তুমি আমার কাছে এসে বার বার ফিরে গেছ—এই অপরাধবোধ থেকে মুক্ত হতে আজও আমি পারিনি, সুধীর। তোমার চোখের অশ্রু সশব্দে এক মায়াবী নারীমূর্তির সংস্পর্শে এল, প্রচণ্ড আক্ষেপে কঠিন শক্ত মুখের খোলসটা খসে পড়ল! তোমার ভেতরটা এতখানি গভীর, শান্ত?
সুধীর, আমাকে ক্ষমা কোরো। তোমার সাথে একজীবন কাটাতে আমি পারিনি, কিন্তু যে তীব্র শোকে তুমি আক্রান্ত—এর সবটাই যে আমার জন্য। এই তীব্রতা তোমার নিঃশ্বাসে আমি আগে কখনও অনুভব করিনি কেন? তুমিই আমার সর্বশেষ অনুভূতি, এক চিরস্থায়ী স্মৃতি।
ফিরে যাও, সুধীর—আর কখনও আমায় ছুঁতে চেয়ো না। আচমকা খুউব শক্ত এক আলিঙ্গনে তোমার ভালোবাসার গভীরতম বহিঃপ্রকাশ আমাকে সম্মোহিত করে তোলে, দমবন্ধ লাগে ভীষণ, অসহ্য ব্যথায় আমার বুকের পাঁজর রক্তে ভেসে গেল তৎক্ষণাৎ, নীলাভ হয়েছে ওষ্ঠখানি—এই মুহূর্তটার জন্যই আমি প্রতিক্ষণে চেয়ে থাকি তীব্র নেশায়, তোমার অপেক্ষায়।
অনুরোধ একটাই—যা-কিছু দেখছ, এর সবটাই ভয়ংকর সত্যি, ভুলেও নীরবতা ভেঙো না, সুধীর। পৃথিবী কী নিদারুণ সুস্থ, অথচ আমি এতখানিই ব্যাধিগ্রস্ত—তোমার স্পর্শেও আমি সেরে উঠি না।
আমাদের দূরত্ব কেন কমছে না? এই আলিঙ্গনটিই যথেষ্ট। এর সুগভীর প্রজ্ঞাই তোমাকে মৃত্যুর খুউব কাছাকাছি নিয়ে আসবে। তুমি আমার চোখের পাপড়িগুলো আজ নিয়ে যাও, সুধীর—যত্ন করে রেখো।
রক্তস্নাত প্রণাম
লেখাটি শেয়ার করুন