরা এমন এক জায়গায় পৌঁছলাম—ভাষার আগে, স্মৃতির আগে, "আমি" আর "তুমি"-র আগে—সেই "আলাস্তু"-র মুহূর্তে, যেখানে সকল আত্মা একসাথে "বালা" বলেছিল, আর আমি ধরে ছিলাম এমন এক অচেনার হাত, যে মোটেও অচেনা ছিল না।

আমি ছাড়িনি। তুমিও ছাড়োনি।

আর এটাই সেই গোপন কথা, যা আত্তার পুঁতে রেখেছিলেন তাঁর মানতিকুত-তায়ের-এর কেন্দ্রে: তিরিশটি পাখি—সি-মুর্গ—যারা সাতটি উপত্যকা পার হয়ে সিমুর্গের খোঁজে গিয়েছিল, তারা শেষে পেল কেবল একটি আয়না। আর আয়নায়—একে অপরকে। আর একে অপরের মধ্যে—সেই একজনকে। সি-মুর্গ—ত্রিশ পাখি। তারা যাকে খুঁজছিল, তারা নিজেরাই ছিল সেটা। ইবনে আরাবি এই সত্যকে তাঁর দর্শনে এক অনন্য নাম দিয়েছিলেন: ইনসানুল কামিল—পরিপূর্ণ মানুষ। সেই মানুষ, যে আল্লাহ্‌র সমস্ত গুণের আয়না—যেমন সমুদ্র তার সমস্ত গুণ নিয়ে একটি ফোঁটায় ধরা দেয়, তেমনি ঈশ্বরের সমগ্রতা একটি পূর্ণ মানবাত্মায় প্রতিফলিত হয়।

ইনসানুল কামিল বাইরে থেকে সাধারণ—সে খায়, ঘুমায়, হাসে, কাঁদে, কিন্তু ভেতরে সে সেই আয়না, যেখানে আল্লাহ্ নিজের মুখ দেখেন। আত্তারের তিরিশ পাখি সেই আয়নায় নিজেদের দেখেছিল, আর নিজেদের মধ্যে দেখেছিল সিমুর্গকে। কুরআনে (সূরা আল-বাকারাহ ২:৩৪) আল্লাহ্ ফেরেশতাদের বললেন: "উসজুদু লি-আদাম"—আদমকে সিজদা করো। ফেরেশতারা সিজদা করলেন, কারণ আদমের মধ্যে আল্লাহ্ এমন কিছু রেখেছিলেন, যা ফেরেশতাদের মধ্যে নেই।

সেটা হলো খিলাফা বা প্রতিনিধিত্ব—আল্লাহ্‌র সমস্ত গুণের আয়না হওয়ার ক্ষমতা। ইনসানুল কামিল সেই আয়না, সেই আদম, যাকে ফেরেশতারা সিজদা করেছিলেন। কুরআনে (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৭২) আরেকটি চমকপ্রদ আয়াত আছে: "ইন্না আরাদনাল আমানাতা আলাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়াল জিবালি ফা-আবাইনা আন ইয়াহমিলনাহা ওয়া আশফাকনা মিনহা ওয়া হামালাহাল ইনসান"—আমরা আসমান, জমিন ও পাহাড়ের কাছে আমানত পেশ করলাম, তারা বহন করতে অস্বীকার করল ও ভীত হলো, কিন্তু মানুষ তা বহন করল।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *