গল্প ও গদ্য

শেষ স্পর্শের ঋণ



নিশ্চয়ই তুমি একজন অসাধারণ লেখক। তবুও, আমি বুঝেছি—নিজের অভিজ্ঞতা, প্রাপ্তি, ত্রুটি, অপ্রাপ্তি, ব্যর্থতা...এর বাইরে গিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করাটা শক্ত কাজ।

আমার মনে হয়, তুমি আমাকে ভেবে কখনোই কিছু লিখতে পারবে না। খুব সম্ভবত, আমি এই পৃথিবী থেকে চলে যাবার পর, তুমি আমাকে নিয়ে তোমার প্রথম লেখাটি লিখবে।

কিছু অদৃশ্য ক্ষমতা মানুষের অনুভূতিতে রয়েছে, বিশ্বাস করো। এই অনুভূতির খোরাক মিটে গেলেই আসে এক অতৃপ্ত উপলব্ধি—যা সে তার নিজেরই সৃষ্টিতে ফিরিয়ে আনতে পারে।

নিজেকে বোঝা আর বলার মধ্যে পার্থক্য আছে—আমি শুধুই বলেছিলাম, থামতে শেখালে তুমি।

বোঝার দায়িত্বটা নিতে চেয়েও এ জীবনের অর্ধশতাব্দী পার-করে-দেওয়া মানুষগুলো বিক্ষিপ্তভাবে ছুটছে, চোখগুলো অনুজ্জ্বল, নিয়তির অজুহাতে ক্লান্ত সময় পার করছে। তাদের মধ্যে তোমাকে আমি দেখিনি—আমার দৃষ্টি আটকেছিল তোমার সুস্পষ্টতায়।

আমাকে ক্ষমা করো—আমি সেই নিষ্ঠুরতম মানুষ, কতবারই-না বিদায়বেলায় তোমায় স্পর্শ করলাম...তবু, ব্যর্থতায় পর্যবসিত সংলাপে নিজেকে সঁপে দিলাম। তুমি ভালো রেখো নিজেকে।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *