একটা স্বপ্ন দেখেছি আজ...
খুউব নির্জন একটা জায়গায় আমি বসে আছি। মনে আছে, শেষে তোকে অনেকগুলো চিঠি পাঠিয়ে রেখেছিলাম—এরপর থেকে আর আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। সেই চিঠিগুলো নিয়ে কিছু বলতে কখনও তোকে দেখিনি, যদিও তুই কখনও তেমন কিছু বলিসও না; প্রায় সবকটাই ভালোবাসার সৌন্দর্য এবং মৃত্যু নিয়ে লেখা।
হঠাৎ আমার পাশে এসে কে যেন বসল, একটু দূরে। আমি ঘণ্টাখানেক পর চোখের জল মুছে তাকিয়ে দেখি, ওটা তুই; হকচকিয়ে নড়েচড়ে বসলাম! তোর দিকে খুব ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম—তোকে কেমন যেন অন্যরকম লাগছে... বিষণ্ণ! তবে, চোখগুলো আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারার মতো দেখাচ্ছে—লুব্ধক! চেহারায় ফুটে উঠেছে বিস্তর মায়ার আলোড়ন; খুব বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা গেল না।
আগেও তো তোকে দেখেছিলাম বহুবার, কিন্তু কখনও তোকে এমন লাগেনি আমার। আচ্ছা, 'কী হয়েছে তোর?'—আমি কি জিজ্ঞেস করব? মনে মনে ভাবছিলাম—তুই একটাও কথা বলছিস না কেন? এ সবই বোধ হয় নিছক কল্পনা!—তাই, নিশ্চিত হওয়ার জন্য তোর হাতদুটো আঁকড়ে ধরলাম। সত্যিই তুই!...
আমি বিস্মিত কণ্ঠে তোকে বলে উঠলাম—ভালো আছিস তো? তোর প্রথম যে-কথাটি—"আমাকে ছেড়ে তাহলে থাকতে শিখে গিয়েছিস? হাতটা ছাড়।" আমি কী বলব বুঝতে না পেরে... হাতটা ছেড়ে দিলাম।
: আমি ভালোই থাকি; তুই ভাবলি কী করে যে, তোর জন্য খারাপ থাকব?
: এমন কিছু তো ভাবিনি।
: নিজেকে ভালো রেখেছিস তো তুই?
: হুঁ।
: সেটো দেখতেই পাচ্ছি।
: কী দেখছিস!
: তোর চোখের জল।
: তুই এখানে কীভাবে! আমি যে এখানে থাকব, তুই কি আগে থেকে জানতিস?
: তুই এমন কেন করলি?
: আমাকে ক্ষমা করিস।
: না। কেন করেছিস, বল?
: ইউ আর নট কমফোর্টেবল উইথ মি! আর এমনিতেও, আমি তোর যোগ্যও নই।
: তোকে এতগুলো দিন (প্রায় দু-বছর) পর দেখে ভালো লাগছে!
: হুঁ!
: কিছু বলতে চাস?
: হুম...
: বল?
: মানুষের ভেতর কারও জন্য 'ভালোবাসা' ব্যাপারটা একতরফা থেকে যায় কেন? আবার, কখনও সেই মানুষটার মুখে 'ভালোবাসি' শব্দটা শুনলেও বুঝে ফেলি—তার ভেতরটা আমার জন্য নয়; এমন হয় কেন? তুই আমাকে ভেতরঘরে রাখতে পেরেছিলি কি কখনো?
: জানি না; জানতে চাস না ওসব।
: চলে যাবি?
: না।
: তবে?
: ভালোবাসার মানুষকে ছেড়ে কেউ যায়? পাগলি।
: তোর হাতটা কিছুক্ষণ ধরে রাখতে পারি?
: আমি জানি, তুই একমুহূর্তের জন্যও আমার থেকে দূরে ছিলি না; আমি অনুভব করতে পারি তোকে।
: হুঁ। তবে, মাঝে মাঝে মনে হয়েছে, মৃত্যু আমাকে ঘিরে ফেলছে; শেষ একটা বার কি তোকে দেখতে পাব—এমন ইচ্ছেতে বুকের ভেতরটা ছিঁড়ে যেত ক্ষণে ক্ষণে।
: তোর খোঁজ আমি বেশ কিছুদিন আগেই পেয়েছি; সামনে আসিনি, আসতে চাইওনি। তবে, আজ না এসে পারলাম কই?
: আবেগের প্রকাশটা করতে তোকে আমি কখনোই দেখিনি—শুরুতেই বলেছি, তোকে ভীষণ অন্যরকম লাগছে।
: বরং, আমার মধ্যে প্রেম, আবেগ, ভালোবাসা—এসব অনুভূতি খুব কম কাজ করে। তুই তো জানিস, তোর ক্ষেত্রে ভিন্ন ছিল সবটা—কোনো নিয়ম মেনে তো কখনও একসাথে থাকিনি।
: তোকে বেশকিছু চিঠি পাঠিয়েছিলাম, পেয়েছিস?
: হুঁ।
: অনেকদিন হয় লেখালেখি করছি না, একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বললেই চলে। তোকে তো বলেছিলাম—যে-মুহূর্ত থেকে আর আমাদের যোগাযোগটা থাকবে না, আমি লিখব না।
: আরও একবার শুরু করবি?
: কষ্ট হয়।
: আমি আছি।
স্বপ্নসন্ধি
লেখাটি শেয়ার করুন