দর্শন ও মনস্তত্ত্ব

শূন্যের সপ্তক: ৩



নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভক্তিময় কাব্যধারায় বহু পাঠক সুফি ও উপনিষদীয় অনুরণন অনুভব করেন—তাঁর গীতাঞ্জলিতে লিখেছিলেন: "আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে।"


এ কেবল বিনয়ের বাক্য নয়—এ এক আশেকের গোপন আরজি। কবি বলছেন—আমি নিজে নত হতে পারছি না, তুমি আমাকে নত করে দাও। কারণ মানুষ নিজের অহং নিজে নামাতে চায়, তবু তার কপাল শক্ত থাকে। সে কাঁদে, তবু ভাঙে না। সে ভালোবাসে, তবু নিজেকে পুরোপুরি সমর্পণ করতে পারে না। অহংকার এত শক্ত যে, নিজের চেষ্টায় ভাঙে না—ঈশ্বরের হাত লাগে।


কিন্তু সেই রাতে—যে-রাতে প্রেম প্রথম স্পর্শ করেছিল—এই প্রার্থনার দরকার পড়েনি। মাথা নিজেই নত হয়েছিল। কেউ বলেনি—নত হও। কোনো আদেশ ছিল না, কোনো চেষ্টা ছিল না। হৃদয় নিজেই সিজদায় নেমে গিয়েছিল—যেমন সূর্যমুখী ফুল আলো দেখলে মুখ তোলে। রূহ তার আদি প্রেমের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। ফুলকে কেউ বলে না—সূর্যের দিকে তাকাও। সে তাকায়, কারণ এটা তার প্রকৃতি। যেমন নদী সমুদ্রের দিকে ছোটে—নদী কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না যে, আমি সমুদ্রে যাব। সে যায়, কারণ প্রকৃতিই তাকে টানে। যেমন সন্ধ্যা অন্ধকারের কোলে মাথা রাখে—কোনো প্রতিরোধ ছাড়া, কোনো তর্ক ছাড়া।


এই নত হওয়া পরাজয় নয়। এ হলো চিনে ফেলা—আমার চেয়ে বড়ো কিছু আছে, আমার চেয়ে সত্য কিছু আছে, আমার ভেতরে যে-আগুন জ্বলে, তার শিখা আমার নয়; আমার বুকে যে-ডাক, তার উৎস অন্য কোথাও। মাথা জোর করে নত হয়নি—দয়ার টানে নত হয়েছিল।


প্রেমেরও একটা মাধ্যাকর্ষণ আছে। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ পাথর টানে মাটির দিকে। প্রেমের মাধ্যাকর্ষণ আত্মা টানে মাশুকের দিকে। এই দুটো বলের মধ্যে পার্থক্য হলো—পৃথিবীর টান চোখে দেখা যায়, প্রেমের টান দেখা যায় না। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণই সেই বল, যা গ্রহকে কক্ষপথে ধরে রাখে—কিন্তু প্রেমের টান আরও শক্তিশালী, এত শক্তিশালী যে, তার কাছে পর্বতও হালকা হয়ে যায়। কারণ পৃথিবীর টান শুধু শরীর টানে, প্রেমের টান পুরো সত্তা টানে—হাড়, রক্ত, স্মৃতি, ভবিষ্যৎ, সমস্ত কিছু।


নলখাগড়া বাতাসের দিকে ঝোঁকে—কারণ বাতাসই তার আদি সংলাপী। বাতাস ছাড়া নলখাগড়া নিঃশব্দ। বাতাসই তাকে কথা বলায়। তাই সে বাতাসের দিকে ঝোঁকে—যেমন শিশু মায়ের দিকে ঝোঁকে, না জেনেও, না বুঝেও।


অনুপস্থিতির আলো


তুমি চলে যাবার পর থেকে প্রতিটি গান তোমার মুখ পরে আছে।


এ কেমন কথা? গানের তো মুখ নেই। কিন্তু প্রেমিক জানে—চলে যাবার পর প্রিয় মানুষটার মুখ সব জায়গায় দেখা যায়। একটা গানের সুরে, একটা রাস্তার বাঁকে, একটা চায়ের ধোঁয়ায়, একটা বৃষ্টির শব্দে, একটা বিকেলের আলোয়, সন্ধ্যার রঙে, ঘুমভাঙা ভোরের নিঃশব্দে, একটা নামহীন বিষণ্নতায়—সব জায়গায় সেই মুখ। কারণ প্রিয়জন একবার অন্তরে প্রবেশ করলে সে আর একজায়গায় থাকে না—সে ছড়িয়ে পড়ে সমস্ত পৃথিবীতে।


যেমন শরতের শেষপাতা গাছ থেকে ঝরে পড়ে—কিন্তু সেই পাতা গাছের স্মৃতি বহন করে। পাতা মাটিতে পড়ে, কিন্তু সে এখনও গাছের। তেমনি প্রতিটি সুর সেই প্রথম আগুনের একটু একটু ছাই বহন করে চলেছে। আগুন নিভেছে—কিন্তু ছাই উত্তপ্ত। ছাইয়ের ভেতরে এখনও আগুনের স্মৃতি জ্বলছে।


যারা কাউকে হারিয়েছে—মৃত্যুতে হোক, বিচ্ছেদে হোক, দূরত্বে হোক—তারা একটা সত্য জানে: একবার হৃদয়ে আগুন ধরলে, অনুপস্থিতিও আলো দেয়।


বিশেষ করে অনুপস্থিতি।


রাত কী? রাত তো সূর্যের অনুপস্থিতি। কিন্তু রাত কি প্রমাণ করে যে, সূর্য নেই? উলটো—রাত প্রমাণ করে, সূর্য আছে, শুধু অন্য পাশে আছে। অন্ধকার আসলে আলোরই স্বীকারোক্তি—সে বলছে: আমি এখানে নেই, কিন্তু আমি আছি।


সুফিরা একে বলেন গায়বত—অনুপস্থিতি—যা আসলে উপস্থিতিরই আরেক রূপ। গায়েব মানেই শূন্য নয়। না-দেখা মানেই না-থাকা নয়। অনেকসময় অদৃশ্যতাই সবচেয়ে গভীর উপস্থিতি। আল্লাহ্‌কে দেখা যায় না—কিন্তু তাঁর না-দেখা যাওয়াটাই তাঁর সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ। কারণ যদি তাঁকে দেখা যেত, তিনি সসীম হতেন। তাঁর অদৃশ্যতাই তাঁর অসীমতার সাক্ষ্য। আর তাঁর অনুপস্থিতি সব কিছুকে মরুভূমি বানিয়ে দেয়—কারণ তিনি না থাকলে সবই ফাঁকা, আর তিনি থাকলে ফাঁকাও পূর্ণ।


কস্তুরী মৃগ


এখানে একটা পুরোনো রূপক এসে যায়—যা সুফি, বাউল, সন্ত—সবার কাছেই প্রিয়।


কস্তুরী মৃগ। একধরনের হরিণ—যার নাভিতে কস্তুরী থাকে। কস্তুরী হলো পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সুগন্ধগুলোর একটি। কিন্তু হরিণ জানে না সুগন্ধটা তার নিজের শরীরে। সে সুগন্ধ পায়—আর সারাবন চষে বেড়ায় খুঁজতে। কোথা থেকে আসছে এই গন্ধ? কোন ফুল? কোন গাছ? কোন ঝরনা? সে দৌড়ায়, খোঁজে, হাঁপায়—অথচ যা খুঁজছে, তা তার নিজের নাভিতে।


এটাই মানুষের অবস্থা।


আমরা সারাজীবন খুঁজি—সুখ খুঁজি, শান্তি খুঁজি, প্রেম খুঁজি, অর্থ খুঁজি—বাইরে খুঁজি। অথচ যা খুঁজছি, তা আমাদের বুকের ভেতরেই আছে। গীতায় (১৫.১৫) কৃষ্ণ বলেন: "সর্বস্য চাহং হৃদি সন্নিবিষ্টো মত্তঃ স্মৃতির্জ্ঞানমপোহনং চ"। আমি সকলের হৃদয়ে বিরাজ করি। আমার থেকেই স্মৃতি আসে, জ্ঞান আসে—আর বিস্মৃতিও আসে।


এই শ্লোকের তিনটি অংশ আছে, তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ:


প্রথম—"হৃদি সন্নিবিষ্টো"—আমি হৃদয়ে বসে আছি। কৃষ্ণ বলছেন না—আমি আকাশে আছি, মন্দিরে আছি, তীর্থে আছি। বলছেন—তোমার বুকে আছি। হৃদয়ের গভীরতম প্রকোষ্ঠে বসে-থাকা সেই উপস্থিতি—যাকে আমরা সারাজগৎ খুঁজি, অথচ সে আমাদের সবচেয়ে কাছে। গীতা যেন নীরবে বলে—তিনি হৃদয়গুহায় অবস্থান করেন। তীর্থ অনেক দূরে নয়, তোমার বুকে তার পথ লুকানো।


দ্বিতীয়—"স্মৃতি"—আমার থেকেই স্মৃতি আসে। মানে—তুমি যখন হঠাৎ মনে করো, "আমি কোথাও থেকে এসেছি," "আমি পূর্ণ ছিলাম," "আমি ফিরে যেতে চাই"—সেই মনে করাটা তিনিই করাচ্ছেন। সেই টানটা তিনিই দিচ্ছেন। তওবার কাঁপুনি—তা-ও তাঁরই দান।


তৃতীয়—"অপোহনম্"—বিস্মৃতি। এটাই সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ। কৃষ্ণ বলছেন—ভুলে যাওয়াটাও আমার কাছ থেকেই আসে। অর্থাৎ ভুলে যাওয়াটাও তাঁর লীলার অংশ—সেটাও তাঁর পরিকল্পনা! কেন? কারণ ভুলে না গেলে খোঁজা হতো না। আর খোঁজা না হলে পাবার আনন্দ কোথায়? লুকোচুরি খেলতে হলে আগে লুকাতে হয়—তারপর খুঁজে পাবার আনন্দ। আল্লাহ্ লুকিয়েছেন—নিজেকে তোমার হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে রেখেছেন—আর তোমাকে ভুলিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি সেখানে আছেন—যাতে তুমি খোঁজো, যাতে তুমি কাঁদো, যাতে তুমি ফিরতে চাও—আর সেই খোঁজাটাই হয়ে যায় ইবাদত, সেই কান্নাটাই হয়ে যায় নামাজ, সেই ফেরার আকুতিটাই হয়ে যায় প্রেম।


কস্তুরীর সুগন্ধেই মৃগের তৃষ্ণা তীব্রতর হয়। আর তৃষ্ণাই তো সন্ধানের জননী। কস্তুরীমৃগ দৌড়ায়—কিন্তু দৌড়ানোটাই হয়তো কস্তুরীর উদ্দেশ্য। কারণ দৌড়ানো ছাড়া মৃগ কি কখনো জানত, সে কতটা তৃষ্ণার্ত?


ঈশাবাস্যম্


আর প্রেমিকের আসল অসুখটা কী? না-পাওয়া নয়।


আসল অসুখ হলো এই "আছি"-র যন্ত্রণা—জানা যে, কোথাও সে আছে, কিন্তু হাতের নাগালে নেই। জানা না হলে মানুষ ভুলে যেত। কিন্তু জানাটাই যন্ত্রণা—কারণ জানলে আর ভুলতে পারে না।


ঈশ উপনিষদ—উপনিষদসমূহের মধ্যে সবচেয়ে ছোটো কিন্তু সবচেয়ে ঘনীভূত—তার প্রথম শ্লোকেই বলে: "ঈশাবাস্যমিদং সর্বম্"—এই সমস্তই ঈশ্বরে আবৃত।


সমস্ত কিছু। এই গাছ, এই পাথর, এই আকাশ, এই মানুষ, এই যন্ত্রণা, এই আনন্দ—সব কিছু তাতে মোড়া। তিনি ধুলোর ভেতরও আছেন, অশ্রুর ভেতরও, অরণ্যের স্তব্ধতায়ও, মানুষের ভাঙা হৃদয়ের ভেতরেও। অদ্বৈতের এই বোধ আর সুফির তাওহিদের মধ্যে এক গভীর অনুরণন আছে—সব কিছুর গভীরে সেই এক সত্যের আভাস। আর ভ্রমই তো বিচ্ছেদের জন্মদাতা। তুমি যেদিকে তাকাও—তিনি। তুমি যাকে স্পর্শ করো—তিনি। তুমি যা অনুভব করো—তিনি।


কিন্তু তাহলে কেন ছুঁতে পারি না? যদি সব কিছুতে তিনি থাকেন, তাহলে কেন এই দূরত্বের অনুভূতি?


এখানেই শঙ্করের মায়া আর সুফির হিজাব পাশাপাশি দাঁড়ায়। এই দুই ভিন্ন ঐতিহ্যের দুটো ভিন্ন পরিভাষা—এক জিনিস নয়, কিন্তু একই দিকে ইশারা করে। মায়া বলে—জগতের বহুত্ব একটি আবরণ, সত্য হলো অদ্বৈত, এক। হিজাব বলে—আল্লাহ্‌ আর তোমার মধ্যে একটা পর্দা আছে, সেই পর্দা তোমার অহং। দুটোই বলছে—তুমি দেখতে পাচ্ছ না, কারণ তোমার চোখে কিছু-একটা আছে—অহংকার, ভয়, লোভ, অভ্যাস—এসব মিলে চোখে এমন এক কুয়াশা ফেলে যে, মানুষ সমুদ্রের কিনারায় দাঁড়িয়েও জল খোঁজে, বুকের মধ্যে আগুন নিয়েও উষ্ণতা ভিক্ষা করে, হৃদয়ে ঈশ্বরের আসন নিয়েও তীর্থে তীর্থে ধুলো মাপে। চোখ ঠিক আছে, আলো ঠিক আছে—শুধু চোখ আর আলোর মাঝখানে একটা পর্দা। সেই পর্দা সরলেই—দেখবে, তিনি সবসময়ই ছিলেন। কোথাও যাননি। বিচ্ছেদ মিলনের বিপরীত নয়—বিচ্ছেদ মিলনের দীর্ঘ ছায়া।


কোহং—আমি কে?


