কথোপকথন

রয়ে গেলে মেঘ হয়ে



: কখনো ভালোবাসার মানুষটার স্পর্শ উপেক্ষা করেছেন? কিংবা তার অনুভূতি—যা আপনার বোঝার ক্ষমতার বাইরে!

গভীরভাবে ভালোবাসলে, তার কণ্ঠস্বরের নিদারুণ তীব্রতা উপেক্ষা করতে আপনি কখনোই পারবেন না—ওতে হবে আপনার সহস্র অনুমানের তৎক্ষণাৎ পরিসমাপ্তি।

: এমন করেও বুঝি ভালোবাসা সম্ভব?

: না, ঠিক তা নয়। ভালোবাসা এমন করেই হয়, আর ঠিক এভাবেই সম্ভব! আপনার শুদ্ধতম অনুভূতি যে কেবলই আপনার ভালোবাসার মানুষের অনুভবে পূর্ণতা খোঁজে।

: কিন্তু কীভাবে বোঝাপড়া করবেন নিজের সাথে, যদি তাকে কখনও আপনার দৃষ্টি-সীমানায় রাখা সম্ভব না হয়? সে কি এমনি করেই হারিয়ে যাবে?

: হা হা… কে বলেছে তাকে হারিয়েছ? তাকে যে শুধু প্রচণ্ডভাবে ভালোবেসেছ! আজ বুঝি তার জন্মদিন? তবে, লুকিয়ে রেখেছ কেন নিজেকে?

: কই? লিখেছিলাম তো— "শুভ জন্মদিন, ভালোবাসি..."

(আমার মৃতপ্রায় অন্তিমের উপস্থ লেখাটি তাকে পাঠিয়েছি। তাকে বলতে ইচ্ছে করেনি, আজ শেষবার তাকে জড়িয়ে রাখতে চেয়েছিলাম। নিশ্চয়ই, সে তার মতো করে খুব ভালো আছে! নিজের আক্ষেপের কথা তাকে আর জানাতে চাই না!)

: এত মনোযোগ দিয়ে কী শুনছ?

: তার দীর্ঘশ্বাস? কথা বলেছে তোমার সাথে?

: না।

(আপনি আপনার বন্ধুর কাছে যতটা অকপটে নিজের সব কিছু বলতে পারেন, সবার কাছে তা পারেন না!)

: তোমার সাথে কথা বলে কি তবে সে স্বস্তি পায়নি?

: আশ্চর্যের বিষয়! আমার সাথে তার কখনও তার ভেতরের মানুষটাকে নিয়ে কথাই হয়নি! সে যে পুরোটা সময় আমাকে শুধু খুব আদুরে একটা পিচ্চি মেয়ে ভেবেছে। তার অনুভব বোঝার গুরুদায়িত্ব কখনও আমার সীমানায় পড়েনি!

(সেদিনের সেই ফোনালাপ শুনে, শুধু বুঝেছিলাম, তুমি ভালো নেই। কিছু ভালো লাগছে না তোমার! পালিয়ে যেতে যে কখনও চাওনি, তাই কি আবেগ তোমার বাইরের খোলসটাকে ছুঁতে পারেনি?)
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *