গল্প ও গদ্য

স্পর্শের অন্তর্ঘাত



Show me your sin,
Show me your truth.

এটা তোমার ঘর।—কথাটি বলেই, ভেজা চুলে আমার খুউব কাছে এগিয়ে এল, নীরা।

"বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হয়েছে, আজ আমার সাথে থেকে যাবে?" নীরা কোনো উত্তর দিল না।

"আমাদের দূরত্বটা অনেক বেড়েছে, কিছুটা কমাতে চাই। গত দু-সপ্তাহে অফিসের কাজ নিয়ে ভারি ব্যস্ত সময় কেটেছে। কিন্তু তুমি আসতে এত দেরি করলে কেন?"

ফিসফিসিয়ে বলে উঠল সে—"শোনো, এভাবে দূরে থাকলে তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখতেও ভীষণ কষ্ট হয়।"—বলেই পায়ের ভাঁজে পা ঢুকিয়ে আরাম করে জড়িয়ে ধরল, উষ্ণ হাতটাও টেনে নিল কোমল উদরের আশেপাশে। "শুভ্র, কতটা অস্থির লাগে, বোঝো তুমি?"

"নিজের দিকে ফিরিয়ে, আমার বুকে মুখ গুঁজে ঠোঁটের নরম ভেজা স্পর্শে যখন তুমি উত্তেজনার শিরশিরে অনুভূতিতে চোখ বোজো—এই সময়টায় তোমার মায়াবী মুখটা আমার অপেক্ষা কিছুটা হলেও কমায়, অদ্ভুত এক শান্তি ভর করে শরীরজুড়ে।"

"তোমার কণ্ঠে আশ্চর্য এক মাদকতা আছে, জানো, নীরা? আজ আমার সাথে সারারাত জাগবে তুমি? আমার বুকের ভেতরটা জলোচ্ছ্বাসের মতো তীব্র বেগে আছড়ে ওঠে—যত বার তুমি আমায় ছেড়ে যাবে ভাবি, একথা বুঝতে পারি।"

উত্তর দিল না সে। চোখদুটো বন্ধ করে নিয়েছে। কয়েক মুহূর্ত অপেক্ষা করলাম—কিন্তু জবাব এল না। তীব্র বেগে শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছে...এমনকি অনুভবও করতে পারছি মৃদুস্বরে যা বলল সে—"তুমি আমার শরীরের নয়, আত্মার খুউব কাছের।"

বিছানার পাশের টেবিলে রাখা কাচের গ্লাসটা মেঝেতে গড়িয়ে হঠাৎ বিকট শব্দে টুকরো হয়ে গেল! হয়তো রাগ, কিংবা হতাশা—কিছু-একটা; গভীর শ্বাসে তা টেনে তোমার স্পর্শে আমার সব ব্যথা দূর করার আপ্রাণ চেষ্টা। তিরতির করে কাঁপছে তোমার অধরদুটো, আর ঘন পাপড়ির পলকগুলো।

আমার পাপেই তোমার সমস্ত উচ্ছ্বাস!
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *