বাংলা কবিতা

শেষ আশ্রয়



বুকের ভেতর ত্রিশ বছরের পুরোনো একটা সিন্দুক আছে;
এই নাও, আজ তোমায় দিলেম—যতনে রেখো।

একজীবন ধরে লুকিয়ে রেখেছি এ রতন।
কাউকে জানতে দিইনি, পড়তে দিইনি;
আজ তোমায় দিলেম।

এই ভার এবার নামাতে দাও আমায়,
সেখানে দেখবে এক অবহেলিত প্রাণ।
ভুল আদরের ক্ষত তার সারাশরীরে।
দিনের পর দিন অভুক্তে জীর্ণ,
জ্যৈষ্ঠের শুষ্ক জমির মতো ফেটে আছে ঠোঁট তৃষ্ণায়।

তাকে তোমার বুকে রেখো—
নরম চারাগাছের মতো করেও সে মাথা উঁচু করবে না,
তবুও তুমি সবুজ থাকবে।

তার কপালে হাত দিয়ে দেখো,
লেপটে-থাকা জ্বরে তুমি চমকে যাবে;
ওখানে কোনোদিন জলপট্টি পড়েনি,
রক্তলাল ওই চোখে কেউ কখনও তাকায়নি মমতায়।

জন্মাবধি আমি কিছুই দিতে পারেনি তাকে।
তুমি ওকে আদরে রেখো?
বড্ড অভাগী সে—
তুমি একটুকু কাছে নিলেই
তোমার পায়ে বিশ্বাসের আঁচল পেতে দেবে।

দশ হাজার নয়-শো পঞ্চাশ দিন লড়াই করেও
ভিটেমাটি পায়নি যে নিজের,
তাকে আর ফিরিয়ে দিয়ো না।

যদি কেউ একবার বলে, “ভালোবাসি",
বাকিটা জীবন তার মাঝেই রয়ে যাবে সে নিশ্চুপ।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *