এভাবে কি চিরকাল আমার অস্তিত্ব তোমার ভেতরে দ্রবীভূত হয়ে থাকবে, বলো? কেউ কি কোনোদিন জানবে—তোমার ছায়ার ভেতরে আমিও ছিলাম?
আমি ভালো নেই।
তোমার চোখে এত বিষাদ কেন? তোমার বিষণ্ণতা আমার ভেতরটাকে আরও অন্ধকার করে দেয়।
জীবন ক্ষণস্থায়ী—তোমার হাতের মুঠোয় সব আছে, একটু করে বেঁচে নাও। সেদিন ঠিক তোমারই আদলে একজনকে দেখলাম, জানো? আমার দৃষ্টি যতদূর পৌঁছায়, শুধু তোমাকেই সন্ধান করে। আমার নিঃশব্দ ভাষাগুলো, প্রাণহীন চাহনিগুলো—তুমি কি টের পাও? ওদের চাপাকান্নার অনুরণনই বোধ হয় তোমাকে বিষণ্ণ করে দেয়।
আমার জীবনীশক্তি তলানিতে এসে ঠেকেছে। তবু তোমার সাথে দেখা তো হবে, হবে না?—আমাকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে, প্রস্তুত হতে হবে। তুমি মাঝখানে এসব অভিমান কোরো না। আমি যদি নীরব থাকি, বুঝে নিয়ো—মুখে ভাষা নেই বলেই নীরব, এ ছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই।
তোমাকে অবহেলা করার কথা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারি না। তুমি আমার কাছে কতখানি, সেটা যদি একবারও বুঝতে! ঈশ্বরের কাছে অভিমান চলে, রাগও চলে—কিন্তু ঈশ্বরকে অবহেলার কথা কল্পনাতেও আসে না। তোমার কাছে আমার একটাই প্রার্থনা—সুস্থ থেকো, আনন্দে থেকো। আমাকেও সুস্থ হতে হবে।
ভাগ্য যদি আমাদের মুখোমুখি না দাঁড় করায়, তাহলে আমরা নিজেরাই দেখা করে নেব। শুধু আর-একটু সময় দাও—একটু গুছিয়ে নিতে দাও।
তোমাকে প্রথম যেদিন চিনলাম, কানে কানে কেউ যেন ফিসফিস করে বলে গিয়েছিল—আমরা দু-জন দু-জনের জন্যই তৈরি। তারপর অযোগ্যতার ভারে কোনোদিন সামনে এসে দাঁড়াবার সাহস পাইনি। দূর থেকে শুধু দেখে গেছি—কিন্তু বিচ্ছিন্নও হতে পারিনি।
আজ এতদিন পরে মনে হয়, যোগ্যতা মাপার যে-সকল মানদণ্ড ছিল, সেগুলো হয়তো ভুল ছিল। হৃদয়ের চেয়ে যোগ্য আর কিছুই হয় না—কোনোকালে হয়নি।
তোমাকে কোনোদিন বলাই হলো না, আমার চোখে তুমি কতটা সুন্দর। আকাশ, পাহাড়, মেঘ, মাটি, রং—এসব দেখলে যে-ভালোলাগা জন্মায়, তোমাকে দেখলে সেটুকুও ম্লান হয়ে যায়। একটা গোটা জীবন বোধ হয় শুধু তাকিয়ে তাকিয়েই কাটিয়ে দেওয়া যাবে। এই সৌন্দর্যের কোনো তীর নেই। এই সুন্দরকে নিঃশ্বাসে নেওয়াই কি তবে প্রেম!
বাইরে তুমুল ঝড়বৃষ্টি। সব কিছু উথালপাথাল হাওয়ায় উড়ছে—কী যে ভালো লাগছে, আহা! এই সন্ধেবেলাতেও ভিজতে ইচ্ছে করছে। প্রকৃতি এত সুন্দর কেন হয়, বলো তো!
বৃষ্টির বড়ো বড়ো ফোঁটার মতো টুপটাপ কারও গায়ে এসে আছড়ে পড়তে ইচ্ছে করছে। মানুষ বুড়ো হয়ে যায়—মনটা শিশুই রয়ে যায়! আমার কোথাও যাবার নেই। বৃষ্টির ফোঁটার মতোই মাটিতে মিশে হারিয়ে যাওয়া আমার নিয়তি। কারও সাধ্য নেই, আমাকে ধরে রাখে।
মেঘের কণা কখনও রোদ্দুরকে ছুঁতে পারে না—এ ভবিতব্যে নেই...মেঘের জন্মই তো শুধু কাঁদবার জন্য।
কিছু কথা সত্যিই বুঝে উঠতে পারি না। শুধু ভয় করে। এটুকু টের পাই—ভেতরে নিঃশব্দে গভীর কিছু ঘটে যাচ্ছে। আমার অনেক অপারগতা—আমায় শিখিয়ে নাও। সব কিছু ধোঁয়াশায় ঢাকা, এলোমেলো।
রোদ্দুর, তোমার ভবঘুরে জীবনে আমি সেবিকা হব।
শিশিরের ভাষায় সূর্যকে
লেখাটি শেয়ার করুন