নীরব রাগিণী



আমার কাছে তোমার তেমন কোনো দায়বদ্ধতা নেই, এমন অপ্রাপ্তির দেয়ালে ফিরে আসার দায় থাকে না কারুরই।

তোমার স্বাক্ষরে জরাজীর্ণ অনুভূতির চাষ, আর আমার অক্ষরে তোমার সুস্পষ্ট বসবাস। এই নীল কালিতে লেখা অক্ষরগুলো আমার কাছে ভীষণ দামি, এগুলো সৃষ্টি করতে আমাকে ধারণ করতে হয়েছে অব্যক্ত বিভীষিকার নামান্তর—প্রস্থান।

এ অক্ষরগুলো কেবল শুভ্র পাখি হয়ে যায়—যখন করি উৎসর্গ তা তোমার নামে।

বাতাসে বাঁশির সুর হারালেও এ প্রলয়ে বাঁধি তোমায় বারে বারে, আমি ক্ষয়ে গেলে তুমি এই নীল কালিতে লেখা অক্ষরগুলো স্পর্শ করে সমাপ্ত করবে তো, নীড়? আমায় কথা দাও?

তুমি কখনো খুঁজবে তো আমার স্মৃতিকে? যে-সৃষ্টি কেবল আবদ্ধ তোমাতেই, সমাপ্তির এমন বিবৃতি কি গ্রাহ্যতা পাবে?

আমার যদি ভীষণ অসুখ করে, তোমায় ছুঁয়ে থাকার অবিশ্রান্ত স্রোতে টিকিয়ে রাখতে না পারি নিজেকে, তবে ভেবো না, আমাকে তুমি পাবে সেই ক্ষণে—যেখানে স্বার্থের সাথে হয় না দেখা অগোচরে।

যে-রঙে পৃথিবী রঙিন, তা-ও যে আমার জন্য নিষিদ্ধ! দেখি—দুঃখ ছুঁয়ে, প্রণয়জুড়ে, তোমাকে ছুঁয়ে। যে-দিন অনুভূতিগুলো ঝরেছিল আমার চোখে রক্ত হয়ে, তা একান্তে তোমার কাছেই দৃশ্যমান— তবু আশ্চর্যজনকভাবে তুমি একবিন্দুও উপহাস করলে না। এই মুহূর্তটাই যথেষ্ট ছিল তোমার বুকপকেটে আমার যন্ত্রণার একটুকরো সাক্ষ্য রেখে আসার।

তুমি নীরবতার সুর বোঝো, নীড়। তুমি ভালোবাসার অভ্যর্থনায় নিজেকে সমর্পণ করতে জানো, তুমি দুঃখের রাগিণীতে আসক্ত হতে জানো। আসন্ন লগ্নে তোমার হৃদয়ের খুব কাছে এসে শ্বাসরুদ্ধ বুকের ভেতরটা, লক্ষ করে দেখলাম! তুমি যেন এক নির্মমভাবে দগ্ধীভূত ফিনিক্স পাখি।
Content Protection by DMCA.com