গল্প ও গদ্য

অস্থিপ্রণয়



জানো, সুধীর, তুমি যেদিন আচমকা আমার হাতটা ছেড়ে দিয়েছিলে—ভেতরটা সেদিন থেকে মৃত হয়ে আছে। এরপর থেকে আমি কখনও শান্তি খুঁজে পাইনি, হাতের শিরা কেটে আমি এতটুকুও বিস্মিত হইনি—রক্তের তেজ বাড়তে দিতে চেয়েছি, চোখের সামনে নিজের শেষ রক্তবিন্দু গড়িয়ে পড়ছে—তবুও তোমাকে স্পর্শের নেশাটা আমার চেপে বসেছিল।

শুনছ? কেমন স্পর্শে তোমার আগ্রহ বাড়ে? তুমি আমার খুউব কাছাকাছি থাকতে পারবে না, সুধীর। এই সত্যিটা আমি বহু আগেই মেনে নিয়েছিলাম, শুধু কিছু অনুভূতি রপ্ত করেছিলাম—তোমাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে দেখব বলে, প্রচণ্ড ভালোবাসতে ইচ্ছে করত তোমাকে। তাকাও আমার দিকে—আজও ভালোবাসি তোমায়, ভীষণ।

হঠাৎ জোছনার আলোয় নীলরংটা আবছা হয়ে তোমার চোখে ধরা দিয়েছে। সুধীর, তোমার মায়াবী মুখটা ঝড়ো হাওয়ার মতো আমায় খুঁজছে! আমার অপেক্ষায় চেয়ে আছে তোমার ভেতরের আমিটা। আমাদের স্মৃতিগুলো বেশ পুরোনো, ধুলো জমে গেছে—তবুও এক অদ্ভুত সুমিষ্ট ঘ্রাণ চারিদিকে। তোমার শরীরের ঘ্রাণও আজ খুব তীব্রভাবে আমাকে আক্রমণ করছে, অসহ্য যন্ত্রণা হয়, তোমার নীরবতার স্পন্দন আমাকে নিঃশেষ করে দেয়, সুধীর।

তোমাকে প্রেম নিবেদন করতে চাই—আমার সৃষ্টির ভাষা, কিংবা আমার অনুরোধ, আমার অপারগ সম্ভ্রম, বিস্তৃত পটভূমিতে আঁকা অসহ্য যন্ত্রণার সঙ্গী কি তুমি হতে পারবে?

আজ বড়ো পাগলামি করতে ইচ্ছে করছে—ঝড়ের পূর্বাভাসে যেন প্রকৃতি কালো অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে...দু-জন মৃতপ্রায় মানুষের অন্তিম অনুভূতি ছিটকে বেরিয়ে আসছে। সুধীর, তোমাকে আজ ভীষণ ভালোবাসতে ইচ্ছে করছে।

একসমুদ্র অভিমান...আমাদের একসাথে পাড়ি দেবার কথা ছিল, মুহূর্তরা সুরের মূর্ছনায় ভেজা ছিল, নিস্তব্ধতা আমাদের প্রায়শই বেঁধে রাখত...শক্ত আলিঙ্গনে। সুধীর, আমাদের যদি এখানে রোজ দেখা হতো...জানো, এই শ্মশান আমাদের নিভৃত ব্যথার সঙ্গীও।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *