বাংলা কবিতা

পরোয়া ঝাড়তে গিয়ে

 একাকিত্ব কখনও কখনও কুকুরের বিশ্বস্ততার চাইতেও বিষণ্ণ।
ভুল সুরের একটি গান, যা কেবলই নির্ভার গ্লানিকে ডাকে, কিংবা
টবের সেই ফুলটি, যেটি পানির অভাবে জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকশো প্রহর---
একাকিত্বের খোঁজ রাখে না অতো।


যদিও একটানা ভারি বৃষ্টিতে কাচের পেছনের বাগানটি অনেক দিন ধরেই ভেজা ছিল,
তবু আমি নিজেকে ধীরেধীরে মেলে ধরি সাবধানী অনিশ্চয়তার সাথে, আর অমনিই বিশ্রী এক
পরোয়া ঝেড়ে ফেলি। এখনও ভুল করে ভাবতে বসি, আমি যখন আমার কুটির থেকে
আমার নিরুপায় মাথাটি আবারও সরিয়ে ফেলব, তখন কী-ইবা এমন ক্ষতি হবে, হয়ও যদি
নতুন আঘাতটি পুরনো আঘাতের উপরেই এসে লাগবে কি না!


আমি ওদের চোখের দিকে তাকিয়ে নিজেকে বেশ সুরক্ষিত বোধ করি।
ওদের মতোই আশার পথে হাঁটতে আমিও চাই, তবে আমার বিশ্বাসের বড্ড অভাব,
আমার মধ্যে এখনও অনেক দুঃসহ স্মৃতি ভর করে আছে, তাই বোধহয়
আমার ভেতরটা অহংকার ও উদ্বেগের সাথে অবিরত কাঁপে।


একটু আড়ালে, আমার নিজের জন্য কয়েকটি স্বপ্ন এবং পরিকল্পনা রেখেছি, তবে
সেগুলি কোথায় গিয়ে শেষ হবে, কিংবা আদৌ শেষ হবে কি না,
তা নিয়ে আমি প্রথম দিনের মতোই সন্দিহান।
আমি আমার অনুভূতি এবং আবেগকে দূরে ফেলে দিচ্ছি সময়োচিত বিচক্ষণতার সাথে,
কেননা এটি নিশ্চিত, কিছু ট্রমার মধ্য দিয়ে যাওয়ার চাইতে বরং
অথর্ব হয়ে বসে থাকা বা একাকিত্বের দিকে ফিরে যাওয়াও অনেক শান্তির।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *