গল্প ও গদ্য

অস্তিত্বের প্রলাপ


সুধীর, তোমার মনে আছে...আমরা যে একসাথে লেখালেখি করতাম! সময়ের সাথে কতকিছু বদলেছে, তবুও আমাদের লেখা অক্ষরগুলোর উচ্চারণ সর্বক্ষণ একাগ্রতায় মগ্ন থেকেছে।

তুমি একবার খুব দুর্ব্যবহার করে বসলে—টানা ছয়দিন খুউব কেঁদেছিলাম...ভীষণ জ্বর উঠেছিল! মাঝরাতে চোখের পাতা ভারী হয়ে আসত...হঠাৎ জানালায় তাকিয়ে দেখি, বৃষ্টি নেমেছে... তবুও মনটা শান্ত হলো না। এরপর আমি যতক্ষণ বৃষ্টি হয়েছে, ভিজেছি।

সে-বার আমি একাই ছিলাম, সম্পূর্ণ একা। বৃষ্টিতে ভেজার পর শরীরে একধরনের কাঁপুনি ধরত, অদ্ভুত এক অনুভূতি আমার মনজুড়ে তরঙ্গের মতো ছিটকে বেরিয়ে আসত, তোমাকে কাছে পাবার জন্য আমি উন্মাদ হয়ে যেতাম—কী করেছি আমি নিজের সাথে! খুউব খারাপ কিছু?

সুধীর, এরপর থেকে বহু বছর আমার চোখ থেকে একফোঁটা জলও গড়াতে দেখিনি। এখন আমি কাঁদতে পারি না—আমার চোখে জলের বড্ড অভাব, রক্ত গড়িয়ে পড়ে।

জানো, একটা সময় শুধু মৃত্যুচিন্তা আসত, তোমাকে নিয়ে লেখার নেশাটাও বেশ পুরোনো হয়ে গেল! আমার জগৎটাকে তুমি গ্রহণ করে নিয়েছিলে, তুমিও যেন আমার এক অভ্যেস হয়ে উঠলে—তোমাকে আমি আমার অস্তিত্বেরই অংশ করে নিলাম...আর ভুলটা সেখানেই ঘটল।

সেদিনই মনে হয়েছিল, আমার বেঁচে থেকে কী হবে?—আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশলটা আমার জানা ছিল না। কতই-না পাগলামি করতাম তোমার জন্য!

তুমি এখন অবধি আমার কতগুলো চিঠি পড়েছ, সুধীর?—এর সবকয়টিই মৃত।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *