ভাবনার বনসাই

ভাবনার বনসাই: চল্লিশ

১. তোমাকে ধন্যবাদ!
তুমি পাশে ছিলে না বলেই তো
জীবনে এত কিছু করতে পেরেছি!
প্রিয় বন্ধু, ধন্যবাদ!


২. বাবাকে সবসময়ই হাসতে দেখেছি।
সবসময়ই ভেবেছি, বাবা কতই-না আরামে আছেন!
আজ আমি বাবা। আজ আমি জানি, বাবারাও কত মিথ্যে বলেন!


৩. আমার একটাও অভাব কখনও অপূর্ণ ছিল না।
আমি ভাবতাম, আমরা কত ধনী!
আজ বুঝি, আমাদের ঘরে এক আমিই ছিলাম ধনী,
আর বাবা-মা দু-জনই ছিল খুব গরিব!


৪. হৃদয় কখনও ব্যর্থ হয় না,
মানুষ ব্যর্থ হলেও হতে পারে।
হৃদয়ের মাত্র দুই রাস্তা:
হয় সে চায় যা, পায়ও তা;
নয় সে চায় এক, পায় আরেক।


হৃদয় কখনও ফেরে না খালিহাতে, মানুষই ফেরে।


৫. জীবন আমায় তত দিন পর্যন্তই কষ্ট দিয়েছে,
যত দিন আমি সহজ রাস্তায় হেঁটেছি।
একদিন কঠিন রাস্তা বেছে নিলাম,
আর অমনিই জীবন বদলাতে আরম্ভ করল!


৬. আমি সেদিনই তোমার ধর্মে ধর্মান্তরিত হব,
যেদিন তুমি আমায় মানুষ হতে বলবে।


৭. ঠিক যেখানেই তোমার বাড়ি,
ঠিক সেখানেই আমার ঘর।


৮. তোমায় দূর থেকে দেখে প্রাণ ভরে গেল!
তোমার কাছে আসতেই প্রাণ উড়ে গেল!


৯. আমি তো করেছি বারণ,
মন আমার খুঁজছে কারণ,
চাঁদের ওই আলো হয়ে
তোমায় রাঙাতে!


১০. দেখে নিয়ো, একদিন
আর আমি কাঁদব না,
আর আমি কাঁদাব না,
নীরবতায় মিলিয়ে যাবে
প্রেমের সমস্ত সাধন!


১১. তুমি আমায় শায়ের বোলো না,
আমি বড্ড সংকোচে ডুবে যাই।
আমি যা লিখি, তা শায়েরি তো নয়,
তা কেবলই তোমার আমার প্রেম!


১২. যা মিলে যায় বিনা পরিশ্রমেই,
তা কখনও পরায় না মুকুট!
অন্ধকার নামলেও যে খায় না হোঁচট,
সে রাজার পুত্র হতে পারে, রাজা কখনওই নয়।


১৩. এখনই ঝড় তুলো না,
আমি তো এখনও ঘুমাইনি।
ঝড় যদি চোখেই দেখি,
বাহু তো তা ঠিকই থামিয়ে দেবে!
আগে ঘুমাই বরং,
তখন মজা পাবে খুব!


১৪. ছোটোবেলায় ভাবতাম, বড়ো হলে যখন আমার ডানা গজাবে,
তখন আমি খুব উড়ব!
যখন বড়ো হলাম, ডানাও হলো,
তখন ওড়ার আগে ডানাদুটো ভাঙতেই হলো।


১৫. স্বপ্ন দেখার অধিকার তো কেবল তারই,
স্বপ্ন দেখার সময় যে বুঝতে পারে,
সে কি ঘুমিয়ে আছে, না কি জেগে!


১৬. আমার নীরবতাকে প্রেমের উপহার হিসেবেই নাও;
ঠোঁট বন্ধ না রেখে আমি যে বোঝাতে পারি না কিছুই!


১৭. আমার সঙ্গে না হাঁটার এতগুলি বুদ্ধি বের করে ফেললে!
এত খাটুনির কী দরকার ছিল!
আমাকে বললেই তো পা-দুটো ভেঙে নিজেই নিজেকে পঙ্গু করে ফেলতাম!


১৮. মা, তোমার চোখদুটো কত দিন ধরে আমার অপেক্ষায় আছে!
আর সেই আমি কিনা প্রেমিকার চোখের পূজা করতে করতে
তোমার চোখের খবরটাই নিলাম না এতদিন!


১৯. কোনও পিতাই কুলাঙ্গার পুত্রের জন্ম দেয় না!
কুলাঙ্গার হবার কৃতিত্ব পুত্রের একারই!
পুত্রের পাপের শাস্তি পিতার ঘাড়ে এমন উঠিয়ো না!


২০. কী বললে! তোমার বন্ধু অনেক?
থামো থামো…আগে বিপদে তো পড়ো!
কী বললে! তোমার বন্ধুই নেই?
থামো থামো…আগে বিপদে তো পড়ো!


যে কখনও বিপদেই পড়েনি,
সে আবার শত্রু-মিত্রের কী বোঝে!
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *