লেখালেখির অভ্যেসটা আমার কখনোই ছিল না। অনুভূতির অনুরণন যে এতটা সজোরে বুকের পাঁজরে আঘাত করতে পারে—এ যেন এক গভীর অনুধাবন। সবটাই অবশ্য তোমার সংস্পর্শে আয়ত্ত করেছি।
সর্বক্ষণ যত রাজ্যের খামখেয়ালি ভাবনায় ডুবে থাকি, যেন আমি প্রায় সবসময়ই তোমার প্রেমে মগ্ন। প্রেম যতই তীব্র অনুভূতিরই জন্ম দিক না কেন, বিরহকে আমি নিয়ম করে স্পর্শ করি। আর ভালোবাসা? সেটাকে আমি আমার অন্তরে লালন করি, তোমাকে আবৃত করে রাখি হৃদয়ের সর্বত্র।
তোমার শরীর ছুঁয়ে থাকার অভ্যেস আমার কখনোই হয়ে ওঠেনি, কেবল তোমার নিঃশ্বাসে গভীরভাবে বাস করার আকাঙ্ক্ষায় আসক্ত আমি। সাধারণত কোনো স্পর্শ আমার শরীরে অনুভূতি তৈরি করে না, কিন্তু যখন তোমার ঠোঁট ছুঁয়ে তুমি বলো ‘ভালোবাসি’, কিংবা নীরবে থাকো—সেই মুহূর্তে তোমার গভীর ক্ষতের চিহ্ন রেখে যাও আমার মাঝে। তখন আমার বুকের ভেতরটা তোমাকে স্পর্শ করতে চাওয়ার স্পৃহায় কাতর হয়ে ওঠে।
তোমার আবেগের ভার যদি নিতে না পারি, তোমার হৃদয়ের ক্ষতগুলো সারিয়ে তোলার চেষ্টা যদি না করি, তোমার গভীর সুখের সাক্ষী যদি হতে না পারি, তবে তোমাকে ‘ভালো থেকো’ বলে চলে যাবার দুঃসাহস আমি কীভাবে দেখাই? ‘ভালো থেকো’ বলে চলে যায় কেবল মেরুদণ্ডহীনেরা। আমি সে দলের মানুষ নই। এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গিয়েছ, তোমার ভালো থাকার দায় শুধু তোমার নয়—আমারও। আমি কেবল তোমার ছায়া হতে পারি, কারণ তুমিই তো বলো—আমি তোমার একমাত্র ভাবনাসঙ্গী। আমি তোমার পলাতকা হতে চাই না। হ্যাঁ, তুমি ঠিকই ভাবছ—আমি কেবল তোমারই হতে চাই।
‘ভালো থেকো’—এই কথাটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। দু-জন মানুষ একই কথা বললেও, তাদের অন্তর্নিহিত অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। কেউ সম্পর্ক ছিন্ন করার তাড়নায় বিদায়ের আগে বলে, ‘ভালো থেকো’, আবার কেউ সম্পর্ক আগলে রাখতে শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে একই কথার আড়ালে একবুক প্রতীক্ষা আর শুভকামনা রেখে যায়। সম্ভবত পৃথিবীর সব বিচ্ছেদই এই বহুল প্রচলিত বাক্যটির মধ্য দিয়েই ঘটে।
আচ্ছা, বলো তো, জীবন কি এতে থমকে থাকে? তুমি সম্পর্কের দোলাচলে নিজেকে হারাতে পারো, প্রেমে মত্ত থাকতে পারো, কিন্তু ভালোবাসায় যে নিজেকে উৎসর্গ করতে হয়—এই সত্য উপলব্ধি করতে আত্মত্যাগ জরুরি।
নতুনকে যে এতটা গভীরভাবে গ্রহণ করা যায়—তোমার মতো অটুট মনোভাবসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে না এলে তা বুঝতেই পারতাম না। তুমি আমার গুরু, আমার বন্ধু, আমার ভাবনাসঙ্গী, আর একমাত্র ভালোবাসা।