গল্প ও গদ্য

ক্ষতের জ্যোৎস্না



সারারাত শুধু তুমি এলে ফিরে ফিরে—আসার মতো করে নয়...যেন বৃষ্টি আসে, যেন জ্বর আসে, যেন ভুলে-যাওয়া কোনো গান হঠাৎ জিভের ডগায় ফিরে আসে।

অশ্রুভেজা দু-চোখ চুপিচুপি হাসল—কেউ অন্ধকারে মোমবাতি জ্বালিয়ে রেখে চলে গেছে, শিখাটা কাঁপছে তবু নিভছে না, নিভবে না, কারণ যে-বাতাস তাকে নেভাতে চায়, সেই বাতাসই তাকে বাঁচিয়ে রাখছে।

ব্যথার সেই আলো একা জ্বলল সারারাত। বেদনা দুলতে দুলতে ছায়া ফেলল দেয়ালে—তোমার মুখের আদলে, তোমার ঠোঁটের বাঁকে, তোমার চোখের সেই অর্ধেক-বোজা বিকেলে।

কোথা থেকে একটা বাঁশি বেজে উঠল। সুরটা চেনা—অথচ এভাবে কোনোদিন শোনা হয়নি, যেমন নিজের নাম অন্যের গলায় প্রথম বার শুনলে চমকে উঠতে হয়।

আজ সেই সুর তোমার নাম ধরে ডাকল, আর ডাকটা স্মৃতি হয়ে ঘুরতে থাকল বুকের ভেতর—যেমন ঘুরতে থাকে ভাঙা ঘরে আটকে-পড়া বাতাস, বেরোনোর পথ খোঁজে, পায় না, তবু থামে না।

তারপর স্মৃতির চাঁদ নামল বুকের আঙিনায়—যেখানে একদিন উৎসব ছিল, এখন শুধু শূন্যতা শুকোচ্ছে রোদে। জ্যোৎস্না ছড়িয়ে পড়ল ক্ষতে, ক্ষতে—যতগুলো তুমি রেখে গেছ, প্রতিটিতে আলোর স্পর্শ লাগল, প্রতিটি জ্বলে উঠল; মনে হলো, ক্ষতগুলো তোমার স্পর্শ মনে রেখেছে, ত্বকের চেয়ে বেশি।

আর কোনো এক পাগল ঘুরল অন্ধগলিতে সারারাত—হয়তো আমিই, হয়তো আমার সেই অংশ, যেটা তোমাকে ভালোবেসে আর ফিরে আসতে পারেনি। কোনো এক কণ্ঠস্বর ভেসে এল—দূর থেকে, কাছ থেকে, ভেতর থেকে, হাড়ের ভেতর থেকে—চিনতে পারলাম না, না কি চিনতে চাইলাম না?

সারারাত শুধু তুমি এলে ফিরে ফিরে, আর অশ্রুভেজা দু-চোখ হাসল শুধুই—এমনভাবে, যেন কান্না আর হাসি একই শরীরে বাস করে, একই ক্ষতে, একই রাতে, একই তোমাতে।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *