Bengali Poetry (Translated)

তিথির অতিথি

এসেই যখন পড়েছিলে তিথির অতিথি হয়ে,
আর কটা দিন তখন নাহয় থেকেই যেতে!
আতিথেয়তায় কমতি ছিল কি কণামাত্রও?


ঘর পুড়ে যাবে, সে ভয়ে ঘরই ছেড়ে ঠায় পালাবে!
---কথা তো এমন ছিল না কখনও!


ডাক তবে পেয়েছিলে বুঝি চারুলতার?
সে তো হয়ে রয়েছে নেহায়েতই এক চোখের বালি!
বোঝোনি বুঝি?


তা, পালিয়ে গিয়ে লাভটা বেশি হয়েছিল কী, শুনি?
তারচে বরং, প্রাক্তন সেই বিবাদে আবার না জড়িয়ে
মনের আঁধারের সাথেই বিবাদে জড়াতে যদি,
তবেই বোধহয় কাজটা হতো...কিছুটা হলেও বুদ্ধিমানের!


যে দিন চলেই গেছে অলখে নিছক,
সে দিনের অনুশোচনা করে আর কী-ইবা হবে!


তুমি পাহাড়ে এলে ক্যামেলিয়ার খোঁজে। ভালো!
এসে যদি পাহাড়কন্যাকেই তুচ্ছ ভাবো,
ক্যামেলিয়া কি আর মিলবে তবে?
না কি অমন করলে নাটকের নাট্যকারটা এবার হয়েই যাবে,
আর সেই কন্যার মন ভিজবে?


সবই তো দেখলাম, মনে হলো তাই,
ওবেলা তুমি শূন্যহাতেই ফিরে এলে!


লাভটা তখন হয়েছিল কি খুবই বেশি?
কপালকুণ্ডলার আহ্বায়কটা না হয়ে যদি
শকুন্তলায় মনটা তোমার সঁপেই দিতে,
বোধ করি তবে, জীবনে পেয়েছ তুমি কিছু-না-কিছু,
---এটুক ভেবেই বুকটা তোমারও উঠত ফুলে!


তুমিই বলো, স্টেশনের মাস্টার কি আর
বুঝেছে কখনও, প্ল্যাটফর্মটা ছেড়ে যেতে কষ্ট কী হয়!
বোঝেনি বলেই তো গন্ডগোলটা আজ বেধেছে!


এত হিসেব নিকেশ না করতে যদি,
যদি হিসেবের খাতায় শূন্য একটা বসিয়েই দিতে সাহস করে,
আতিথেয়তায় সহজ হয়ে কাটাতে যদি দিনগুলিকে,
তবে ঘরের মানুষ---সে যদি না-ও হতে,
তবু বেশ থাকতে ভালোই...তিথির চিরঅতিথি হয়ে!ন
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *