গভীর রাতের ফাঁকে। কাকে যেন খুউব মনে পড়ছে।
এই আঁধারের সুপ্রাচীন কাতরস্বরে এক বিরহীসুর নিস্তব্ধতার সমস্ত আশকারা বাড়িয়েই চলেছে...।
সেই আশকারায় মনের দহন শুধু বাড়ছেই…আর ভেতরে জমে যাচ্ছে কিছু ছাই…খুব ধীরে...।
এমন সহজ প্রশ্রয়ে, মন যেন কাকে...খুব করে চাইছে ।
এই রাক্ষসী আকাশের অসীমতা থেকে,
বেহায়া চাঁদের দখলদারিত্বের কবল থেকে…
একটা মায়াবী তারা টুপ্ করে গলে পড়ে গেছে।
ওই ঝরেযাওয়া তারার বুকে আমার কিছু স্বপ্ন বাঁধা ছিল।
ওই তারার পথ ধরে আমারও কিছু স্বপ্ন হঠাৎ গলে গেল!
এই দৃষ্টিসড়ক...কাকে যেন খুব খুঁজছে…এই অবসাদেও...।
ঝিঁঝিঁপোকাদের অবিশ্রান্ত দলীয়সংগীত,
আগুনেপোকাদের টিপটিপ আধোআলো,
আর একটা দলছুট একাকী পাখি,
ওরা সবাই মিলে…আমাকে কী এক ভাবনাপ্রলেপে ঢেকে দিচ্ছে...ক্রমেই শুধু!
কাকে যেন মনের মধ্যে টেনে আনছে...টেনে আনছে…অবোধ সময়...।
শূন্যতার গলা জাপটে রেখে, নিঃসঙ্গতার পদচিহ্ন ধরে…
একটা জীবন অনির্দেশ্য পথে ঠায় হেঁটে চলছে...।
সে পথের বাঁকে পথ হারিয়ে পথ খুঁজছে পথের পথিক।
সে যেন হঠাৎ কাকে…এই পথের সাথী করে...পেতে চাইছে!
সীমানাবিহীন মহাশূন্য...বরাবরই...নিস্তরঙ্গ...এক শূন্যমোহে কানাপূর্ণ…পথিকেরই মতো!
একই গ্রহে বসবাস, তবুও যেন…দুজনের মাঝে…হাজারো আলোকবর্ষের...অনিমিষ দূরত্ব!
সমস্ত শূন্যতায় সম্পূর্ণাই সে…যদিও নিজেই,
তবু যেন কার শূন্যবোধে তলিয়ে যাচ্ছে…ক্রমশ অতলে…।
কাকে যেন সে খুঁজছে এ-ক্ষণে ভীষণ করে…
এই নিভৃতে কাকে যেন সে ভালোবাসছে…
কাকে যেন সে আদরে মাখছে, স্নেহে বাঁধছে, মায়ায় আঁকছে…
কে যেন তাকে এক ইশারায় ডাকছে কাছে, শব্দহীনতায় ঘিরছে কেমন…
তার মন - অনুভব অবিরত যেন...কার জন্য…খুব পুড়ছে!