কোন রঙে লেখা যায় তোমাকে ঘিরে আমার অনুভূতিগুলো? শব্দের গভীরেও কি স্পষ্ট হয় তোমার স্পর্শ—সেই স্পর্শ, যা ত্বকে নেই, কিন্তু ত্বক মনে রাখে, যেমন মনে রাখে শীতের প্রথম কাঁপুনি, যেমন মনে রাখে জ্বরের ঘোরে কারও হাতের শীতল ছোঁয়া কপালে?
তুমি কি আজ একবার আসবে?—যেমন আসে পাখির ডাক ভোরের অন্ধকার ফুঁড়ে, হারিয়ে-যাওয়া কোনো সুর...যা কেউ গুনগুন করছে পাশের ঘরে, কিংবা পুরোনো অভ্যেসে মিশে-যাওয়া এমন কোনো গল্প—যার শুরু মনে আছে, শেষ কেউ জানে না, তবু বলা থামে না।
ক্ষণিকের কিছু মুহূর্ত আমাদের স্মৃতিকে করে পরিপূর্ণ—যেমন পাখির পালক হালকা, প্রায় কিছুই নয়, বাতাসে উড়ে যায়, তবু সেই প্রায়-কিছুই-নয় জিনিসটুকু ছাড়া পাখি উড়তে পারে না, আকাশ তার হয় না; ঠিক তেমনই, অভ্যস্ততা প্রত্যাশার ভার বাড়ায়, ক্ষয় করে, ক্লান্ত করে—তবু সেই অদৃশ্য বন্ধনই, সেই রোজকার পাশে-থাকাই, মনের ভেতরে যে-অসুখ চুপচাপ বাসা বেঁধেছে, তাকে সারিয়ে তোলে এমন ধীরে, এমন নিঃশব্দে যে, সুস্থ হওয়ার সময়টাতে আলাদা করে কিছু টের পাওয়া যায় না।
ক্ষণে ক্ষণে ঝরে পড়ে অস্তিত্বের বৃষ্টি—ফোঁটায় ফোঁটায়, পাতায় পাতায়, যেমন ঝরে গাছ থেকে পাতা—কেউ কুড়োয় না, কেউ গোনে না। কেউ আসেনি কখনও অপেক্ষার শেষে—অপেক্ষাটাই শেষ, অপেক্ষাটাই গন্তব্য।
আমি লিখতে পারিনি তোমায়—যেমন শুকোয় না চোখের একদম গভীরে গিয়ে-আটকে-যাওয়া জল, যা গড়িয়ে পড়ে না, যা কেউ দেখে না, যা নিজেও জানে না, কবে থেকে আছে। কেউ দেখে না আমার ভেতরে বেঁচে-থাকা তোমাকে, শুনতে পায় না কেউ সেই সমস্ত না-বলা কথা—যা ফিরে ফিরে আসে আঙুলের ভাঁজে লুকোনো গন্ধে, খাতার মলাটে চাপ-দেওয়া শুকনো ফুলে, ভেজা চোখের কাজলে, যা ছড়িয়ে যায় গালে—কালো অক্ষরে, অপঠিত ভাষায়।
পালকের ভার
লেখাটি শেয়ার করুন