বন্ধু
একজন বন্ধু ছিল। সে যত কাছে আসত আমার দরজায়, তত দূরে চলে যেত তার নিজের মরুভূমিতে। কিছুদিনের জন্য মনে হয়েছিল—এ-ই একমাত্র রাস্তা, আর বাকি সব রাস্তা শুধু পা ক্লান্ত করার পথ।
কিন্তু প্রেম কঠিন শিক্ষক।
দ্বাদশ শতকের পারস্যের মহান সুফি কবি ফরিদউদ্দিন আত্তার একটি মহাকাব্য লিখেছিলেন, যার নাম মানতিকুত-তায়ের—পাখিদের সভা। এটি সুফি সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত রূপকথাগুলোর একটি। গল্পটা এরকম:
পৃথিবীর সমস্ত পাখি একদিন সিদ্ধান্ত নিল—তারা তাদের রাজাকে খুঁজবে। সেই রাজার নাম সিমুর্গ—এক রহস্যময়, পৌরাণিক পাখি—যে কাফ পর্বতের ওপারে থাকে। হাজার হাজার পাখি যাত্রা শুরু করল। কিন্তু পথ সহজ নয়। পথে সাতটি উপত্যকা পার করতে হয়।
প্রথম উপত্যকা—তলব—অন্বেষণ। এখানে পাখি জানতে পারে, সে কিছু খুঁজছে—কিন্তু কী খুঁজছে, তা স্পষ্ট নয়। শুধু একটা অস্থিরতা, একটা টান।
দ্বিতীয়—ইশক—প্রেম। এখানে খোঁজাটা আর বুদ্ধির ব্যাপার থাকে না—হৃদয়ের ব্যাপার হয়ে যায়। পাখি পুড়তে শুরু করে। যুক্তি কাজ করে না—শুধু টান।
তৃতীয়—মারিফাত—জ্ঞান। এখানে পাখি বুঝতে শুরু করে—যা খুঁজছি, তা বাইরে নেই। জ্ঞানের আলো ভেতরের দিকে পড়তে শুরু করে।
চতুর্থ—ইস্তিগনা—বৈরাগ্য। এখানে পাখি ছাড়তে শেখে। সম্পদ, সম্মান, পরিচয়, এমনকি জ্ঞানের অহংকারও—সব ছেড়ে দিতে হয়। খালি হাতে এগোতে হয়।
পঞ্চম—তাওহিদ—একত্ব। এখানে "আমি" আর "তুমি"-র ভেদ কমতে শুরু করে। বহু ধীরে ধীরে একের দিকে গলে যায়।
ষষ্ঠ—হায়রাত—বিস্ময়। এখানে পাখি কিছু বোঝে না—কিন্তু সেই না-বোঝাটাই গভীরতম বোঝা। ভাষা থামে। যুক্তি থামে। শুধু বিস্ময় থাকে।
সপ্তম—ফানা ও ফাকর—বিলুপ্তি ও দারিদ্র্য। এখানে পাখির "আমি" পুরোপুরি মুছে যায়। সে আর "কেউ" নেই। নাম নেই, রূপ নেই, পরিচয় নেই—শুধু শূন্যতা।
প্রতিটি উপত্যকায় পাখিরা কিছু-না-কিছু হারায়। অনেক পাখি পথেই মারা যায়—কেউ ক্লান্তিতে, কেউ ভয়ে, কেউ আরামের টানে ফিরে যায়। হাজার হাজার পাখির মধ্যে শেষপর্যন্ত মাত্র তিরিশটি পাখি কাফ পর্বতের ওপারে পৌঁছায়।
আর এখানেই আত্তারের সবচেয়ে অসাধারণ মুহূর্ত।
তিরিশটি পাখি সিমুর্গের সামনে পৌঁছে দেখে—সিমুর্গ কোনো আলাদা সত্তা নয়। সিমুর্গ তারা নিজেরাই। ফারসিতে "সি" মানে "তিরিশ," "মুর্গ" মানে "পাখি।" সি-মুর্গ মানে তিরিশটি পাখি। আর সিমুর্গ—যাকে তারা খুঁজছিল—সে-ও "সি-মুর্গ।" শব্দটা একই! যাকে খুঁজছিল আর যারা খুঁজছিল—তারা একই।
এই শব্দখেলার ভেতরে পুরো সুফি দর্শনের সারকথা লুকিয়ে আছে। এর মানে কী?
মানে—তুমি যাকে খুঁজছ, তুমি নিজেই সেই। আল্লাহ্কে খুঁজছ? তোমার ভেতরেই তিনি। সত্য খুঁজছ? তুমি নিজেই সত্যের বাহন। প্রেম খুঁজছ? তোমার হৃদয়ই প্রেমের আধার। কিন্তু তুমি এটা জানো না—কারণ তোমার ওপরে নাম-রূপ-পরিচয়-অহংকারের স্তর জমে আছে। সাতটি উপত্যকা পার করা মানে এই স্তরগুলো একটি একটি করে ঝরিয়ে ফেলা। প্রতিটি উপত্যকায় একটি করে "আমি" খসে পড়ে—আমি ধনী, আমি সুন্দর, আমি জ্ঞানী, আমি ভালো, আমি আলাদা, আমি বিশেষ—এগুলো একটি একটি করে খুলে যায়। শেষে কিছুই থাকে না—শুধু শূন্যতা।
আর সেই শূন্যতাতেই আবিষ্কার ঘটে।
খোঁজা আর খুঁজে পাওয়া একই মুহূর্তে ঘটে—কারণ যতক্ষণ "আমি" ছিল, ততক্ষণ "আমি" আর "সিমুর্গ" আলাদা ছিল। "আমি" ঝরে যাওয়ার মুহূর্তেই দেখা যায়—আলাদা কিছু ছিলই না। খোঁজা আর পাবার মাঝখানে যে-দেয়াল ছিল—সেটা "আমি" নিজেই। "আমি" সরলেই—সব কিছু আগে থেকেই সেখানে ছিল।
এটাই উপনিষদের "তত্ত্বমসি"—তুমিই সেই। এটাই মনসুরের "আনাল হক"—আমিই সত্য—তবে সেই "আমি" অহংয়ের "আমি" নয়, অহং ঝরে যাবার পর যা থাকে, সেই "আমি।" এটাই লালনের অচিন পাখি—যাকে ধরা যায় না, কারণ সে ধরার চেয়ে বড়ো—কিন্তু সে তোমার ভেতরেই আছে।
আত্তারের গল্পের সবচেয়ে নিষ্ঠুর আর সবচেয়ে সুন্দর সত্য এটাই: তোমাকে সব কিছু হারাতে হবে—তোমার নাম, তোমার পরিচয়, তোমার অহংকার, এমনকি তোমার "আমি খুঁজছি", এই বোধটাও—তবেই তুমি দেখবে, যা খুঁজছিলে, তা চিরকাল তোমার ভেতরেই ছিল। হারানো ছাড়া পাওয়া নেই। খালি হওয়া ছাড়া পূর্ণ হওয়া নেই। মরা ছাড়া জন্মানো নেই।
তিরিশটি পাখি সাতটি মরুভূমি পার করে, নিজেদের সব হারিয়ে, শেষে আয়নার সামনে দাঁড়ায়—আর দেখে, আয়নায় তাদের নিজেদেরই মুখ। সিমুর্গ বাইরে কোথাও ছিল না—সিমুর্গ ছিল তাদের নিজেদের গভীরে, শুধু "আমি"-র স্তরগুলো সরাতে হয়েছিল। যাত্রাটা বাইরের ছিল না—যাত্রাটা ভেতরের ছিল। আর গন্তব্য? গন্তব্য ছিল যাত্রার শুরুতেই—শুধু চোখ খুলতে হয়েছিল।
প্রেমেও তা-ই। প্রতিটি হারানো একটি উপত্যকা পার করা। প্রতিটি কষ্ট হচ্ছে একটি "আমি" ঝরে পড়া। কখনো ভাঙা হৃদয়ই প্রথম সত্য হৃদয়—কারণ অভাঙা হৃদয় অনেকসময় শুধু অচেনা হৃদয়।
প্রেম কঠিন শিক্ষক—সে প্রথমে তোমাকে কারও মুখে বেঁধে ফেলে, তারপর সেই মুখ সরিয়ে দেয়—যাতে তুমি মুখের আড়ালের আলোকে খুঁজো। একেকটি বেদনা একেকটি অহং খুলে দেয়। একেকটি অপূর্ণতা তোমাকে তোমার নিজের সীমা চিনতে শেখায়।
তিনটি প্রেম
সে কাছে আসত—তারপর দূরে চলে যেত। আর প্রতিবার ভালোবাসার রূপ বদলে যেত।
প্রথমে ভালোবাসলাম যেমন পথিক পথসঙ্গীকে ভালোবাসে—ধুলো ভাগ করে, জল ভাগ করে, তাঁবুর ছায়া ভাগ করে। এটা সঙ্গের প্রেম—যেখানে "তুমি আছ", এটুকুই যথেষ্ট।
তারপর ভালোবাসলাম যেমন রাতের প্রান্তরে কেউ আগুনকে ভালোবাসে—ওম পেতে, অন্ধকার ঠেকাতে, বেঁচে থাকতে। এটা প্রয়োজনের প্রেম—যেখানে "তুমি ছাড়া আমি ঠান্ডায় মরে যাব।"
তারপর—আল্লাহ্ রক্ষা করুন—যেমন কেউ প্রদীপকে ভুল করে সূর্যোদয় মনে করে—এবং সারাজীবন একটা ছোটো শিখায় তাকিয়ে থাকে, এটা না জেনে যে, পুরো আকাশ তার পেছনে আলোয় ভাসছে।
এই তৃতীয় ভুলটা সুফি দর্শনে একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা—একে বলে ইশক-ই-মাজাযি—রূপকের প্রেম, মানুষী প্রেম। এটা মিথ্যা নয়—এটা সত্য, কিন্তু অসম্পূর্ণ। প্রদীপ মিথ্যা নয়—প্রদীপ সত্যিই আলো দেয়। কিন্তু প্রদীপ সূর্যোদয় নয়।
আর তার পরের ধাপ—ইশক-ই-হাকিকি—প্রকৃত প্রেম, সত্যের প্রেম, মাশুকে মুতলাক (নিরঙ্কুশ প্রেমাস্পদ)-এর প্রেম। অনেক সুফি বলেন—ইশক-ই-মাজাযি হলো সেতু, ইশক-ই-হাকিকি হলো গন্তব্য। মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে শুরু হয়, আল্লাহ্কে ভালোবাসায় পৌঁছায়।
প্রদীপ সূর্যোদয় নয়—কিন্তু প্রদীপ ছাড়া কে জানত, আলো কী? ছোটো প্রেম শেখায় যে, প্রেম আছে; বড়ো প্রেম শেখায়, প্রেমই সব।
সুফি পরিভাষায় এই তিন প্রেম আত্মার তিন স্তরের সাথে মেলে: নাফস-ই-আম্মারা—কাঁচা আত্মা—যে শুধু নিজের জন্য চায়। নাফস-ই-লাউয়ামা—অনুতপ্ত আত্মা—যে বুঝতে শুরু করেছে, ভুল হচ্ছে, কিন্তু থামতে পারছে না। আর নাফস-ই-মুতমাইন্না—প্রশান্ত আত্মা—যে আর নিজের জন্য চায় না, শুধু তাঁর জন্য চায়। কুরআনে (সূরা আল-ফাজর ৮৯:২৭-২৮) আল্লাহ্ এই তৃতীয় আত্মাকেই ডাকেন—হে প্রশান্ত আত্মা, ফিরে এসো তোমার রবের কাছে—তুমি সন্তুষ্ট, তিনিও সন্তুষ্ট।
বাউলেরাও এই পথই হাঁটেন—দেহসাধনা থেকে পরমাত্মায়—শরীর থেকে মনে, মন থেকে আত্মায়, আত্মা থেকে সেই অচিন পাখিতে, যাকে ধরা যায় না, কিন্তু যাকে ছাড়াও থাকা যায় না।
প্রদীপ আর সূর্যোদয়
রবীন্দ্রনাথের গানে আছে: "তোমার পতাকা যারে দাও, তারে বহিবারে দাও শকতি।"—শুধু পতাকা দিয়ো না, বহন করার শক্তিও দাও।
কিন্তু সুফি বলবে: পতাকা হলো শক্তি। যে প্রেমের ভার বহন করছে—সেই ভারই তাকে শক্তিশালী করছে। ক্ষত নিজেই মলম। তৃষ্ণা নিজেই জল। ইব্রাহিমকে আগুনে ফেলা হয়েছিল—কুরআনে (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৬৯) আল্লাহ্ বললেন: "কুনি বারদান ওয়া সালামান"—হে আগুন, শীতল হও আর শান্তি হও। আগুন ইব্রাহিমকে পোড়ায়নি—কারণ ইব্রাহিমের ভেতরে যে-আগুন জ্বলছিল, তা বাইরের আগুনের চেয়ে বড়ো ছিল। যে প্রেমের আগুনে পুড়ছে, তাকে দুনিয়ার আগুন কী করবে?
প্রদীপের তেল ফুরায়। মানুষের সঙ্গ বদলে যায়। হৃদয়ের ঋতু পালটায়। কিছুই স্থায়ী নয়। কিন্তু ভোরের আলোর জন্য কেউ তেল ভরে না—ভোর আসে তার নিজস্ব নিয়মে। প্রতিটি ছোটো প্রেম নিভতে হবে যাতে মহাপ্রেম দৃশ্যমান হয়। কিন্তু কে চায় তার প্রদীপ নেভাতে? কে চায় সেই উষ্ণতা ছেড়ে দিতে, যা সে এত কষ্টে জ্বালিয়েছে?
এখানেই সবরের মাকাম। নিজে হাতে প্রদীপ নেভানো নয়—আবার প্রদীপকে সূর্য বানিয়েও না ফেলা। বরং দাঁড়িয়ে থাকা—অন্ধকারে, ভোরের জন্য—যতক্ষণ না সত্যিকারের সকাল আসে।
কাফেলা
তার হৃদয় ছিল একটা কাফেলা—মরুভূমির পথে একসাথে চলা যাত্রীদল—যে অনেক আগেই অন্য এক শহরের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আর আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম চৌরাস্তায়, হাত নাড়ছিলাম, বুঝতে পারছিলাম না যে, কাফেলাটা আমাকে ছেড়ে যাচ্ছে না—সে এমন একটা পথ দিয়ে ঘুরে আসছে, যা আমার চোখে এখনও দেখা যায়নি।
প্রেমের ভূগোলে সরলরেখা বলে কিছু নেই।
কুরআন বলে (সূরা আত-তালাক ৬৫:৩): "ওয়ামান ইয়াতাওয়াক্কাল আলাল্লাহি ফাহুয়া হাসবুহু"—যে আল্লাহ্র ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু ভরসা করা মানে রাস্তা দেখতে পাওয়া নয়—ভরসা করা মানে রাস্তা না দেখেও পা ফেলা। এটাই তাওয়াক্কুল—আল্লাহ্র ওপর নির্ভরতা—যা পরবর্তী মাকাম। কিন্তু ভরসা করা মানে রাস্তা দেখতে পাওয়া নয়—ভরসা করা মানে রাস্তা না দেখেও অন্তরকে ভেঙে পড়তে না দেওয়া। তাওয়াক্কুলে পৌঁছানোর আগে সবরের আগুনে বসতে হয়।
প্রেমের মানচিত্রে সরলরেখা কম। এখানে বিদায়ও কখনো রহমত, দূরত্বও কখনো দিশা, ব্যর্থতাও কখনো বাঁচানো। প্রতিটি বিদায় একটা ভিন্ন ধরনের প্রত্যাবর্তন। আর প্রতিটি হারিয়ে যাওয়া আসলে একটা খুঁজে পাবার পূর্বরঙ্গ—যদি তুমি যথেষ্ট সবর ধরো।
তৃষ্ণার প্রার্থনা
শোনো: প্রতিটি পেয়ালা, যা তোমার হাতে দেওয়া হয়, তা রেখে দেওয়ার জন্য নয়। কোনো কোনো পেয়ালা দেওয়া হয় শুধু এইজন্য যে, তুমি তৃষ্ণার স্বাদ শিখবে।
আর তৃষ্ণা—সানাইয়ের কাব্যের সুরে বলা যায়—তৃষ্ণাই শরীরের একমাত্র সৎ প্রার্থনা।
পূর্ণ পেট কখনও আল্লাহ্কে ডাকে না। ক্ষুধার্ত আত্মাই কেবল জানে, কীভাবে হাত তোলা যায়—কারণ খালি হাতই তো দোয়ার আসল ভঙ্গি। ভরা হাত জিনিস ধরে—খালি হাত আকাশ ধরে।
তৃষ্ণা খারাপ নয়। তৃষ্ণা অনেক সময় দাওয়াত। আল্লাহ্ কখনো কখনো বান্দাকে পূর্ণ করেন না—কারণ তিনি চান, বান্দা ডাকুক। ডাক না থাকলে সম্পর্ক কই? অভাব না থাকলে ফিরতি পথ কই? সুফি তাই কখনও শুধু পাবার জন্য দোয়া করে না—সে দোয়া করে: সত্যিকারের চাওয়া যেন বেঁচে থাকে। সুফি পরম্পরায় একটি কথা প্রচলিত: "আল-ফকরু ফখরি"—আমার দারিদ্র্যই আমার গৌরব। এই দারিদ্র্য অর্থের নয়—এই দারিদ্র্য অহংয়ের। যে বলতে পারে "আমার কিছু নেই"—তার হাত সবচেয়ে খোলা, তার বুক সবচেয়ে প্রশস্ত, তার ভেতরে সবচেয়ে বেশি জায়গা—কারণ সে খালি। আর খালি বাঁশিই সবচেয়ে সুন্দর বাজে।
এই তৃষ্ণাই আত্মার মুনাজাত—গোপন প্রার্থনা—রাতের নির্জনে আল্লাহ্র সাথে একান্ত কথা। রাবেয়ার নিঃশর্ত প্রেমের সুরে বলা যায়: প্রভু, তুমি কি কোনো ক্ষুধার্তকে দরজা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছ কখনো? তাহলে আমাকে ক্ষুধার্ত রাখো—কারণ ক্ষুধাই আমার দরজায় পৌঁছানোর অজুহাত।
দোঁহা: পেয়ালা ভাঙে তো ভাঙুক রে, মদ তো ঠোঁটে লাগে, সাকির হাত ছুঁয়েছে যারে—তার ভাঙাও তো জাগে।
পেয়ালা ভাঙে তো ভাঙুক—পাত্র গেছে তো যাক। মদ তো ঠোঁটে লেগে আছে—স্বাদ তো রয়ে গেছে।
পেয়ালা মানে হৃদয়, মানে সম্পর্ক, মানে সেই রূপ, যেখানে প্রেম এসেছিল। মদ মানে প্রেমরস—সেই অনুভূতি, সেই স্পর্শ, সেই স্মৃতি। সাকি মানে যিনি ঢেলেছিলেন—মাশুক, প্রেমাস্পদ, আল্লাহ্।
দোঁহা বলছে—পাত্র ভাঙতে পারে। সম্পর্ক শেষ হতে পারে। মানুষ চলে যেতে পারে। কিন্তু যে একবার সেই রস ঠোঁটে ছুঁয়েছে—তার ঠোঁট আর শুকোয় না। স্বাদ থেকে যায়। অভিজ্ঞতা থেকে যায়। পেয়ালা মাটির—মাটি ভাঙে। কিন্তু রস মাটির নয়—রস অন্য জায়গা থেকে এসেছে।
শূন্যের সপ্তক: ৬
লেখাটি শেয়ার করুন