“বোম্বাট” শব্দটি বাংলার লোকতান্ত্রিক পরিসরে যেমন ব্যবহৃত, তেমনি এর আদি সুর পাওয়া যায় প্রাচীন তান্ত্রিক মন্ত্রধ্বনিতে। “বোম্” ধ্বনি তন্ত্রে বিন্দু-নাদ-অবিভক্ত চেতনার প্রতীক—যেখান থেকে শব্দ ও ধ্বনি উৎপন্ন হয়। “ভাট” বা “ভাটি” মানে প্রবল স্রোত বা প্রবাহ। ফলে “বোম্ভাট” মানে চেতনার এমন এক অবিভক্ত বিস্ফোরণ, যেখানে ব্রহ্মচেতনা নিজেই নিজের মধ্যে উল্লাসে প্লাবিত হয়ে ওঠে। বোম্বাট কালী সেই উল্লাসেরই জীবন্ত প্রতীক—তিনি মহামায়ার পরম রূপ, যিনি একই সঙ্গে সৃষ্টি ও লয়, প্রেম ও ভয়, মৃত্যু ও অমৃত।
“বোম্” ধ্বনি তন্ত্রে এক গভীর প্রতীক, যা চেতনার আদ্যাবস্থা বা অবিভক্ত ঐক্যের প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধ্বনিকে বলা হয় বিন্দু-নাদ-অবিভক্ত চেতনার প্রতীক, অর্থাৎ এমন এক অবস্থা, যেখানে বিন্দু (শক্তির সংকোচ), নাদ (চেতনার স্পন্দন) এবং চেতনা (জ্ঞান বা প্রজ্ঞার আলো) — এই তিনটি এখনও পৃথক হয়ে প্রকাশিত হয়নি, বরং এক অনির্বচনীয় ঐক্যে অবস্থান করছে। এটি বোঝার জন্য তন্ত্রের তিনটি মৌল ধারণা বুঝতে হয়—বিন্দু, নাদ, ও শব্দ।
বিন্দু (Bindu) মানে হল চেতনার সর্বাধিক সংহত, সূক্ষ্মতম অবস্থা—যেমন একটি বীজে সমগ্র বৃক্ষ লুকিয়ে থাকে, তেমনি বিন্দুতেই লুকিয়ে থাকে সমস্ত সৃষ্টির সম্ভাবনা। বিন্দুতে কোনো দ্বৈততা নেই, সেখানে জ্ঞান ও শক্তি, শিব ও শক্তি, প্রকাশ ও অব্যক্ততা—সব একত্রে অদ্বিতীয়ভাবে অবস্থান করছে।
নাদ (Nāda) হলো সেই চেতনার প্রথম স্পন্দন—যখন ঐ অখণ্ড বিন্দু চেতনা আত্মবিমর্শনে কেঁপে ওঠে। এটি সৃষ্টি-আরম্ভের সূক্ষ্মতম কম্পন, যাকে “শব্দব্রহ্ম”-এর প্রথম প্রকাশ বলা হয়। নাদ মানে শব্দ নয়, বরং শব্দের সম্ভাবনা—এক অনন্ত কম্পমান উপস্থিতি, যা এখনও উচ্চারণ বা আকার ধারণ করেনি।
বোম্ ধ্বনি এই বিন্দু ও নাদের সেই সংহত ঐক্যের প্রতীক। “বোম্” আসলে এমন এক অনুনাদ, যা না “ওঁ”-এর মতো উন্মুক্ত, না কোনো নির্দিষ্ট শব্দের মতো পৃথক—এটি এক গভীর গর্জনধ্বনি, যেখানে ধ্বনি, কম্পন ও নীরবতা একই সঙ্গে উপস্থিত। তাই তান্ত্রিক ব্যাখ্যায় বলা হয়, “বোম্” ধ্বনি হলো বিন্দু-নাদের মিলনবিন্দু, যেখানে শব্দ ও চেতনা এখনও একে অপর থেকে আলাদা হয়নি।
