মহাজাগতিক ভ্রমণ




চেতনার তিন স্তর

১. স্থূল স্তর (Physical Plane):

দেহ + পাঁচ ইন্দ্রিয়
খাওয়া, ঘুম, কাজ, সম্পর্ক
যা চোখে দেখা যায়, কানে শোনা যায়

একে বলা যায় “বাইরের জগৎ”।

২. সূক্ষ্ম স্তর (Astral Plane):

স্বপ্ন, কল্পনা, ধ্যানের গভীর অভিজ্ঞতা
আলো, প্রতীক, আলোকসত্তা (Light beings) যেন দেখা যায়
মনে হয়, দেহে নেই, ভেসে বেড়াচ্ছি

একে বলা যায় “অন্তর্জগৎ” বা “প্রতীকী জগৎ”।

৩. কারণ স্তর (Causal Plane):

এখানে কোনো রূপ নেই, কোনো প্রতীক নেই
শুধু অসীম আলো, প্রেম, আনন্দ
নিজের ‘আমি’ বোধ মুছে যায়
একাকার হয়ে যায় সব কিছু

একে বলা যায় “মূল উৎস” বা “একতার জগৎ”।

সহজ করে বললে:
স্থূল স্তর = সমুদ্রের ঢেউ (চোখে দেখা যায়)
সূক্ষ্ম স্তর = জলের ভেতরে চলমান স্রোত (অদৃশ্য কিন্তু অনুভবযোগ্য)
কারণ স্তর = সমুদ্র নিজে—অসীম, গভীর, একাকার।

ধ্যানের নীরবতায়, একসময়ে যখন সমস্ত আশা ভেঙে যায়, তখন নিঃশব্দ আত্মসমর্পণের মুহূর্ত আসে। ঠিক সেই মুহূর্তেই চেতনাকে অনুভূত হয়—শরীরের সীমা ছাড়িয়ে একটি পাহাড়ি পথে চলা শুরু হয়েছে।

এ অভিজ্ঞতা কল্পনা নয়, স্বপ্ন নয়, এমনকি স্বচ্ছ স্বপ্নও নয়। যেন আত্মসচেতনতার প্রকৃত “আমি” শরীর ছাড়িয়ে অন্য এক স্তরে পদচারণ করছে—এক অদৃশ্য জগতে, যাকে কেউ কেউ বলে অ্যাস্ট্রাল প্লেইন।

দূরে দেখা দেয় এক আলোকসত্তা—মুখবিহীন, কেবল দীপ্তিময় আলো। কোনো শব্দ উচ্চারিত হয় না, তবু নির্দেশ মেলে: দৃষ্টি ফেরাতে হবে দূরে। এবং, পরমুহূর্তেই ছুটে আসে বিশাল নীল-সাদা আলোকপিণ্ড, যেন ডিমের আকৃতি, এবং তা সম্পূর্ণভাবে চেতনাকে গ্রাস করে নেয়।

তখন‌ও সামান্য ব্যক্তিসত্তার ছাপ রয়ে যায়, কিন্তু তা দ্রুত বিলীন হয়। অভ্যন্তর থেকে ঢেউয়ের পর ঢেউ উঠে আসে—প্রেমের, করুণার, মুক্তির। অপরাধবোধ, ভয়, হতাশা—যা দীর্ঘকাল বহন করা হয়েছিল—সব গলে যায়। এরপর ব্যক্তিসত্তা পুরোপুরি মিলিয়ে যায়। সময়ের ধারণা থাকে না, স্থানের অস্তিত্ব থাকে না, পরিচয়ের কোনো রেখা থাকে না। রয়ে যায় কেবল—অপরিসীম আনন্দ, বর্ণনাতীত পরিতৃপ্তি।

তারপর উদ্ভাসিত হয় নক্ষত্রপুঞ্জ—প্রথমে যেন উৎসবের আলোকমালা, পরে উপলব্ধি হয়—এটাই সমগ্র মহাবিশ্ব। অস্তিত্বের সামনে খুলে যায় এক পরিপূর্ণ দৃশ্যপট—যেখানে সব কিছু সুষম, সব কিছু নিখুঁত, সব কিছু স্পষ্টভাবে জানা।

এরপর যখন দৃষ্টি ফেরে, তখন তা আর পূর্বের দৃষ্টি নয়। চোখ নতুন, শরীর নতুন, চারপাশ নতুন। সব কিছু এবং সবাই একেবারে অপরূপ, অকল্পনীয়ভাবে মহিমান্বিত।

পরে অভিজ্ঞতার ভাষায় বলা যায়—আলোকসত্তার সাক্ষাৎ ছিল অ্যাস্ট্রাল স্তরের, আর নীল-সাদা আলোকপিণ্ডে বিলীন হওয়া ছিল কজাল স্তরের।
এভাবেই এক মহাজাগতিক ভ্রমণ মুছে দেয় পুরোনো পরিচয়, আর প্রকাশ করে এক নতুন সত্তার উদয়।