দর্শন ও মনস্তত্ত্ব

শরীর, আত্মা ও বিভ্রান্তি




তোমার স্পর্শকে অসামান্য স্মৃতির অংশ হিসেবে বেছে নিতে চেয়েছিল এ শরীর। পুরো শরীরটাই যেন এক অজানা অনুভূতির রসায়ন সৃষ্টি করে চলেছে ক্রমাগত, নিরলসভাবে। মানুষ এ সহজাত প্রবৃত্তির ঊর্ধ্বে নয় বলেই, এক বিশেষ ক্ষণ... কেবলই—শরীরী স্পর্শের উন্মত্ততায় অন্ধ হয়ে থাকে। তুমিও এর ব্যতিক্রম নও—একজন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে এই অন্তরঙ্গতা নিঃসন্দেহে সাবলীল এক প্রতিক্রিয়া।

বিবর্তনের এই পরিসীমাকে কাজে লাগিয়ে… পরস্পর… ‘সম্পর্ক’ নামক এক দৃঢ় বন্ধনকে স্বাগত জানিয়েছিল ঠিকই; তবে, তার স্থায়িত্ব কতখানি দীর্ঘ হলো?

আমি আত্মিক স্পর্শ বুঝতে অক্ষম—এতে আত্মতৃপ্তির কী আছে? আমি আত্মা চিনি না, আমি কেবল শরীর চিনেছি। উৎকণ্ঠিত সম্মতিতে আমি শরীরটাই স্পর্শ করি ভীষণ স্পষ্টভাবে। এতে কী হয় আমি জানি না! সত্যিই জানতে ইচ্ছে করে না। নিরাবেগ চাহনিতে আমি মিশে যাই মাংসপিণ্ডের আস্তরণে।

ক্রমশ… ক্ষণিকের উত্তেজনা কাটিয়ে, এক নীরস সুখ অনুভব করতে সক্ষম হয় আমার সমস্ত ইন্দ্রিয়। আমি কি ভয়ংকর রকমের এক আসক্তিতে ভুগছি? হতে পারে… আমি তোমার সাথে এক অলিখিত চুক্তিতে আবদ্ধ হতে চেয়েছি! তুমি আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে চাইছ? দেখো, আমি ফেরেশতা নই।

তোমার এই অক্ষম ভাবমূর্তি আমাকে প্রতিমুহূর্তে নিরাশ করে চলেছে। আমি তোমার কাছ থেকে মুক্তি চাই… তবুও, আমি তোমার সমগ্র সত্তাজুড়ে এক আলোকিত পথ দেখেছি। এর সবটাই কি বিভ্রান্তি? তুমি আমাকে প্রতিবার মিথ্যে বলে আমার কাছে এসেছ। তোমার কোনো ক্ষমতাই নেই আমাকে অধিকার করবার।

তুমি এক অদ্ভুত নিয়মে বাঁধা—যাকে ভোগ বা দখল করা যায় না। এমন তো শুধু নিয়তিই হয়! তুমি আমার ভীষণ কাছে আসবে বলেছিলে—আমি যে এখনও সেই অলীক অভিব্যক্তি নিয়েই বেঁচে আছি।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *