এই পথ দিয়ে আমার হেঁটে যেতে হয় প্রায়ই। তবু, আজ অন্যরকম লাগছে...কিছুক্ষণ আগেই অদ্ভুত এক কল্পনা আমায় ঘিরে ছিল, লিখেছিও বেশ খানিকটা সময় নিয়ে, চোখে পানি ছলছল করছিল!
সেই মায়াময় কল্পনা থেকে নিখুঁত মনোযোগ সরিয়ে, চোখমুখে পানি দিয়ে এলাম। ঘণ্টাখানেক পর এখন বাকি অংশটা লিখব বলে ঠিক করেছি, তবে...লেখাটা খুঁজে পাচ্ছি না আর। অনেক আগেও একবার এমন হয়েছিল...ব্যাপারটা ভীষণ আশ্চর্যজনক! এখনও ঘোর লেগে আছে, বিষয়টি অস্পষ্ট।
এই পথটি বড়ো নির্জন। এবার, খালি পায়ে হাঁটতে শুরু করলাম...পাতার মরমর শব্দে প্রকৃতি নির্জনতা ভাঙতে চাইছে, কিন্তু সয়ে নিচ্ছে।
এই বৃক্ষরাজির দিকে তাকিয়ে আমার মধ্যে এক আশ্চর্যজনক উপলব্ধি ফিরে আসে...গাছগুলোর পাতা ঝরে যাচ্ছে ধীরেই...ওরা তবু কেমন নির্বাক দাঁড়িয়ে আছে। শীতের শেষ সময়েই কেন গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়ে? প্রকৃতির নিয়মগুলো প্রচণ্ড যথাযথ।
বৃক্ষের সাথে মানুষের বড়ো মিল খুঁজে পাই আমি—এই যে ঝরে-পড়া পাতাগুলো...মনে হয় জীবনেরই একেকটি ছোটো-বড়ো অধ্যায়। জীবন্ত যে-কোনো প্রাণী, মানুষ কিংবা গাছের মধ্যেও সামান্যতম অনুভূতির স্থায়ী সঞ্চার যেন সৃষ্টির এক সূক্ষ্ম রহস্য।
অনুভূতিহীন ব্যক্তি আর প্রাণহীন কোনো জড়বস্তু একই রকমের...আচ্ছা, অনুভূতির প্রকাশ কি খুব সহজেই হয়? বৃক্ষরা কাঁদে না, হাসে না, কিন্তু কতখানি ব্যথা পায়?
পাখিরা ঘরের বারান্দাটা আজ ঘেরাও করেছে...ভীষণ ছুটোছুটি করছে; ওদের অনুভূতির প্রকাশের ধরন কতটা ভিন্ন! মানুষের কত সৌভাগ্য—এরা দুঃখে, আনন্দে, ভীষণ যন্ত্রণাতেও চাইলে হাসতে পারে।
আচ্ছা, আকাশের সাথে কি মানুষের অনুভূতির কোনো মিল রয়েছে?—আজ বহুদিন পর আকাশে মেঘ করেছে...বোধ হয় ঝুম-বৃষ্টি নামবে; আচ্ছন্ন মেঘ সরিয়ে বৃষ্টি নামার মুহূর্তটা আমাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করে; জানি না, কতখানি কষ্ট স্তূপাকারে জমা হলে মানুষ কাঁদতে পারে!
একজন ভালো শ্রোতা জীবনের অধিকাংশ সময় কেবল উপলব্ধির দ্বারাই কাটিয়ে দেয়; কিন্তু একজন অসাধারণ অনুভূতিসম্পন্ন মানুষ নিজেকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে...বৃক্ষের মতন। সহ্যক্ষমতা আর সহ্য করে যাওয়া এই দুইয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে; এটি বোঝা সহজ—শুধু নিজেকে একবার ক্ষমা করতে শিখুন।
পাতাঝরা দিনলিপি
লেখাটি শেয়ার করুন