নির্জন এক পথে যাত্রা শুরু করি...
আলোর ওই বিন্দুতে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে—
সুনির্দিষ্ট এক কার্যকারণেই পা বাড়াই,
ছিল যদিও অনির্দেশ্য অভিসন্ধি।
মানুষের ভিড় পেরিয়ে,
নিজেকে আবদ্ধ করি—
মুক্ত এক কারাগারে,
"আত্মশুদ্ধির" অবাধ কক্ষে।
পরিশ্রুত এই পথ যত দীর্ঘ হয়,
উপাসনার গন্তব্য হয়ে ওঠে ততই স্পষ্ট—
এই ত্রুটিপূর্ণ দৃষ্টির প্রান্তে।
আকস্মিক প্রলয়ের স্তব্ধতায়,
এক বিস্ময়ের মুখোমুখি হলাম—
একাকী এই বিচরণে,
হয়েছে কারও সাথে সাক্ষাৎ বহুবার;
তবুও, আজ এই মুহূর্তে যেন প্রথম বার দেখি তাঁকে—
বুকের ভেতরটায় হঠাৎ আঁতকে ওঠে,
যখন দেখি তাঁকে ঠিক তাঁর রূপে...স্পষ্টভাবে।
নিস্তব্ধ এই পথে,
বিদ্ঘুটে অন্ধকার পেরিয়ে
এক অজানা উৎস থেকে
ক্ষীণ আলোর সূত্রপাত—
মৃদুস্বরে শুধোল যেন কেউ—
বিরতিহীন এ যাত্রায় ক্লান্তিবোধ করছ না তো?
আলতো ছুঁয়েই মিলিয়ে গেল সে আকাশের অতলে।
ঠিক সেই মুহূর্তেই,
আমি খুঁজে পেলাম আমার সঙ্গে থাকা সেই অস্তিত্বকে—
সে দাঁড়িয়ে আছে, আমারই সম্মুখে।
আশ্চর্যের বিষয়—
তাঁর উপস্থিতি এতকাল আমি কি অনুভব করতেই পারিনি?
স্থির দৃষ্টিতে সে ধরা দিল অকপটে—
অরূপ-রূপে।
আমি আসলে কে?—
অপসৃয়মাণ এক ছায়া,
ক্ষণিক উপলব্ধির রেখা,
বিস্তৃত দৃষ্টির অন্তঃছায়া,
চিরজাগরূক এক চৈতন্য।