হ্যালো! আসলে একজনের কাছ থেকে আপনার একটা দারুণ গল্প শুনলাম। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাক্সেপ্ট করলে খুশি হব। অবশ্য, না করলেও কোনও প্রবলেম নেই। কারণ, গ্রেট কারও ফলোয়ার তো অন্তত হওয়াই যায়!
হাই! আসলে আমি কারও কাছ থেকেই আপনার কোনও গল্প শুনিনি। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাক্সেপ্ট করে আপনাকে খুশি করলাম, না করলেও প্রবলেম হত না। কারণ, আপনার পরিচয় তো অন্তত জিজ্ঞেস করাই যায়!
ওহ্! আসলেই তো! আমার তো কোনও দারুণ গল্পই নেই! তাই শোনারও প্রশ্নই আসে না! আর আমার পরিচয় যদিও ফেসবুকে কিছুটা আছে, তবু আপনি যেহেতু জিজ্ঞেস করলেনই, সেক্ষেত্রে বলছি, মানুষ তো নিজেই নিজের পরিচয় সবটা জানে না, সক্রেটিসের কাল থেকে মানুষের এ ব্যর্থতার রূপটা চোখের সামনে এসে পুরনো ক্ষতটার মত জ্বালিয়ে মারছে…………তবু যতটুকু জানি, সোসাইটি গিফটেড আইডেন্টিটি হচ্ছে, জন্মসূত্রে হিন্দু (যদিও আমি একেশ্বরে বিশ্বাসী), জন্মেছি কুষ্টিয়ায়, এখন থাকছি ঢাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কাজে। আর হ্যাঁ, আমার বোরিং এমবিএ শুরু হয়েছে সবেমাত্রই—ম্যানেজমেন্ট, ঢাবি’তে। আর তেমন কিছু নেই। ওঃ আরেকটা ব্যাপার! ঈশ্বর প্রদত্ত দৃশ্যমান পরিচয়: স্ত্রীলিঙ্গের প্রাণী, উচ্চতা ৫ ফুট সাড়ে ৬ ইঞ্চি, ওজন ৫৮ কেজি, চোখের রঙ কালো, চুলের রঙও তা-ই, এইতো! থ্যাংক ইউ!
বাহ্! এতো সুন্দরভাবে পরিচয় দিয়েছ! তোমার এসএসসি কোন সালে?
দুহাজার সাতে, মানে বুড়ি হয়ে গেছি প্রায়! (মেয়েদের বয়স সরাসরি জিজ্ঞেস করাটা ভদ্রতা নয় বলেই জানতে চাওয়া নাকি?)
আমি তো তাহলে ঘাটের মড়া! (ব্র্যাকেটের কথার উত্তর ব্র্যাকেটে দিলাম না; যেমন ইচ্ছে, সুবিধেমত একটা কিছু বুঝে নিন।)
হাহা! ঘাটে সবকিছু সাজাচ্ছে! কোনও কিছুরই কমতি পড়বে না। ও নিয়ে কোনও টেনশনই করবেন না! ওঃ না! ভুল বলেছি! শুনেছি, ছেলেরা নাকি কক্ষনো বুড়ো হয় না? অন্তত বাংলাদেশের ছেলেরা নাকি সারাজীবনই টগবগে তরুণ থেকে যায়?
নাহ্ আমি আসলেই বুড়ো হয়ে গেছি! আমার এসএসসি দুহাজারে। থাকি দিনাজপুরে, হাইট ৬ ফুট। চোখ এবং চুল, দুইই কালো। হাত দুটো, পা দুটো, কান দুটো। দাঁত ৩২টা।
আরে নাহ্! আপনি যদি বাংলাদেশি হয়ে থাকেন, তবে কখনওই বুড়ো হবেন না!
আহা, শেষ করতে দাও না! হাতের আঙুল ১০টা………
ওহ্ আমার দাঁত ৩০টা!
পায়ের আঙুল মাত্র ১০টা………
আর আমার হাত আর পা মিলিয়ে মাত্র ২০টা আঙুল! ভাবা যায় কত কমে বেঁচে আছি!
দাঁত দুটো কোথায় গেছে?
ইসস্ আমার আঙুল আর কয়েকটা যদি হত! আর দাঁত দুটো এখনও ওঠেইনি। ওই দুটো নাকি আক্কেল দাঁত! আক্কেল হোক আগে, এরপর উঠবে!
তুমি কোথায় থাকো?
মানে, আমার আক্কেল এখনও হয়ইনি!………আমি ঢাবি’র হলে থাকি।
কোন হল? গ্রাড কোথা থেকে?
বিকেএমএইচ।
এটা কী?
বলেন দেখি, কী? আমাদের হলেরই নাম।
বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল। গুগল জানাল।
হ্যাঁ, ঠিকই বের করেছেন। হাসপাতালই তো!
মানে, তুমি কি ডক্টর?
কেন? হাসপাতালে কি কেবলই ডাক্তার থাকে? নার্স, রুগী, ওরা সবাই কই যাবে? ধরে নিন, আমি রুগী!
ধ্যত্! হেঁয়ালি রাখো! তুমি নার্সিং-এ পড়ছ?
আমি নার্সিং পড়িনি, তবে নার্সদের পড়াই।
মানে? আমি কিছুই বুঝিনি।
আমি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়ছি। হাসপাতাল তো বিজনেসও করে, তাই না? সেখানেও ম্যানেজমেন্টের কিছু ব্যাপারস্যাপার আছে। আমি ওদের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ম্যানেজমেন্টটা দেখি। বুঝলেন?
মানে?
আরেহ্! প্রাইভেট হাসপাতাল তো বিজনেস করে, ওরা ইন্টারন্যাশনাল কাস্টমার ইনভাইট করে। তাদের হ্যান্ডেল করার জন্য ওরা আমাকে হায়ার করেছে। এইবার কিছু বুঝলেন?
না বুঝিনি। আমি এরকম কিছু কখনওই শুনিনি!
আর আমিও বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল বলে যে কিছু আছে, তা শুনিনি কখনও!
উফফফ্!!
বুঝলেন? আমি তো বুঝেছি! হুহ্!
ঠাট্টা বন্ধ করো। মাইর চিন, মাইর? গররর্!!
হ্যাঁ, খুব চিনি! খুব মাইর দিতে পারি! হাহা………
তোমাকে পিটাবো! তোমার চুলে উকুন হবে!
আচ্ছা, ঠিক আছে।…………উকুন নেই, আপনি শিওর?
তোমার বামচোখটা আরও বেশি ট্যারা হয়ে যাবে! তোমার পেট ব্যথা করুক! উফফফ্!!
ওহ্ নাআআআআআ!
পাজি মেয়ে একটা!
মাফ চাই! হুহ্! আমি তো খুব ভালো!
কানে ধরে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকো!
কীভাবে? আমার তো দুই পা! এক পায়ে তো কখনও দাঁড়াইনি। জানি নাতো এক পায়ে কীভাবে দাঁড়ায়!
এক পা তুলে রাখবে, এক পা নামিয়ে রাখবে। ব্যস্!
এক পা কোথায় তুলে রাখব? কে ধরে রাখবে সেই পা’টা? পড়ে যাব তো! সো, দুই পায়েই দাঁড়াই! হুহ্!
হবে নাআআআআআ! এক পায়েই দাঁড়াও! পচা মেয়ে একটা! আর শোনো, তোমাকে আমার কথা কে বলেছে?
তাহলে তো পড়ে গিয়ে ব্যথা পাব! আমাকে আপনার কথা একটা ভালো অ্যানিমেল বলেছে!
আজব! ভালো অ্যানিমেলের নাম নাই? ওর নাম বলো।
ওর নাম নাই। ভালো অ্যানিমেলের নাম ভালো অ্যানিমেল। এই যে! আপনার লেখাগুলো কিন্তু সত্যি দারুণ!
আমি জানি! কোন লেখাটা পড়েছ?
বাব্বাহ্! নিজের প্রশংসা নিজেই…………আর হ্যাঁ, রিসেন্টগুলো পড়েছি।
নোটস্-এর গুলো পড় নাই?
এখনও না, মানে, মাত্র কালকেই তো আপনাকে খুঁজে পেলাম। এখন আস্তেআস্তে পড়ে ফেলব। পড়তে আর কতই বা সময় লাগবে!
আচ্ছা। কোনটা ভালো লেগেছে?
যা পড়েছি এখনও পর্যন্ত, সবকটাই ভালো লেগেছে। তাই নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না।
সব ভালো লাগে নাকি আবার? এমন তো হয় না। বোকাবোকা কথা বলছ কেন?
সত্যি বলছি, যা পড়েছি, তার সবই ভালো লেগেছে।
আচ্ছা।
এই যে আপনার জিএফ-এর লেখাটা, ওইটাও ভালো।
এখন যেটা আছে, সেটা পড়েছ?
পড়েছি। ওটা তো চরম! ওই যে………চিরদিনই তুমি যে আমার, ওইটা তো?
হ্যাঁ, ওটাই।
দারুণ লিখেছেন।
টেল মি সামথিং আই ডিডন্ট নৌ!
আমার সব কিছুই পড়তে ভালো লাগে, এক ক্লাস টেক্সট ছাড়া। সো, এই ভালোলাগাটা অভিনব কিছু নয়।
ক্লাসটেক্সট পড়তে কার ভালো লাগে?
আগে লাগত কিন্তু! সত্যি! এখন আর লাগছে না। তবে আমার ভালোলাগা দরকার। কী করি, বলেন তো?
কেন লাগা দরকার? ফার্স্ট হতে হবে নাকি? এক মিনিট! তুমি কি ফার্স্টগার্ল টাইপের কিছু নাকি?
কী যে বিশ্রী রকমের এক্সপেক্টেশন করে সবাই আমার উপর, আপনি তা ভাবতেও পারবেন না! তাই আরকি! আমি নাকি ভার্সিটির ফ্যাকাল্টি হতেই জন্মেছি! হাহাহাহা………
এই! তুমি আবার পড়াশোনার আলাপ শুরু করলে কেন? আমি যাই………পালাই! পড়াশোনার আলাপ অসহ্য লাগে আমার!
নাহ্ আমি ফার্স্টগার্ল টাইপের কিছু না। তবে কীভাবে-কীভাবে যেন সেকেন্ড হয়ে বসে আছি!
টা টা।
এই এই! কই যাচ্ছেন? ওকে ওকে, নো পড়াশোনা, নো ক্লাসটেক্সট!
ভেরি গুড! ভার্সিটিতে আমার সিজিপিএ ছিল ২.৫৯, তাও আবার ট্রিপল-ই থেকে! কী বুঝলে?
কিছুই বুঝিনি। যার যার জীবন, তার তার। এটা আমি মানি। যে যেমন করে থাকতে চায় আরকি! সবাইকেই এসব অনার্স মাস্টার্স করতেই বা হবে কেন? আমি তো বুঝি না! ভালোমানুষ হতে কি ভালো রেজাল্ট লাগে নাকি? ভালোত্বের কোনও সিজিপিএ হয় না।
তার মানে, তুমি আমার কাহিনি কিংবা ঘটনা, কিছুই বুঝতে পারোনি!
আপনি দাবি করছেন, আপনি খারাপ স্টুডেন্ট। ওকে ফাইন! আমিও খারাপ স্টুডেন্ট হতে চাই। কিন্তু আমি তো ওরকম হতে পারছি না। আমাকে এর জন্য কী করতে হবে, বলেন দেখি!
না না, খারাপ হতে হবে না। ভালোওওওওওও করে পড়ো!
কেন যে কিছুতেই কিছু হচ্ছে না! আমার পড়াশোনাই তো হচ্ছে না ঠিকমতো!
আবার শুরু হয়ে গেছে! তুমি পড়াশোনার কথা ভাবো, আর মুড়ি খাও!
না, আমি পড়বো না। আমি এখন আপনার সাথে বিজি, সো, এখন নো পড়াশোনা! ওকে?
আচ্ছা, ঠিক আছে।
আচ্ছা, আপনি কী কী পছন্দ করেন?
(উত্তর নেই।)
আমি অনেক কিছুই পছন্দ করি! ন্যাচারাল ব্যাপারগুলিই বেশি। এই যেমন, পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র, নদী, গ্রাম, হ্রদ। এরকম। আরও কত কিছু যে ভালো লাগে আমার! আমার ভালোলাগানোর ক্ষমতা অসীম!
(উত্তর নেই।)
আচ্ছা, আপনি তো আপনারটা বললেন না! বেশি পার্সোনাল প্রশ্ন হয়ে গেছে? ওকে, তাহলে বলা লাগবে না। ভালো থাকবেন। টা টা।
আছো? কোথায়???? আমি একটু ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম, তাই রিপ্লাই করতে পারিনি।
ও আচ্ছা।
আমার পছন্দের তালিকাটাও ওরকম। প্রকৃতি আমিও ভীষণ ভালোবাসি। এখন একটু আসি, কেমন? আমি এসেই নক করব তোমাকে।
ওকে, বাই বাই।
………………………………
হ্যালো! আপনি কি এখনও কাজে? অফিসে?
বাসায় ফিরছি।
আপনাদের এতো সময় ধরে ডিউটি করতে হয় কেন?
আজ রাতে ঢাকায় আসছি। আর অতো সময় অফিস করতে হয় না, ৫টায় অফিস শেষ হওয়ার কথা, কিন্তু মাঝেমধ্যে কাজের চাপে বেরোতে পারি না অফিস থেকে।
কেন আসছেন? কয়দিন থাকবেন?
অফিসের কাজে। শনিবার সন্ধ্যায় ফেরার কথা।
এ কেমন চাকরি?
কেন? কী হয়েছে?
কী হয়নি, তা বলুন! আজ এখানে তো কাল ওখানে!
বললামই তো, কাজে আসছি! দুইদিন লাগবে কাজ শেষ করতে।
বুঝলাম তো! আপনার অফডে নেই, সেটা বলেছি।
হাহাহাহা………এইবার বুঝেছি। না, তা নয় আসলে। এই সপ্তাহে একটু কাজ করতে হচ্ছে। শুক্র আর শনিবার এমনিতে অফ থাকে। আমাদের অফডে মানে কিন্তু অফডে-ই!
বুঝিনি। আপনার ফিক্সড কোনও উইক্লি হলিডে নাই?
হলিডে নাই…………মাই ফুট! তোমাকে আর বুঝতে হবে না। তুমি পড়াশোনা না করে এখানে কী?
এই যে আপনি, তাই…………
আমি কী?
আমি এতো পড়ি না, বুঝলেন?
ভালো!
আমি ফেসবুকেও সারাক্ষণ থাকি না।
তাহলে কী কর?
আজ মন ভালো নেই। তাই মানুষের হাসিখুশি ছবি দেখি।
কেন? কী হয়েছে?
তেমন কিছুই না, আবার অনেককিছুই।
আমাকে বলো, শুনি। বিএফ-এর সাথে ঝগড়া?
লাস্ট ৩ মাসে আমার শখের ২টা ফোন চুরি হয়েছে। আর বিএফ-টিএফ মার্কা অতো ছোট কাজে মনখারাপ করার মত সময় আমার নেই।
ও আচ্ছা, এই কথা!
হ্যাঁ, শেষটা চুরি হল এই ৩০ অক্টোবর। মনখারাপ করে কোনও পুজো মণ্ডপেও যাইনি।
আহারে!
ফোনের দুঃখ ভুলে যেতে চাইছি, কিন্তু আশেপাশের ফ্রেন্ডদের দেখে মন আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
মানে? বিএফ-এর সাথে গল্প করতে পারছ না, তাই?
ধুউর্! তা নয়। আজ দেখি, আমার স্টুডেন্ট আমারটার মত একটা ফোন কিনেছে।
তাই মন খারাপ হয়েছে?
আমার নিজের গালে জোরে একটা থাপ্পড় লাগাতে মন চাচ্ছে।
লাগাও, নো প্রবলেম। আগে কোন গালে লাগাবে ঠিক করেছ?
মন চাইলেই কি লাগাতে হবে?
আরে লাগাও না! কী আছে আর জ্যাবনে! আর ভালো কথা, একটু জোরেই লাগিয়ো, কেমন? নাহলে ব্যথা পাবে না, কোনও লাভও হবে না।
লাগালে অনেক ব্যথা লাগবে তো! লাগাব না, থাক।
না না, এই ভুল কোরো না, লাগাও, লাগাও! কিচ্ছু হবে না, ব্যথা তো একটু করবেই! কোনও ব্যাপার না!
নাআআআআআআ…………ব্যথা লাগলে কষ্ট হয়।
তাহলে আর কী করবে! স্প্রাইট দিয়ে ভিজিয়ে মুড়ি খাও!
আচ্ছা, ঠিক আছে। স্প্রাইট বুঝি আপনার খুব পছন্দ?
সাথে কিছু আইসকিউব ছেড়ে দিয়ো, ভালো লাগবে…………না, অতো পছন্দ নয়। কেন?
মানে, আপনার যা স্বাস্থ্য!
মানে????
খুব ভালো আরকি! অতো চওড়া মধ্যপ্রদেশ! ভালো না?
আমার স্বাস্থ্য দেখলে কই? ছবিতে? প্রোফাইল পিকে?
না, স্ট্যাটাসে দেখলাম, আপনার নাকি ইয়া বড় একটা ভুঁড়ি জন্মেছে!
হাহাহা…………লিখিয়েরা যা লেখে, তার সবটুকু বিশ্বাস করতে হয় না।
না, তা নয়। কত পিকই তো আছে আপনার! সেগুলিতেও দেখেছি। আর আমার চোখে একটু স্লিম হওয়ার জন্য নিজেকে লিখিয়ে দাবি করে ফেললেন!
আহহহ্ কী বিশ্রী পচা বাসি মেয়ে একটা।
এই যে………আপনি কখন আসবেন আমার এখানে?
কোথায়?
আমার কাছে।
মানে?
আপনি না বললেন আমার এখানে আসবেন?
তুমি কার সাথে কথা বলছ?
আপনার সাথেই, মিস্টার!
তোমার নাম্বার দাও, কথা বলি। আমি তোমার কথার কোনও আগামাথা পাচ্ছি না।
আপনি যে বললেন আজ রাতে ঢাকায় আসবেন! আমি তো এখানেই থাকি, তাই বললাম যে আপনি আমার কাছে আসবেন। এই মজাটাও বুঝলেন না?
হাহাহাহা………ওকে, নাউ গট ইট! দেখা করবে?
আপনি নাকি বিসিএস (বাংলাদেশ ক্রিমিনাল সার্ভিস)-এ ফার্স্ট হয়েছেন? দেখা তো করতেই হয় সময় করে!
নাম্বার দাও, কথা বলি।
আমার তো ফোন হারিয়ে গেছে! বললাম না আপনাকে?
ওঃ…………
একটা ফোন কিনে আপনাকে জানাব।
আচ্ছা। এই………! কী কর?
আপনাকে দেখি। এই যে! আপনি কী করেন?
আমি শুয়ে আছি। আমাকে কই দেখ?
ফেসবুকে। আপনি না ঢাকায় আসবেন বললেন? সেটা কখন? জানতে পারি?
কোন অ্যালবামটা? আজ রাত সাড়ে এগারোটায় গাড়ি।
ওহ্! তাড়াতাড়ি আসেন তো দেখি! অ্যাত্ত লেট?
ওহ্!
আমি তো আরও ভাবলাম, এই বুঝি এলেন!…………আপনি যে দুইটা ঢঙি মেয়ের সাথে ছবি তুললেন কোরিয়ায় গিয়ে, ওই অ্যালবামটা দেখি।
হাহাহাহাহা………
ওঃ হ্যাঁ, আজকাল তো আবার দেশের বাইরেও শুটিং হয়! শুটিং-এ গিয়েছিলেন বুঝি?
ওরা চায়নিজ!
ওহ্ ইয়েস! অ্যান্ড দে আর ওপেন!
ওপেন? ইন হোয়াট সেন্স?
মানে, ফ্রাঙ্ক, ফ্রেন্ডলি, অ্যামাইবল, লাভলি।
(উত্তর নেই।)
এই যে! বিজি কি? বিরক্ত করছি নাতো?
ইয়াপ, দে আর! দে টোল্ড মি অ্যা ‘হাই’ অ্যান্ড আস্কড মি টু হ্যাভ অ্যা স্ন্যাপ উইথ দেম। দে আর লাভলি অ্যাজ ওয়েল!
আপনি ইংরেজিতে কথা বলছেন কেন? আপনি কি নার্ভাস কোনও কারণে?
মানে কী?
মানে হল, আমরা বাঙালিরা রেগে গেলে কিংবা নার্ভাস হয়ে গেলে প্রকৃত ঘটনা লুকাতে কখনও-কখনও ইংরেজিতে কথা বলি। তাই জাস্ট আস্কিং, আর কিছু না।
তুমি নিজে কেন নার্ভাস ফিল করছ?
আপনার মাথা! ঘোড়ার ডিম! ০১৭০২৪৪১১৩৯। এটা আমার নাম্বার।
তোমার না মোবাইল নাই বললে?
নাম্বার তো আছে! একটা পচা ফোন খুঁজে বের করলাম ট্রাঙ্ক থেকে। এবং বের করে দেখি, ওটা কাজ করছে। কিন্তু মাঝেমাঝে অফও হয়ে যাচ্ছে। আপনার নাম্বারটা কি দেয়া যাবে?
(উত্তর নেই।)
ওহ্ আপনি ভাবছেন, মেয়েটা কেন এতো তাড়াতাড়ি ফোন নাম্বার দিয়ে দিল! তা-ই তো? আমি আপনার ফ্যান তো, তাই। হাহাহিহি……… ওকে, বাই বাই, ভালোথাকা হয় যেন!
(উত্তর নেই।)
হ্যালো! আই থিংক, ইয়োর জার্নি টু মি (ঢাকা) ইজ সেইফ।
ইয়াপ, ইট ওয়াজ! গুড মর্নিং!
এই যে! রাগ করেছেন কেন? আমি কি বলেছি যে আপনি পচা? আমি তো কেবল জানতে চাই, বুঝতে চাই, অনুভব করতে চাই, আপনি কেমন আছেন! আর কিছু না।
আরে না না! ঠিক আছে।
কী করা হচ্ছে, শুনি? মানে, জানতে পারি কি এটা? বিজি নাকি?
ঢাবি’তে।
ওখানে কই?
ক্যাম্পাসে।
কী করেন?
হাকিম চত্বরে ফুচকা খাই!
ওহ্! কাছেই তো! আমার হলে আসেন।
এসে কী হবে?
হলটা দেখলেন আরকি!
(উত্তর নেই।)
বুঝলাম, আপনি অনেক বিজি আছেন। ওকে, আপনার ব্যস্ততার জন্য শুভ কামনা। বাই বাই। টেক কেয়ার।
আমি আসব। আসার আগে ফোন করব। তুমি থেকো, কেমন?
……………………………………………………………………………
……………………………………………………………………………
থ্যাংক ইউ সো মাচ ফর গিভিং মি সাচ অ্যা ওয়ান্ডারফুল ইভিনিং! আমি জানি, আপনি আমার উপর খুব বিরক্ত হয়েছেন আজ! আমি আসলেই ডিসগাস্টিং! কী আর করব, বলেন! আমি যে ন্যাকামি করতে পারি না! আর সত্যি বলছি, আপনাকে রাগানোর জন্যই আমি ইচ্ছে করে ওই কথাগুলি বলেছি। আমি তো জানতাম না যে আপনি ফান নিতে পারেন না! বাট স্টিল, আই অ্যাম সরি ফর দ্যাট! মাফ চাইছি আমার অনুচিত ব্যবহারের জন্য। আর কক্ষনো এমন হবে না। ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।
আই ওয়াজ ওয়েটিং ফর ইয়োর টেক্সট। অ্যান্ড ইট কেম ফাইনালি। শুভরাত্রি।
ওহ্ থ্যাংক ইউ! আর কালো বরফ, যদ্যপি আমার গুরু, হলুদ বসন্ত, চিলেকোঠার সেপাই, সুদূর ঝর্ণার জলে, মনের মত মন, সাঁতারু ও জলকন্যা, বৃষ্টি ও মেঘমালা, বৃষ্টির ঠিকানা বইগুলির জন্য অশেষ ধন্যবাদ। পড়ে রিভিয়্যু জানাব। সত্যি জানাব। আপনার সাথে পরিচিত হয়ে আমার একটা লাভ হয়েছে—অনেক বই পড়া হয়ে গেছে! থ্যাংকস, স্যার!
তুমি এমন কেন?
কেমন আবার? আমি তো এমনই!
ওকে।
আচ্ছা, আপনি কি ফেসবুকে অনেক বিজি থাকেন?
হ্যাঁ, থাকি।
অ্যাডিকশন!
নাহ্ ইভেন মোর দ্যান দ্যাট!
ওহ্!
আজ তো তাহলে আমি আপনার অনেক সময় নষ্ট করেছি!
হাহাহাহা………
আচ্ছা, আমি কি খুব বেশি পাজি? নাকি, হাল্কা পাজি?
(উত্তর নেই।)
কিছু না বলে এমন হুটহাট করে চলে যায় কেউ? ওকে, ফেসবুকে ইজি কাজে বিজি ম্যান! থাকেন আপনি বিজি বিজি বিজি……………
কাল রাতে হুট করে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম ওয়াইফাই অন করেই। সরি সরি সরি! শুভ সকাল। ভালো আছ?
এই যে ভালোমানুষ! আমিও ছিলাম না সকালে। শুভ বিকেলবেলা। কেমন কাটল আপনার সারাদিন?
আচ্ছা। হ্যাঁ, সত্যিই ভালো কেটেছে।
সারাদিন ফোন আর ভার্চুয়াল লাইফ নিয়ে বিজি আপনি! কী যে সুখ পান এখানে! অবশ্য, এখন তো দেখি, এটাকেই সবাই ভালো বলে।
(উত্তর নেই।)
ওই ছেলেটা! তোমার এতো ভাব কেন, হুঁ? বুঝলাম, তুমি নাহয় একটু বেশিই ইয়ে হয়ে গেছ! তাই বলে কি সাধারণ পাবলিকের সাথে কথাটথা বলা যাবে না? এইইইইইইই……………যে! হ্যালো! কেমন আছ? খুব জানতে ইচ্ছে করছে! তুমি কি এখন অফিসে? খেয়েছ দুপুরে? আমার সাথে একটু কথা বললে কি খুব ক্ষতি হয়ে যায়?
কেমন আছ? আমি তোমাকে ফোন করেছিলাম।
খুবই ভালো আছি আমি। আপনার কেমন থাকা হচ্ছে? আপনার ফোন নাম্বার তো আমার কাছে নেই। আর আমি সাধারণত অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসলে পিক করি না।
আচ্ছা। আমি বেঁচে আছি।
আঙ্কেল এখন কেমন আছে?
বাবা এখন ভালো আছে। তুমি কেমন আছ? জ্বর কমেছে?
(উত্তর নেই।)
কই তুমি? ঘুউউউউউম????
ভালোই আছি। জ্বর কমেছে। সকাল সাড়ে আটটায় একটা কোর্স-প্রেজেন্টেশন ছিল, তাই একটু আর্লি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আপকা ক্যায়সা হ্যয়, জি? আপনার জন্য শুভ কামনা রইল।
তোমার শেষ কথাটার মানে বুঝিনি।
বলেন কী! আপনি না ফার্স্ট! এতো সহজ কথা না বুঝলে হবে?…………মানে………আপনার, মানে আপনার বাবার, মানে আঙ্কেলের জন্য শুভ কামনা করেছি। উনি ভালো থাকলেই তো আপনি ভালো থাকবেন, তাই আপনার জন্য শুভ কামনা মানেই তো উনার জন্যই শুভ কামনা। এইবার ক্লিয়ার?
আপনি না ফার্স্ট?—এভাবে করে বলতে হয় না।
তো, কীভাবে করে বলতে হয়? ট্রেনিং কেমন লাগে?
ভালো লাগে না। ট্রেনিং কোনও ভালোলাগার জিনিস না, ট্রেনিং কেবল ঘুমানোর জিনিস।…………তুমি সত্যি ভালো আছো তো? তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে খুব!
কেন? শুনেছি, আপনাদের ট্রেনিং নাকি খুব মজার হয়? নতুন-নতুন অভিজ্ঞতা জমে? দেখতে ইচ্ছে করছে? আপনার তো অফডে আজ, চলে আসুন, একসাথে কফি খাওয়া যাবে। মাই ট্রিট! আমি তো আর জব করি না, তাই আমি সারাদিনই ফ্রি থাকি। আমি ভালো আছি।
সত্যিই আসব? আচ্ছা, আসার আগে ফোন করে আসব, কেমন?
তো কি মিথ্যেমিথ্যে আসা যায় নাকি? কই আছেন আপনি?
আচ্ছা, আমি আজকে বিকেলে ফোন করে আসব। আমি সাভারে আছি। একটু পর মিরপুরের দিকে যাব।
কী করা হচ্ছে, শুনি একটু!
(উত্তর নেই।)
ওহ্ সরি! আপনি তো আবার মহাবিজি পারসন! কত্ত কাজ আপনাদের! খালি আমারই কোনও কাজ নাই। অনেক গরম এখন, লেবুর শরবত খেলে ভালো লাগবে বোধহয়। খাবেন মনে করে! কাঁটাবনে একটা রেস্টুরেন্ট আছে, চায়না কিচেন। পেট অ্যানিমেল শপের অপজিটে। ওইখানে অনুগ্রহপূর্বক উপগমন করিবেন সায়াহ্ন ৭ ঘটিকায়। লেট করলে কিন্তু দেরি হয়ে যাবে! সো, লেট করাই যাবে না! আমি ঠিক সময়ে থাকব। থ্যাংক ইউ। আসতে না পারলে সেটা আগে থেকেই জানিয়ে রাখবেন। আপনার নাহয় অনেক কাজ, কিন্তু আমার তো কোনও কাজ নেই। আমি তো ঠিকই গিয়ে হাজির হয়ে যাব!
ওরে বাপ্রে! শুরু হয়ে গেছে ম্যামের ঝাড়ি! ওকে ওকে, ম্যাম!
এই যে মিস্টার! আমি কোনও ম্যামফ্যাম না। আমি নবনী, জাস্ট নবনী। স্যার আর ম্যাম তো আপনারা, আমরা তো সব ম্যাঙ্গো-পাবলিক! আরেকটা কথা। আমার না একটু কাজ পড়ে গেছে। সময়টা সন্ধ্যা ৬টায় হলে ভালো হয়। কাইন্ডলি এনশিওর ইট, স্যার!
ম্যাম, আপনি কত সময় থাকতে পারবেন ৬টায় এলে?
দুই ঘণ্টা ম্যাক্সিমাম।
ম্যাম, আমি কি আসব?
জ্বি ছ্যাঃরর্!
ওকে ম্যাম!
……………………………………………………………………
……………………………………………………………………
কারও একজনের শেয়ার থেকে ‘পৌরুষ সমাচার’ পড়লাম। বেশ ভালো লিখেছেন!
আমাকে মনে আছে এখনও? ভালো, ভালো! কেমন আছ?
(উত্তর নেই।)
এইমাত্র দেখলাম! ওয়াও! জাস্ট ওয়াও! কনগ্রাচুলেশন্স! জানতাম, এটাই হবে! সত্যিই জানতাম! ভালো থেকো খুউব!
কনগ্রাটস্ কেন?
ফার্স্ট হওয়ার জন্য।
থ্যাংক ইউ! কিন্তু কীকরে জানলেন? আপনি তো অনেক খবর রাখেন দেখছি! আপনার টাইমলাইন দেখলাম। দিনেদিনে ব্যাপক সেলিব্রিটি হয়ে যাচ্ছেন দেখি! ইয়াং জেনারেশনের জন্য রীতিমত আইডল!
আচ্ছা।
হুঁউউউউ………
আচ্ছা।
আপনি সাতক্ষীরাতে কী?
পোস্টিং এখানে।
কেমন লাগছে ওখানে? অনেক ঠাণ্ডা না ওখানে?
অতটা না। আগের মতই আছ?
আমি তো বাসায় এসেছি। এসে দেখি, অনেক ঠাণ্ডা। সেই যে কম্বলের নিচে লুকিয়েছি, আর বের হতেই মন চাচ্ছে না।
আচ্ছা।
আমি খুব পচা টাইপের মেয়ে, তাই না?
না।
হাহাহাহাহাহা
এইটা আমি তো বুঝি, স্যার! খুবই পচা আমি!
আমার তো মনে হয় না।
আমিও আসলে এখনও ম্যাচিউরড হতে পারিনি।
টেল মি সামথিং আই ডিডন্ট নৌ!
ইউ নৌ মেনি মোর থিংস মাচ বেটার দ্যান মি!
আহহহ্ বাদ দাও!
আঙ্কেল-আন্টি কেমন আছেন? আপনি তো দেখি অনেক স্লিম হয়ে গেছেন!
ভালো নেই অতো। তুমি কেমন আছো?
ভালো নেই কেন? বাড়িতে সবাই কেমন আছেন?
জানি না। তোমার বিয়ে কবে?
জানাতে ইচ্ছে করে না, সেটা বলেন। আর আমার বিয়ে কবে, তা তো জানি না!
তুমি বাড়িতে না?
বাড়িতে বলেই কি বিয়ে করে ফেলতে হবে নাকি? এখন বিয়ে করাটা কি ঠিক হবে? আমি তো অনেক কনফিউশনে আছি!
কেন? এখনও কাউকে পছন্দ হয়নি?
পছন্দের কাউকে বিয়ে করা ঠিক না। ওরকম করলে সারাজীবনই কষ্টে কাটে। অনেককেই দেখলাম তো!
কেন?
ওই যে এক্সপেকটেশন! বোঝেন না? পছন্দের মানুষের কাছ থেকে প্রত্যাশার পরিমাণ থাকে মাত্রাতিরিক্ত! সবসময়ই! অন্যরা খুন করে ফেললেও হাসিমুখে খুন হয়ে যাওয়া যায়, আর পছন্দের মানুষটি একটা টোকা মারলেও যেন সহ্য হয় না!
হুম্ বুঝলাম!
পছন্দের মানুষকে বিয়ে করলে অপছন্দের দিকই বেরিয়ে আসে বেশি।
সেটাও ঠিক।
আমার কথা বাদ দিন। আপনি কবে করছেন বিয়ে?
ঠিক নেই।
আচ্ছা, বিয়ে করতেই হবে কেন? বিয়ে ছাড়া থাকা কি সম্ভবই নয়?
জানি না!
আমার মা ছিল না, এই ব্যাপারগুলি কেউ কখনও আমায় বলেনি, তাই আমি এগুলি বুঝতে শিখিওনি।
তুমি কী যে বুঝতে শিখেছ, তাই তো বুঝি না আমি!
হাহাহাহা………ঠিকই বলেছেন! আমি আসলেই একটা গাধধু! আচ্ছা, আমার জন্য কোনটা ভালো হবে? বিসিএস? নাকি, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা? বলেন দেখি! জব করতে ইচ্ছে করে না। বসের হুকুম মানো, ইয়েস স্যার, জ্বি স্যার, শিওর স্যার চিল্লানো! তেল ঢালো, লাইনে আসো! এসবও করা যায়!
দুম্ করে বিয়ে করে ফেলো!
হাজব্যান্ডের মনের সাথে যদি মিল না হয়, তখন? বিয়ে করে ফেললে তো সব শেষ! হে ঈশ্বর! বাঁচাও! ভালো কথা, আই লার্নড মেনি থিংস ফ্রম ইয়োর লাইফ পারসেপশনস্! থ্যাংক ইউ, হ্যান্ডসাম!
কিছু না বলি, থাক্! শুভ সকাল।
আজকের রোদটা খুব কিউট না? হ্যালো, বিউটিফুল মর্নিং! জানি, আমার প্রশ্নটা শুনে বিরক্ত হবেন, তাও জিজ্ঞেস করছি………ভাইভার জন্য কী কী পড়বো? আমার নলেজ নেই বললেই চলে। ফার্স্ট চয়েজ ফরেন। আমাকে তো ওরা বকতে-বকতেই শেষ করে দিবে!
গুড!
কেমন আছেন? সাতক্ষীরাতে কি এখনও? এতো ভালো রেজাল্ট করে সিভিল সার্ভিসে ঢুকে কী লাভ হল আপনার? কত দূরে-দূরে পোস্টিং দেয় আপনাকে! কত কষ্ট করতে হচ্ছে! আপনি ট্রান্সফার হয়ে আপনার বাসার কাছে চলে যেতে পারেন না? কোথায় কোন গ্রামে গিয়ে পড়ে আছেন!
কেমন আছো?
ভালো আছি।
কোথায় এখন?
ঢাকায়।
কাল কি ব্যস্ত?
হুঁ। সকালে একজাম আছে আর দুপুরে মামার বাসায় যেতে হবে। কেন? আপনি কি ঢাকায়?
আজ রাতে আসছি, কাল সকালে পৌঁছে যাওয়ার কথা।
আচ্ছা। আমি বিকেলে লাইব্রেরির ওখানে থাকতে পারি। আসবেন? ঢাকায় এসে নক দেবেন?
বকা খাওয়ার জন্য? আমি তো আসছিই! কাল রাতের বাসেই বাসায় ফিরব। তুমিই বরং নক কোরো।
এখন কই?
সাতক্ষীরায়।
আচ্ছা। বাসায় কেন? কিছু হতে চলেছে নাকি?
বাবা-মা’কে দেখতে যাচ্ছি।
ওহ্ ভালো।
ট্রান্সফার হয়ে বাসার কাছে চলে যেতে কি ব্যথা লাগে? এতএত জার্নি করেন কেন? বাবা-মা’কে সবসময় দেখতে হয়।
এই জার্নি করতে-করতে চেহারা পচা হয়ে যাচ্ছে, জানো?
সাতক্ষীরার জল লোনা না? হবেই তো! দুদিন পর চুল সব পড়ে যাবে, টেকো হয়ে যাবেন। ওখান থেকে তাড়াতাড়ি ভাগেন! নাহলে কপালে দুঃখ আছে!
ঠিক আছে তাহলে, কালকে বিকেলে নক করব।
হ্যাভ অ্যা সেইফ জার্নি। আমায় বকা দিতে চাইলে নক করার দরকার নেই। আমি সরি যদি আমার কোনও কথায় কষ্ট পেয়ে থাকেন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
তুমিও।
………………………………………………………………
হোপ ইউ এনজয়ড্ ইয়োর ভ্যালেন্টাইন্স!
নট দ্যাট! ভালো আছেন তো?
চলছে………চলে যায়ই! তুমি কেমন আছ? গত সপ্তাহে ঢাকায় গিয়েছিলাম। রাগ করে তোমাকে ফোন করিনি।
বুঝতে পারছি না কেমন যে আছি! কেন? আমার সাথে রাগ করেছেন কেন?
জানি না।
বুঝিয়ে না বললে কিন্তু আমি বুঝতে পারব না। কারণ, আমি গাধা টাইপের। গাধাদের এতো কিছু বুঝতে হয় না।
তুমি গাধা না। তোমার মধ্যে কিছু চেঞ্জ দেখলাম। ভালো লেগেছে। তুমি সুখে থাকলেই ভালো।
আমি কিন্তু আসলেই স্টুপিড টাইপের। আমি যে বুঝেও না বুঝার ভান করছি, তা কিন্তু নয়।
না না, আসলেই চেঞ্জ হয়েছ একটু। সেদিন আমাকে হার্ট করে কথা বলেছ কম। ভালো লেগেছে।
আমি কাউকেই মন থেকে আঘাত করতে চাই না। যত আঘাত, সবই নিজেকে করি। নিজেই সহ্য করি সব। আপনি কেমন আছেন? বাসার সবাই কেমন আছে?
আমরা সবাই ভালোই আছি।
তুমি গাধা না, আমি গাধা। আমি তো তোমাকে নিয়ে আসলেই কনফিউজড হয়ে পড়েছিলাম মাঝখানে, তাই যোগাযোগ বন্ধ করে দিই। যা-ই হোক, সব ঠিক হয়ে যাবে। সেইদিন প্রথমবারের মতো তোমার সাথে থাকার সময়টাতে আমি লো ফিল করিনি। কে তোমার জন্য, আর কে তোমার জন্য না, তা বোঝার একটা ভালো বুদ্ধি আছে। জানো, সেটা কী? যখন কারও সাথে সময় কাটানোর সময় তুমি লো ফিল করবে, তখন ধরে নিতে পারো, সে তোমার জন্য না। আর যদি লো ফিল না কর, তবে সে তোমার জন্য। তোমার এই হঠাৎই বদলে যাওয়াটা আমার অনেক ভালো লেগেছে।
আমি তো এমনই! হাহাহাহাহা
তুমি অনেক ভালো। এটা সত্যি। কিন্তু তুমি আমাকে অনেক হার্ট কর। এটা আরও বেশি সত্যি! আমি তো ভয় পেয়ে পালিয়ে গেছি তোমার কাছ থেকে। কখনও বলিনি। আজকে বলে দিলাম। তোমার কথা কিন্তু আমার বাসায় জানে!
আপনাকে হার্ট করার মানুষই তো নেই, তাই আমিই করলাম আরকি! আপনি কি আমার ব্যাপারে সিরিয়াস?
হ্যাঁ! নাহলে কি আমার বোন ঢাকায় আসে তোমাকে দেখতে? তুমি বুঝ নাই ব্যাপারটা??? তোমাকে অনেক ভালোবাসতে চেয়েছি, কিন্তু ভয় পেতাম সবসময়ই। ইসসস্! পরে আর পারলাম না। আমারই ব্যর্থতা।
আপনার কোন বোন? ওই যে ক্যামেরালেডি?
মানে?
কীসের মানে?
ক্যামেরালেডি মানে?
আপনি কত্ত বুদ্ধিমান! এটা বুঝেন নাই? আপনার ফটোক্রেডিটে উনার নাম দেখলাম যে, তাই ফান করে বললাম আরকি! আরেকটা কথা, আমি কিন্তু কোয়ালিফাইড মানুষ অনেক ভয় পাই! আপনি তো ওভার-কোয়ালিফাইড!
শোনো, আমি এমন কথা হেট করি! কোয়ালিফাইড কী জিনিস আবার? তোমাকে আমার মা’ও খুব ভালো করে চিনে। একেবারে বাই নেম চিনে!
আমি তো খুবই অর্ডিনারি! মা আমাকে কীভাবে চেনেন? আচ্ছা, আপনি কি এখন সাতক্ষীরাতে?
(উত্তর নেই।)
এই হ্যালো! আপনি কোথায়? বিজিইইইইই??
এক মিনিট। একজন নাকি আমার কোন পোস্টে খুব বাজে একটা কমেন্ট করেছে। দেখেই নক দিচ্ছি।…………আছো?
(উত্তর নেই।)
এই! এভাবে চলে যেতে হয়? ঠিক আছে। শুভ রাত্রি।