শ্রীরমণ মহর্ষি (১৮৭৯-১৯৫০) দক্ষিণ ভারতের তিরুবন্নামলাই-এর অরুণাচল পাহাড়ে দশকের পর দশক নীরবে বসে থাকতেন। সারাপৃথিবী থেকে মানুষ আসত তাঁর কাছে—জটিল প্রশ্ন নিয়ে, দার্শনিক তর্ক নিয়ে, জীবনের সংকট নিয়ে। রমণ সবাইকে একটিমাত্র প্রশ্ন দিতেন: "কোহং?"—আমি কে? এই প্রশ্ন নিঃশব্দে আসে, কিন্তু বজ্রের মতো।


তিনি বলতেন—তুমি মনে করো, তুমি এই শরীর। তুমি মনে করো, তুমি এই নাম। তুমি মনে করো, তুমি এই পেশা, এই পরিচয়, এই স্মৃতি। কিন্তু এসব কি সত্যিই তুমি? শরীর বদলায়—শরীর তো ঋতুর মতো বদলে যায়। নাম? নাম তো অন্যের দেওয়া ছায়া। পরিচয়? সেটাও সময়ের হাতে লেখা এক অস্থায়ী লিপি। স্মৃতি? সেটিও জোয়ার-ভাটার মতো আসে যায়। তাহলে এসব সরিয়ে ফেললে কী থাকে? সেই "কী থাকে"—সেটাই তুমি।


সুফি পরম্পরায়ও অনুরূপ একটি বাণী আছে—"মান আরাফা নাফসাহু ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু"—যে নিজেকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে। হাদিসশাস্ত্রে এর সনদ প্রতিষ্ঠিত নয়, কিন্তু সুফি সাধনায় এর গভীরতা অপরিসীম। সমস্ত ভ্রমের মূলে আছে একটি ভুল পরিচয়—আর সেই ভুল পরিচয়কে প্রশ্ন করাই মুক্তির শুরু। রমণ বলছেন—নিজেকে জিজ্ঞেস করো, "আমি কে?" সুফি বলছেন—নিজেকে চেনো, তাহলে আল্লাহ্‌কে চিনবে। দুটি ভিন্ন আত্মানুসন্ধানী উচ্চারণ—ভিন্ন পরম্পরা, ভিন্ন ভাষা—তবু অন্তর্মুখী সাধনার স্তরে এদের মধ্যে একটি গভীর অনুরণন অনুভূত হয়। দিক একটাই: বাইরে নয়, ভেতরে তাকাও।


বিশ শতকের আরেক অদ্বৈত সাধক নিসর্গদত্ত মহারাজ (১৮৯৭-১৯৮১) মুম্বাইয়ের একটা ছোট্ট ঘরে বসে সারাপৃথিবীর সাধকদের একটিমাত্র কথা বলতেন: "তুমি তা নও যা তুমি মনে করো তুমি। আগে জানো, তুমি কী নও—তারপর যা বাকি থাকবে, সেটাই তুমি।"


রমণ প্রশ্ন করেন—আমি কে? নিসর্গদত্ত উত্তর দেন—কিন্তু উত্তরটা কোনো শব্দ নয়। উত্তরটা হলো সমস্ত মিথ্যা উত্তর বাদ দেবার পর যে-নীরবতা থাকে—সেটাই।


এ চিনে ফেলা নতুন কিছু পাওয়া নয়—বরং মিথ্যা পরিচয়ের পোশাক খুলে ফেলা। আমি শরীর নই—সরাও। আমি নাম নই—সরাও। আমি শুধু ভূমিকা নই, ইতিহাস নই, লোকের দেওয়া পরিচয়ের নামফলক নই—সরাও। সরাতে সরাতে যখন আর কিছু সরানোর নেই—যা থাকে, সেটাই আত্মা। সেই নীরব সত্তা, যে সব কিছুর সাক্ষী—কান্নারও সাক্ষী, হাসারও সাক্ষী, প্রেমেরও সাক্ষী, হারানোরও সাক্ষী। সেটাই "আমি।" এই প্রশ্ন যখন সত্যি জেগে ওঠে, তখন আর তা দার্শনিক কৌতূহল থাকে না—তা হয়ে ওঠে আত্মার আর্তি। উপনিষদ ফিসফিসিয়ে বলে—"নেতি, নেতি"—এটা নয়, এটা নয়—বাদ দিতে দিতে যা বাদ দেওয়া যায় না, সেটাই সত্য।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *