কণ্ঠ ১ (দ্বিধায় জিজ্ঞাসা করে): তুমি বলো আত্মা—তবে তার রূপ কেমন? সে কি আলো? শব্দ? স্পন্দন?
কণ্ঠ ২ (শান্ত, বর্ণহীন কণ্ঠে): না…আত্মার নেই কোনো রূপ, গুণ, ধর্ম। সে কেবলই আনন্দ—যে-আনন্দ কোনো কিছুর উপর নির্ভর করে না—যার নেই কোনো কারণ, নেই কোনো সীমা।
কণ্ঠ ১ (মুগ্ধ বিস্ময়ে): তবে কি আত্মা কোনো অভিজ্ঞতা নয়? যেমন হাসি, সুখ, প্রেম?
(কণ্ঠ ২): সে সবই ছায়া। প্রকৃত আনন্দ আছে, তবু অনুভব করা যায় না, কারণ তা ‘হওয়ার’ চেয়েও গভীর—তা নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ।
কণ্ঠ ১ (ধীরে ধীরে নিজের গভীরে ডুবে যায়): তবে আমি কি সেই আনন্দ? না কি আমি তা পেতে চাই?
কণ্ঠ ২ (কোমল অথচ দুর্ভেদ্য বাণীতে): যতক্ষণ ‘পেতে চাই’ ভাবনা থাকে—ততক্ষণ তুমি তার বাইরে। যখন তুমি নিজেকে ভুলে যাও—তখন তুমি নিজেই সেই পরিপূর্ণ আনন্দ।
দু-জন একসাথে (নির্ঝর-বয়ে-চলা স্বরে, অশব্দে আনন্দের ধ্বনি— ধ্যান-ছন্দে, নিজস্ব আত্মজ্যোতির প্রকাশে): না রূপ, না গন্ধ, না ভাষা, না ভাব—আমি শুধু আনন্দ। না সাড়া, না স্থিরতা, আমি শুধু আত্মজ্যোতির নিঃশব্দ হাসি। আমি কিছুর মধ্যে নই, আমি কোনো কিছুর চেয়ে নই বড়ো—আমি কেবলই আনন্দ। না চাওয়ার, না ভাবার, না রচনার এক অনুভব—যা শুধু আছে, যা শুধু আনন্দ।
কণ্ঠ ১ (কাঁপা কণ্ঠে প্রশ্ন তোলে): আমি বার বার বলি—“আমি ব্রহ্ম”, তবু মনে হয়—কোনো দেয়াল রয়ে গেছে…আমি কি সত্যিই ব্রহ্মের সঙ্গে এক হতে পেরেছি?
কণ্ঠ ২ (মৌন স্বরবিন্দুতে উচ্চারিত গভীর বাণী): যতক্ষণ তুমি বলো—আমি ব্রহ্ম, ততক্ষণ একতা পূর্ণ হয় না। কারণ ‘আমি’ তো এখনও বেঁচে আছে। এক হওয়া মানে—‘আমি’ নেই, ‘ব্রহ্ম’ নেই, আছে শুধু “এক”।
কণ্ঠ ১ (স্তব্ধতায়): তবে কি অনুভবও নেই সেখানে?
কণ্ঠ ২ (মৃদুহাসিতে): না অনুভব, না অনুভবের অভাব—না জ্ঞান, না অজ্ঞান। না ধ্যান, না ধ্যানহীনতা। সেই একতা এক নির্ঝরের মতো—যা শুধু বয়ে চলে নিজের মধ্যেই।
(কণ্ঠ ১): এত নিঃস্বতা! এত শূন্যতা! তবু তুমি বলো—সেটাই পরিপূর্ণ?
কণ্ঠ ২ (চিরজ্যোতির তলে হাসিমাখা স্বরে): যা-কিছু নেই, তাতেই আছে সব। বিভেদ যেখানে শেষ, সেখান থেকেই শুরু হয় একতার উজ্জ্বল প্রভা।
দু-জন একসাথে (নিঃশব্দ এক ধ্বনিতে মিলিত হয়ে—গভীর একত্ববোধে আবৃত্তিযোগ্য ছন্দে): আমি নেই, তুমি নেই—আছে শুধু এক। সেই এক-কেই কেউ বলে ব্রহ্ম, আবার কেউ বলে—'আমি'। কিন্তু যেখানে কেউ বলে না কিছুই—সেখানে একতাই শেষ সত্য। এক হওয়া মানে—নিজেকে মুছে ফেলা নয়, নিজেকে ছায়াহীন করে দেওয়া। আমি-তুমি, ঈশ্বর-ভক্ত, ধ্যান-ধ্যাতা—সব মিলিয়ে শুধু এক। সেই এক-কেই কেউ ডাকে 'ব্রহ্ম', কেউবা জানেই না নাম। আমি শুধু তা-ই—নেই আমি, আছি শুধু এক।