এই কারণেই তন্ত্রে “বোম্” ধ্বনি ব্রহ্মচেতনার আদিস্বরূপ—যেখান থেকে সমস্ত শব্দ, ভাষা, মন্ত্র ও ধ্বনির সৃষ্টি হয়। সমস্ত উচ্চারণের উৎস এই অবিভক্ত ধ্বনি। যেমন, নাদ থেকে ধ্বনি, ধ্বনি থেকে শব্দ, শব্দ থেকে অর্থ, আর অর্থ থেকে ভাবনা উদ্ভূত হয়—তেমনি “বোম্”-এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে সেই আদিস্পন্দন, যেখান থেকে জগতের শব্দ ও ভাবনার ধারাগুলি শুরু হয়।
“বোম্” কোনো সাধারণ মন্ত্রধ্বনি নয়; এটি চেতনার প্রাক্-বৈখরিক অবস্থা—যেখানে চেতনা নিজের মধ্যেই কম্পমান, কিন্তু এখনও কোনো ভাষা, রূপ বা ভাব ধারণ করেনি। এটিই বিন্দু-নাদ-অবিভক্ত চেতনা—এক অনন্ত, নীরব, অথচ স্পন্দনশীল উপস্থিতি, যেখান থেকে সৃষ্টি ও শব্দ উভয়েরই জন্ম।
‘প্রাক্-বৈখরি’ মানে হলো শব্দের সূক্ষ্ম জন্মমুহূর্ত, যখন শব্দ এখনও উচ্চারিত হয়নি, কিন্তু চেতনার মধ্যে তার স্পন্দন শুরু হয়েছে। এটি এমন এক অবস্থা, যেখানে ভাব, অনুভূতি ও শক্তি একত্রে জেগে উঠছে, কিন্তু মুখ বা কণ্ঠে এখনও ভাষার রূপ নেয়নি।
তন্ত্র ও শব্দব্রহ্ম দর্শনে বলা হয়েছে, শব্দ বা বাকের চারটি স্তর রয়েছে—পরা, পশ্যন্তী, মধ্যমা এবং বৈখরি।
প্রথম স্তর পরা বাক্—এটি শব্দের আদিস্বরূপ, যেখানে সব ধ্বনি, অর্থ ও প্রকাশ এক অব্যক্ত চেতনায় লীন। এখানে শব্দ মানে স্পন্দন, যা কেবল অভ্যন্তরীণ চেতনায় অনুভূত হয়।
দ্বিতীয় স্তর পশ্যন্তী বাক্—এখানে শব্দ ধীরে ধীরে ধারণার বা চিত্রের আকার নিতে শুরু করে। এটি একধরনের অন্তর্দৃষ্টি—যেখানে ভাবনা এখনও ভাষায় রূপান্তরিত হয়নি, কিন্তু অনুভূত হচ্ছে।
তৃতীয় স্তর মধ্যমা বাক্—এই স্তরে শব্দ মানসিক গঠন পায়। মন শব্দগুলোকে সাজায়, ভাব থেকে বাক্যের ক্রম তৈরি করে, কিন্তু উচ্চারণ এখনো হয়নি। এটি মনের মধ্যে ভাষার সৃজনপর্ব।
চতুর্থ স্তর বৈখরি বাক্—এখানে শব্দ প্রকাশিত হয়, মুখ ও কণ্ঠ দিয়ে ধ্বনি উৎপন্ন হয়, এবং তা শ্রোতার কানে পৌঁছায়। এটি শব্দের স্থূল রূপ।
এই চারটি স্তরের মধ্যে, ‘প্রাক্-বৈখরি’ হলো বৈখরি-র ঠিক আগের স্তর—অর্থাৎ মধ্যমা, পশ্যন্তী ও পরা স্তরের সংহত অবস্থান। এখানে শব্দ এখনও অপ্রকাশিত, কিন্তু চেতনার মধ্যে সজীব।
সহজভাবে বলতে গেলে, যখন আমরা কিছু বলতে যাই, সেই মুহূর্তে যা আমাদের ভেতরে চিন্তার তরঙ্গ হিসেবে ওঠে, সেটাই প্রাক্-বৈখরি। তখন শব্দ তখনও ঠোঁট বা জিভে আসেনি, কিন্তু চেতনায় তার জন্ম ঘটেছে।
তন্ত্রে বলা হয়, এই প্রাক্-বৈখরি অবস্থাই শব্দব্রহ্মের সূক্ষ্মতম স্তর—যেখানে শব্দ ও চেতনা একসঙ্গে অবস্থান করে, একে অপর থেকে আলাদা নয়। এখান থেকেই শব্দের সৃষ্টি, আর এখানেই তার চূড়ান্ত বিশ্রাম।
তন্ত্রের ভাষায়, বোম্বাট কালী হলেন অদ্বৈতের উন্মত্ত প্রতিরূপ। এখানে “উন্মত্ততা” মানে কোনো মানসিক ভারসাম্যহীনতা নয়; বরং তা হলো অহংকার ও সীমাবদ্ধতার ভাঙন। সাধক যখন নিজের “আমি”, “আমার”, “ভালো”, “খারাপ”—এই দ্বৈত মানদণ্ড ছেড়ে দেয়, তখন তার অন্তরে জেগে ওঠে সেই উন্মত্ত আনন্দ, যা সমস্ত সীমা ছিন্ন করে। এই চেতনার অবস্থাই হলো “বোম্বাট”—এক অতিরিক্ত বোধ, যেখানে মানুষ আর ব্যক্তি থাকে না, বরং সমগ্র অস্তিত্বের সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়।
বোম্বাট কালী-র রূপ ভয়ঙ্কর—চুল খোলা, জিহ্বা রক্তমাখা, চোখে আগুন, গলায় মুণ্ডমালা, হাতে খড়্গ; কিন্তু এগুলি কেবল প্রতীক। প্রতিটি চিহ্নের দার্শনিক অর্থ আছে।
খোলা চুল চেতনার অপ্রতিরুদ্ধ প্রবাহ—যেখানে নিয়ম বা আচার নেই, কেবল অবাধ গতি।
খড়্গ জ্ঞানের প্রতীক—যা অজ্ঞানকে কেটে ফেলে।
মুণ্ডমালা অহংকারের পতন, প্রতিটি মুণ্ড মানে এক একটি মায়াবন্ধনের মৃত্যু।
রক্তমাখা জিহ্বা জীবনের গ্রহণ—তিনি মৃত্যু ও রক্তকেও প্রত্যাখ্যান করেন না, কারণ তাঁর কাছে জীবন ও মৃত্যু সমান সত্য।
এই রূপের অন্তরার্থ তান্ত্রিক দৃষ্টিতে একেবারে স্পষ্ট—বোম্বাট কালী হলো সেই শক্তি, যিনি বিপরীতকে এক করেন। ভয় ও আনন্দ, প্রেম ও মৃত্যু, পবিত্রতা ও অশুচিতা—সবই তাঁর লীলার অঙ্গ। তিনি বলেন, “যে আমাকে ভয় করে, সে এখনও দ্বৈতের মধ্যে আছে; যে আমাকে ভালোবাসে, সে আমারই অদ্বৈতস্বরূপে প্রবেশ করেছে।”
দার্শনিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বোম্বাট কালী হলেন চেতনার স্বয়ংবিস্ফারণশক্তি। অদ্বৈত বেদান্তের ভাষায় এটি “ব্রহ্মবিভূতি”—যেখানে ব্রহ্ম নিজেই নিজের আনন্দে প্রকাশিত হচ্ছে। কাশ্মীর শৈব দর্শনে তাঁকে বলা যেতে পারে “ভৈরবী” বা “উন্মত্ত ভৈরবী”—যিনি চেতনার স্পন্দ বা ভ্রম অবস্থাকে প্রকাশ করেন। অভিনবগুপ্তের ভাষায়, “স্পন্দঃ আনন্দরূপঃ”—চেতনার প্রকৃতি আনন্দ। বোম্বাট কালী সেই আনন্দের অপ্রতিরুদ্ধ স্রোত।
মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিতে, বোম্বাট কালী প্রতীক মানুষের shadow integration-এর। ইউং বলেছেন—যে-মানুষ নিজের ভেতরের ছায়াকে চেনে ও গ্রহণ করে, সে-ই সত্যিকারের পরিপূর্ণ। বোম্বাট কালী সেই ছায়ার আলোকায়ন। তিনি নিষিদ্ধ আবেগ—ভয়, কাম, ক্রোধ, মদ, আসক্তি—সব কিছুকে দগ্ধ করে এক নিখাদ জ্যোতিতে রূপান্তরিত করেন। তাই তাঁর নৃত্য একাধারে ধ্বংসের ও সৃষ্টির নৃত্য—চেতনার সমস্ত বিকার ছাই হয়ে সেখানে জন্ম নেয় নির্মল আত্মা।
তাঁর উন্মত্ত হাসি কোনো হিংসার নয়, বরং আনন্দের বিস্ফোরণ। এটি সেই হাসি, যেখানে জগতের সমস্ত বিভ্রম ভেঙে পড়ে। তিনি নাচেন মহাশ্মশানে—যা আসলে মনের প্রতীক, যেখানে অহংকার, কামনা ও ভয় পুড়ে যায়। সেই শ্মশানেই শুরু হয় নতুন চেতনার উদ্ভব।
তন্ত্রে বোম্বাট কালী-র আরেকটি অর্থও আছে—তিনি মহামুক্তি কালী, “সময়” ও “কাল”-এর সীমা অতিক্রমকারী চেতনা। কাল মানে সময়, আর কালী মানে সেই চেতনা, যিনি সময়েরও আগে। তিনি মহাকালেরও মা—যিনি নিজেকে নিত্যরূপে জ্বালিয়ে রেখে সব সৃষ্টিকে জন্ম দেন।
এইভাবে বোম্বাট কালী দর্শনে, মনোবিজ্ঞানে ও আধ্যাত্মিকতায় এক অপরিহার্য প্রতীক—তিনি অদ্বৈত চেতনার বিস্ফোরণ, ভয় ও ভালোবাসার মিলনবিন্দু, অন্ধকারের মধ্য দিয়ে জ্ঞানের জন্ম এবং সেই অবস্থার দেবী, যেখানে মানুষ বলে উঠতে পারে—“আমি নিজেই কালী, আমি নিজেই আলো ও ছায়া, আমি নিজেই ধ্বংস, আর সেই ধ্বংসের ভিতরেই অমৃতের জন্ম।”
বোম্বাট কালী মানে শুধু এক দেবী নন, বরং মানবচেতনার সর্বোচ্চ রূপান্তর—যেখানে চেতনা নিজেই নিজের বাঁধন ভেঙে এক পরম, নিঃসীম, উন্মত্ত আনন্দে মিলিয়ে যায়।
বামা কালী: তাঁকে বলা হয় তন্ত্রের সর্বাধিক সূক্ষ্ম, প্রেমময় ও আত্মজ্ঞানের দেবী। “বামা” শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘বাম দিক’, কিন্তু এর গূঢ় অর্থ বহুবিস্তৃত। বাম মানে স্নিগ্ধতা, সৌন্দর্য, কোমলতা ও অন্তর্মুখতা। বেদান্ত ও তন্ত্র—উভয়ের দৃষ্টিতে বামা কালী সেই চেতনা, যিনি শিবের বামাংশে অবস্থান করেন—অর্থাৎ চেতনার অন্তর্মুখ দিক, বিমর্শশক্তি (নিজেকে নিজেই অনুভব করার ক্ষমতা)।
যেমন শিব স্থির প্রভা (আলো), তেমনি বামা কালী সেই আলোর প্রতিফলন—প্রকাশ নয়, আত্ম-প্রকাশ। তাই তিনি ঘোরকালীর মতো বহির্মুখ ধ্বংসশক্তির প্রতীক নন; তিনি অন্তর্নাশের দেবী, অর্থাৎ অহং, মায়া, দম্ভ, কামনা ও অজ্ঞান—এই অন্তরের অন্ধকারকে ভস্মীভূত করেন।
তন্ত্রদর্শনে বলা হয়, শিব ও শক্তি একে অপরের বিনা অচল। কিন্তু তাদের যুগল শক্তি দুইভাবে প্রকাশিত হয়—ডানপন্থী (দক্ষিণ) ও বামপন্থী (বাম)। দক্ষিণ দিক প্রকাশ ও স্থিতির প্রতীক, বাম দিক লয় ও বিমর্শের। তাই দক্ষিণাকালী বহির্মুখী কর্মশক্তির দেবী, আর বামা কালী অন্তর্মুখী চৈতন্যশক্তির প্রতীক।
বামা কালী সেই অবস্থার দেবী, যখন সাধক বাহ্যজগত থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিজের অন্তর্লোকে প্রবেশ করে। তিনি অন্তর নাড়ির কুণ্ডলিনীকে জাগিয়ে তোলেন, সমস্ত অবিদ্যা-গ্রন্থি ছিন্ন করেন এবং চেতনার ধারা শিরোদেশে (সহস্রারে) একীভূত করেন। এই উত্থানই তান্ত্রিক ভাষায় বলা হয় বামমার্গ—যেখানে সমস্ত বিপরীত এক চেতনার ঐক্যে গলে যায়।
“বাম” অর্থে আরও একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত আছে—“বাম” মানে “মনোমুগ্ধকর” বা “শুভ”। দেবীকে তাই বলা হয় বামা, কারণ তিনি একাধারে ভয়ঙ্করী ও মধুরা। তাঁর রূপ কল্পনায় গাঢ় নীল, কিন্তু সেই অন্ধকারে দীপ্ত অমৃতালোকে ভরে আছে। তাঁর ভয়ঙ্কর হাসিতে ভয় বিলীন হয়, মৃত্যু ও জীবন একাকার হয়ে যায়।
দার্শনিকভাবে, বামা কালীকে বোঝানো হয় চেতনার প্রেমশক্তি হিসেবে—অর্থাৎ সেই অন্তর্গত শক্তি, যার মাধ্যমে চেতনা নিজেকে জানে, নিজেকে ভালোবাসে এবং নিজের মধ্যেই পরিপূর্ণতা অনুভব করে। এই “প্রেমবিমর্শ” বা আত্মপ্রেম কোনো ব্যক্তিগত আবেগ নয়; এটি চেতনার স্বরূপের স্বাভাবিক প্রকাশ, যেখানে জানার ক্রিয়া, জানা বস্তু, এবং জাননকারী—এই তিনটি এক হয়ে যায়। যখন চেতনা নিজের প্রতিফলন দেখে, তখন সে বুঝতে পারে, “আমি নিজেই সেই আলো, যার দ্বারা আমি দেখা দিচ্ছি।” এই আত্ম-উপলব্ধি থেকেই জন্ম নেয় প্রেম—কারণ চেতনা নিজের অস্তিত্বকেই ভালোবাসে, নিজের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পায়।
কাশ্মীর শৈব দর্শনের ভাষায়, শিব হলেন বিশুদ্ধ চিত্ (চেতনা), আর শক্তি হলেন বিমর্শ—চেতনার নিজেকে জানার ও ভালোবাসার প্রবণতা। বামা কালী এই বিমর্শশক্তির প্রতীক। তিনি সেই মুহূর্তের প্রতিচ্ছবি, যখন চেতনা নিজের দিকে ফিরে তাকিয়ে বলে, “আমি আছি, আমি সুন্দর।” এই “আমি আছি” অনুভবের মধ্যেই সৃষ্টি, প্রেম ও আনন্দের সূচনা। কারণ জানার প্রয়াস তখন আর বাইরের দিকে নয়, নিজের দিকে। তাই বামা কালী কেবল ভক্তির নয়, আত্মজ্ঞান ও আত্মগ্রহণের শক্তি।