সুফিরা এই অভিজ্ঞতাকে বলেন হিজাব-ই-নুরানি—আলোর পর্দা। সাধারণ হিজাব অন্ধকারের—সেখানে মানুষ আল্লাহ্কে দেখে না, জানে না, বোঝে না। কিন্তু আলোর হিজাব আরও কষ্টের—সেখানে মানুষ আল্লাহ্কে দেখতে পায়, অনুভব করে, কিন্তু ছুঁতে পারে না। নৈকট্যের এতটা কাছে এসেও একটা পর্দা রয়ে যায়—আর এ পর্দাই হৃদয়কে বেশি জ্বালায়, কারণ নৈকট্য আছে—কিন্তু সম্পূর্ণতা নেই। আহা, কী অদ্ভুত তার কাজ—দূরত্বকে নৈকট্যের বেশে দাঁড় করিয়ে দেয়।
শঙ্করাচার্যের ভাষায় এটি মায়ার সবচেয়ে সূক্ষ্ম রূপ। মায়া শুধু লুকায় না—মায়া দেখায়ও। মায়া এমন স্বপ্ন দেখায়, যা সত্য মনে হয়—যোগবাসিষ্ঠ বলে: জগৎ স্বপ্নের মতো সত্য, স্বপ্নের মতোই অসত্য। যতক্ষণ তুমি স্বপ্ন দেখছ, স্বপ্ন পুরোপুরি সত্য। জাগলেই বোঝা যায়—কিছুই ছিল না। কাচের পেছনের দৃশ্যটাও এমনই—যতক্ষণ মন ভেদ মানে, ততক্ষণ দূরত্ব সত্য মনে হয়। যখন মন শান্ত হয়, তখন বোঝা যায়—বিচ্ছেদও এক শিক্ষা, এক আয়না, এক ভুল-চেনা। কাচটা মায়া বুঝলেই বিচ্ছেদ গলে যায়। কারণ মনই ভেদ আঁকে—মনই বলে, "আমি এপাশে, সে ওপাশে।" যখন সে-মন ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ে, তখন বোঝা যায়—বাগান কখনও দূরে ছিল না, আমিই শুধু নিজের দরজার সামনে অপরিচিত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
একটা বাগানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা—গোলাপগুলো দেখা যাচ্ছে, সুগন্ধ পাওয়া যাচ্ছে—কিন্তু বাগান অন্য কারও। এই যন্ত্রণাটাই কাচের যন্ত্রণা। কিন্তু মরমি সত্য হলো—তুমি নিজেই বাগান। শুধু ভুলে গেছ, তোমার শেকড় কোথায় পোঁতা।
লালন গেয়েছিলেন: "সব লোকে কয়, লালন কী জাত সংসারে?"—লালন নিজের জাত জানে না। কিন্তু সেই না-জানাটাই তার স্বাধীনতা। কাচের সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে, সে যদি নিজের পরিচয় ভুলতে পারত—"আমি এপাশের, সে ওপাশের" এই ভেদ ভুলতে পারত—কাচ গলে যেত। কারণ পরিচয় যত পুরু হয়, পর্দাও তত ঘন হয়। আর যখন "আমি এপাশে, সে ওপাশে"—এই ভেদ নরম হতে থাকে, তখন কাচ ধীরে ধীরে কুয়াশার মতো মিলিয়ে যায়। কাচ বাইরে নেই—কাচ আমাদের মনে।
প্রজাপতি আর পিন
অনেকদিন মনে হয়েছিল—আমার ডানা আছে, কিন্তু আকাশ নেই। রং আছে, কিন্তু ওড়া নেই। আমি থেমে আছি। জীবন এগিয়ে যাচ্ছে, মানুষ নিজের নামে, সম্পর্কে, দায়িত্বে জড়িয়ে যাচ্ছে; আর আমি যেন দেয়ালে আটকানো এক প্রজাপতি—দেখতে সুন্দর, কিন্তু স্থির; রঙিন, কিন্তু অন্তরে মৃত নীরবতা। বছরের পর বছর কাচের আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিলাম। দেখেছি, জগৎ তোমাকে দাবি করে—স্ত্রী, পিতা, সংসার—এমন নামে সাজায়, যা আমার মুখে আসে না। আর আমি রয়ে গেলাম একটা প্রজাপতি—কারও সংগ্রহের বইয়ে পিন দিয়ে গাঁথা। চোখে হয়তো সুন্দর, কিন্তু নিজের স্মরণেই স্থবির।
তারপর একদিন অন্তরের আয়নায় ফাটল ধরল। সেই ফাটল দিয়েই আলো ঢুকল। আমি দেখলাম—যে-পিনকে এতদিন নিয়তি ভেবেছিলাম, তার অনেকটাই ছিল ভয়, অনেকটাই ছিল বিশ্বাসের জাল। আর আমি হাসলাম।
কাচের পেছনে কে ছিল? তুমি নও। আমিই ছিলাম। আমি নিজের ক্ষতকে মূর্তি বানিয়ে পূজা করেছিলাম। বন্ধ দরজার সামনে সিজদা করেছিলাম—অথচ দরজা কখনও বন্ধ ছিল না, আমি শুধু বন্ধ মনে করেছিলাম।
মনসুর আল-হাল্লাজ (আনুমানিক ৮৫৮-৯২২), যাঁকে "আনাল হক" (আমিই সত্য) বলার জন্য বাগদাদে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, তাঁর শিক্ষার সারকথা ছিল: শেকল শরীরে নয়, মনে। মনের শেকল ভাঙলে বাইরের শেকল নিজেই খসে পড়ে।
প্রজাপতি সত্যিই কি পিনে গাঁথা ছিল? না কি সে কেবল গেঁথে থাকার কাহিনি বিশ্বাস করে বসেছিল—পিনের ভয়ে ডানা মেলেনি?
সুফি পথে বলা হয়—সব শেকল লোহার নয়। কিছু শেকল চিন্তার, কিছু অভ্যেসের, কিছু স্মৃতির, কিছু ভয়ের। মন যা সত্য বলে মানে, মানুষ তারই বন্দি হয়। যেদিন হৃদয় দেখে—"এই ভয়, এই বন্ধন, এই অপারগতা—সবই আরোপ"—সেদিন প্রথম বাতাস ঢোকে। অন্ধকারে দড়িকে সাপ মনে হলে হৃৎস্পন্দন তো সত্যিই বেড়ে যায়—যদিও সাপের অস্তিত্ব ছিল না। বন্ধনও অনেক সময় বাস্তবের চেয়ে বিশ্বাসে বড়ো। যেদিন অন্তর দেখে—"আমার কারাগারের অর্ধেকই ছিল ধারণা"—সেদিন প্রথম বাতাস ডানায় লাগে। আর সেই প্রথম বাতাসেই প্রজাপতি জানে—আকাশ আসলে কখনও হারায়নি, বরং সে ওরকম বিশ্বাস করে নিজেই স্থির হয়ে ছিল।
অদ্বৈত বেদান্তে একে বলে অধ্যাস—আরোপ। যা নেই, তাকে আছে বলে মনে করা। রজ্জুতে সর্প দেখা—অন্ধকারে দড়ি পড়ে আছে, তুমি ভাবছ সাপ। ভয় পাচ্ছ, পালাচ্ছ, কাঁপছ—অথচ সাপ নেই। শুধু দড়ি। ঠিক তেমনি নিজের মুক্ত আত্মায় বন্ধন দেখা—বন্ধন নেই, শুধু বিশ্বাস আছে যে, বন্ধন আছে।
শ্বেতাশ্বতর উপনিষদে (৪.৩) বলা আছে: "ত্বং স্ত্রী ত্বং পুমানসি ত্বং কুমার উত বা কুমারী"—তুমিই নারী, তুমিই পুরুষ, তুমিই বালক, তুমিই বালিকা; তুমিই বৃদ্ধ, যে লাঠি ধরে হাঁটে। অর্থাৎ যাকে আমি "অন্য" মনে করছি—সে আমারই আরেকটি রূপ। আরও গভীর সত্য হলো: যে বাঁধে, যে বাঁধা পড়ে, আর যে মুক্তি চায়—এই তিনেও এক রহস্য কাজ করে। বাইরে যত ভেদ, অন্তরে তত একতা। প্রজাপতি পিনে গাঁথা ছিল না—সে শুধু ভুলে গিয়েছিল যে, পিনও সে, প্রজাপতিও সে, আর যে গাঁথছে, সে-ও সে।
সেই মুহূর্তে ভেতরে এক নীরব নেতি নেতি শুরু হয়—এটা নয়, ওটা নয়, এই পরিচয় নয়, ওই ক্ষতও নয়—এভাবে সব মুছে গেলে যে-সত্তা বাকি থাকে, সে-ই সত্যের কাছাকাছি। সেটাই ছিল নেতি নেতি—এটা নয়, এটা নয়—যতক্ষণ না যা আছে, তা নিজে থেকে প্রকাশ পায়।
পাঁচটি আবরণ
তৈত্তিরীয় উপনিষদ বলে—আত্মা পাঁচটি আবরণে ঢাকা। যেমন পেঁয়াজের খোসা—একটার ভেতরে আরেকটা।
একটি পোশাক মাটির—অন্নময় কোষ—হাড়, মাংস, রক্ত, ক্ষুধা, ক্লান্তি। একটি বাতাসের—প্রাণময় কোষ—শ্বাসের ওঠা-নামা, জীবনের উষ্ণ স্রোত। একটি মেঘের—মনোময় কোষ—ভাবনা, স্বপ্ন, ভয়, আকুলতা। একটি আগুনের—বিজ্ঞানময় কোষ—বিচার, জ্ঞান, বুঝে ওঠার আলো। আর একটি নরম সন্ধের মতো—আনন্দময় কোষ—গভীর নিস্তব্ধতার মিহি স্পর্শ। সুষুপ্তির শান্তি।
কিন্তু আত্মা এই পাঁচটির কোনোটিই নয়। সে শুধু সাক্ষী—যেমন নদী দেখে, জলে চাঁদ ভাঙে, তবু নিজে ভাঙে না। যা বদলায়, তা "আমি" নয়। যা আসে-যায়, তা "আমি" নয়। যা সব কিছুর নিচে নীরবে থেকে যায়, সেই অনামা উপস্থিতিই আসল "আমি।" যেমন পেঁয়াজের প্রতিটি খোসা ছাড়িয়ে গেলে ভেতরে—কিছু নেই! আর সেই "কিছু নেই"-ই পূর্ণ সত্তা।
তৈত্তিরীয় উপনিষদে পাঁচটি কোষের কথা বলা হয়েছে—পাঁচটি আবরণ, যা আত্মাকে ঢেকে রাখে। সুফি পরম্পরায়ও একটি কাছাকাছি ধারণা আছে—লাতায়িফ। লাতায়িফ মানে সূক্ষ্ম কেন্দ্র—ছয়টি। এগুলো শরীর ও আত্মার বিভিন্ন স্তরে অবস্থিত। সাধক যখন সাধনা করেন, এই কেন্দ্রগুলো একটি একটি করে জাগ্রত হয়—আর প্রতিটি জাগরণের সাথে অনুভবের গভীরতা বাড়ে। প্রথমে স্থূল—শরীরের অনুভব। তারপর সূক্ষ্মতর—হৃদয়ের অনুভব। তারপর আরও গভীর—আত্মার অনুভব।
পঞ্চকোষ আর লাতায়িফ এক জিনিস নয়। দুটোর দার্শনিক ভিত্তি আলাদা—একটি বেদান্তের, অন্যটি সুফি তরিকার। কিন্তু দুটোর দিক একই। দুটোই বলছে—মানুষের সত্তা বহু স্তরে ঢাকা। বাইরে সবচেয়ে মোটা আবরণ—দেহ। তারপর প্রাণ। তারপর মন। তারপর বুদ্ধি। তারপর আনন্দ। সুফি পথেও স্থূল থেকে সূক্ষ্মে, সূক্ষ্ম থেকে গোপনে, গোপন থেকে উৎসে—এই ফেরার যাত্রা। দুই পথের ভাষা আলাদা, কিন্তু পায়ের নিচের মাটি এক।
পেঁয়াজ যেমন—একটা খোসা সরাও, আরেকটা আসে। আরেকটা সরাও, তার নিচে আরেকটা। শেষপর্যন্ত সব খোসা ছাড়ানো হলে হাতে কিছুই থাকে না। কিন্তু সেই "কিছু না" আসলে শূন্যতা নয়—সেই "কিছু না"-ই পূর্ণতা। সেখানে অহংকার নেই—"আমি বড়ো" নেই। নাম নেই—"আমি অমুক" নেই। দাবি নেই—"আমার এটা চাই" নেই। শুধু বিশুদ্ধ থাকা—কোনো বিশেষণ ছাড়া, কোনো পরিচয় ছাড়া, শুধু আছি। সেখানে "আমি" শব্দটিও মাথা নত করে—"আমি" বলে যে-অহং ছিল, সেটাও সেই পূর্ণতার সামনে নিজেকে সমর্পণ করে।
সারকথাটা ধারালো—তোমার সত্তার যে-অংশটা কেটে ফেলা যায়, কাটো—নাম কাটো, পদবি কাটো, স্মৃতি কাটো, অভিমান কাটো, ভয় কাটো—সেটা "তুমি" নও। সেটা খোসা। আর যা কাটতে কাটতেও কাটা যায় না—যা সব হারানোর পরেও রয়ে যায়—সেটাই আসল তুমি।
দোঁহা: পিনের ভয়েই থেমে ছিল রঙিন ডানার নাচ, চোখ খুলে উড়ে গেলে দেখে—আকাশ ছিল তারই কাছে।
দোঁহায় সেই সত্যই প্রজাপতির রূপ নিয়ে আসে। প্রজাপতি পিনে গাঁথা—সুন্দর ডানা আছে, রঙিন, উজ্জ্বল—কিন্তু সে উড়ছে না। পিন তাকে ধরে রেখেছে বলে মনে করে। ভয় পাচ্ছে—নড়লেই ব্যথা হবে, নড়লেই ডানা ছিঁড়বে। তাই রঙিন ডানার নাচ বন্ধ। কিন্তু একদিন সে চোখ খোলে, সাহস করে ডানা মেলে—আর উড়ে গিয়ে দেখে, আকাশ তো তারই কাছে ছিল। আকাশ কোথাও যায়নি—শুধু প্রজাপতি ভয়ে চোখ বন্ধ রেখেছিল।
পিন হলো আমাদের ভয়, আমাদের ধারণা, আমাদের "আমি পারব না।" ডানা হলো আত্মার স্বাধীনতা। আকাশ হলো সত্য—যা চিরকালই কাছে, শুধু আমরা চোখ খুলি না। প্রজাপতিকে কেউ বন্দি করেনি—সে নিজেই নিজেকে বন্দি ভেবেছিল। আর সেই ভাবনাটাই ছিল একমাত্র পিন।
সমুদ্র পার করা নয়—সমুদ্র হয়ে যাওয়া
"আমি তোমাকে ভুলে গেছি"—এই কথাটা শুনে হৃদয় বুঝল না, ওপরে উঠবে না নিচে পড়বে। সে লাফ দিল। ডুবল।
তারপর একদিন নিজেকে বললাম—আমিও এই সমুদ্র পার হব।
শুনে সমুদ্র হাসল। তখন জীবনকে মনে হলো এক বিশাল সমুদ্র, আর নিজেকে মনে হলো তীরে দাঁড়ানো এক ক্লান্ত পথিক। সমুদ্র বলল: তুমি আমাকে পার হবার জন্য তৈরি হওনি। তুমি আমাতে মিশে যাবার জন্য তৈরি হয়েছ।
এটাই ফানার প্রথম ইশারা। সমুদ্র শুধু পেরোতে বলে না—ডাকে: এসো, মিশে যাও। ফানা মানে ধ্বংস নয়, বরং সঙ্কীর্ণ সত্তার বিলয়—এমন বিলুপ্তি, যা রূপান্তর। ফোঁটা যখন সমুদ্রে মেশে—ফোঁটা কি মরে? না—ফোঁটা সমুদ্র হয়ে যায়। হ্যাঁ, তার একলা নাম হারায়—কিন্তু সে তখনই তো বিস্তার পায়। লবণ যখন জলে মেশে—লবণ কি শেষ হয়? না—লবণ পুরো সমুদ্রের জিভ জিতে নেয়।
কবীর (আনুমানিক ১৩৯৮-১৫১৮) বারাণসীর একজন তাঁতি-সন্ত—হিন্দু-মুসলিম উভয় ঐতিহ্যের ঊর্ধ্বে উঠে দাঁড়ানো ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মরমি কবি। তিনি একটি বিখ্যাত দোঁহা বলেছিলেন: "হেরত হেরত হে সখী, রহা কবীর হেরায় / বুন্দ সমানী সমুন্দ মেঁ, সো কত হেরী জায়", অর্থাৎ, খুঁজতে খুঁজতে কবীর নিজেই হারিয়ে গেল। ফোঁটা মিশে গেল সমুদ্রে—এখন তাকে কোথায় খুঁজবে?
গীতায় (১৫.৭) কৃষ্ণ বলেন: "মমৈবাংশো জীবলোকে জীবভূতঃ সনাতনঃ"—জীবলোকে প্রতিটি জীব আমারই সনাতন অংশ। এটা পুরো গীতার সবচেয়ে কোমল স্বীকারোক্তিগুলোর একটি—কৃষ্ণ বলছেন: তুমি আমার অংশ। সনাতন অংশ—যে অংশ কখনও বিচ্ছিন্ন হয়নি। ফোঁটা সমুদ্র থেকে আলাদা মনে হয়—কিন্তু সে সমুদ্রেরই জল। কবীরের "বুন্দ সমানী সমুন্দ মেঁ" এই শ্লোকেরই কাব্যিক ভাষ্য—ফোঁটা মিশে যায় না, ফোঁটা মনে করে সেই সত্য, যা সে ভুলে গিয়েছিল: আমি চিরকালই সমুদ্র ছিলাম।
তুমি যতদিন নিজেকে শুধু "আমি"—এই ছোটো সীমায় জানো, ততদিন সব কিছু আলাদা লাগে—তুমি পর, সে পর, প্রিয়ও পর, প্রভুও পর। কিন্তু একদিন হৃদয় কেঁপে ওঠে—এ কেমন বিভাজন! যার খোঁজে আছি, তারই নিঃশ্বাসে তো আমি জেগে আছি। কিন্তু যখন হৃদয় অনুভব করে—আমি বিচ্ছিন্ন নই, উৎস থেকে আলাদা নই—তখন বিরহও রূপ বদলায়।
ফানা তাই মৃত্যু নয়—এ অন্তরের এক প্রসার। ছোটো "আমি" সরে গেলে বড়ো সত্য জেগে ওঠে। "আমি" মরে যায়—কিন্তু "আমি"-র চেয়ে বড়ো যা ছিল, তা বেঁচে ওঠে।
শূন্যের সপ্তক: ৮
লেখাটি শেয়ার করুন