হাসন রাজার ঘর
হাসন রাজা (১৮৫৪-১৯২২) সিলেটের জমিদার। জীবনের প্রথম ভাগে ভোগবিলাসে ডুবে ছিলেন—ঘোড়া, শিকার, সম্পদ। তারপর জীবনের কোনো এক বাঁকে হঠাৎ সব উলটে গেল। ভোগের মানুষ হয়ে গেলেন বৈরাগ্যের মানুষ। জমিদার হয়ে গেলেন ফকির। আর সেই রূপান্তরের পর যে-সকল গান লিখলেন—সেগুলো বাংলা আধ্যাত্মিক সংগীতের অমূল্য সম্পদ।
তিনি গেয়েছিলেন: "লোকে বলে বলেরে, ঘর বাড়ি ভালা নাই আমার—কী দিয়া সাজাইমু ঘর, কেমনে রাখিমু তার।"
লোকে বলে—তোমার ঘর ভালো না। হাসন বলছেন—ঘর তো ভালোই। কিন্তু ঘর ভালো লাগে না—কারণ ঘর ফাঁকা নয়, ঘর ভরা। কিন্তু যা দিয়ে ভরা, তা চোখে দেখা যায় না। ঘরের প্রতিটি কোণে সেই অদৃশ্যের উপস্থিতি—কিন্তু সেই উপস্থিতিকে ধরা যায় না, সাজানো যায় না, রাখা যায় না।
প্রেমিক তাই অদৃশ্যের সঙ্গে সংসার করে—সে এমন এক সঙ্গীর সঙ্গে থাকে, যিনি কখনও পুরোপুরি ধরা দেন না, তাঁর অভাবেই সব ফাঁকা লাগে। অদৃশ্যের সাথে সংসার করা—এটাই প্রেমিকের নিয়তি। আর এটা শুধু সে-ই পারে, যে চোখ বন্ধ করে দেখতে শিখেছে। চর্মচক্ষু বন্ধ, জ্ঞানচক্ষু খোলা—বাউলেরা যাকে বলেন "অন্তরের চোখ।" চর্মচক্ষু বলে—এ ঘর খালি। অন্তরচক্ষু বলে—এ ঘর নুরে ভরা। সেই চোখে দেখলে ঘর ফাঁকা নয়—ঘর পরিপূর্ণ। শুধু পূর্ণতাটা অন্য রকম—জিনিসের পূর্ণতা নয়, উপস্থিতির পূর্ণতা।
হারানোই সেরা ধন
সানাই (মৃত্যু ১১৩১ সালে) ফারসি সুফি কাব্যের পথিকৃৎ, রুমির আধ্যাত্মিক পূর্বসূরি। তাঁর হাদিকাতুল হাকিকাহ—সত্যের বাগান—ফারসি সুফি কাব্যের প্রথম মহাকাব্য। সানাইয়ের আবহে একটা সুর আছে: প্রেমের প্রথম শিক্ষা হলো হারানো। এখানে একটু গভীরে যাওয়া যাক।
প্রেমের প্রথম শিক্ষা শুধু হারানো নয়—হারানোর পরেও শুনতে পাওয়া। গান চুপ হয়ে গেছে—কিন্তু সেই চুপ হওয়াটাই এখন সবচেয়ে জোরে বাজছে। সংগীতে যেমন বিশ্রাম (rest) থাকে—যেখানে কোনো স্বর নেই, কিন্তু সেই শূন্যতা সংগীতেরই অংশ—তেমনি প্রেমেও হারানোটা প্রেমেরই অংশ। বিচ্ছেদ প্রেমের শত্রু নয়—বিচ্ছেদ প্রেমের অগ্নিপরীক্ষা, প্রেমের গভীরতম সুর। একটি স্পর্শ ফুরিয়ে গিয়ে স্মৃতির ভেতর অনন্ত হয়ে ওঠে।
মাণ্ডূক্য উপনিষদ বলে—তিনটি অবস্থার পরে একটি চতুর্থ আছে: জাগরণ, স্বপ্ন, সুষুপ্তি—আর তারপর তুরীয়। তুরীয় মানে চতুর্থ। সেখানে কোনো শব্দ নেই, কোনো স্বপ্ন নেই, কোনো অচেতনতাও নেই—আছে শুধু নিঃশব্দ সাক্ষী-চৈতন্য—যে দেখছে, কিন্তু নিজে দৃশ্যের অংশ নয়। হারানোর পর যে গভীর শ্রবণ জেগে ওঠে—যখন বাইরের সব আওয়াজ থেমে গেছে আর ভেতরের একটা সুর শুনতে পাচ্ছ, যা আগে কখনও শোনোনি—সেটা তুরীয়ের একটা কাব্যিক আভাস।
দোঁহা: হারায়ে যাহা খুঁজিতে বসি, পাই নাই কভু তারে, হারানোটাই খুঁজে দেখি—সব ধনের সেরা ধন, ভাই, অন্তরে আমারে।
মিলন ফুল, বিরহ তার সুগন্ধ। পাওয়া একটি মুহূর্ত, হারানো তার দীর্ঘ প্রতিধ্বনি।
হারানোটাই সেরা ধন—কারণ হারানো ছাড়া খোঁজা শুরু হতো না। আর খোঁজা শুরু না হলে আমি কোনোদিন জানতামই না—যা খুঁজছি, তা আমার ভেতরেই আছে। হারানো তাই অভিশাপ নয়—হারানো হলো সেই ধাক্কা, যা আমাকে ভেতরমুখী করে।
পেয়ালা ও সাকি
এবার একটু অন্য সুরে আসি।
সে তার বন্ধুর কথা বলেছিল—সেই বন্ধু, যাকে সে একসময় ভালোবেসেছিল। আর বলার ভঙ্গিটা ছিল এমন—জিভে ছাই, ঠোঁটে কাঁটা, মুষ্টিবদ্ধ হাতে এমন কিছু ধরা, যার নাম সে দিতে চায় না।
এই বর্ণনাটা একটু খেয়াল করো। জিভে ছাই—মানে কথা বলতে পারে না, কারণ যা বলার, তা পুড়ে গেছে। ঠোঁটে কাঁটা—মানে কথা বলতে গেলে ব্যথা লাগে। মুষ্টিবদ্ধ হাত—মানে কিছু একটা ধরে আছে এত শক্ত করে যে, ছাড়তে পারছে না, অথচ সেটা কী, তা নিজেও জানে না।
আর এই সব কিছুর তলায়—একটা কম্পন। যেন কেউ সেই মদ পান করেছে, যা একবার ঠোঁটে ছুঁলে আর কখনও ভোলা যায় না।
সুফি কাব্যে মদ একটা রূপক—মদ মানে প্রেমরস, মানে মাশুকের সান্নিধ্যের নেশা। সাকি মানে যে মদ ঢালে—সে হলো মাশুক নিজে, বা সেই গুরু, যিনি প্রেমের পেয়ালা এগিয়ে দেন। পেয়ালা মানে হৃদয়—যে-পাত্রে সেই প্রেমরস ধারণ করা হয়। আর মৈখানা (মদের আড্ডাখানা বা শরাবখানা) মানে সরাইখানা—সেই জায়গা, যেখানে প্রেমিকেরা জমায়েত হয়, নেশায় ডুবে, জগৎ ভুলে যায়।
সে পেয়ালাকে অভিশাপ দিচ্ছে—কারণ পেয়ালাটা তলাবিহীন ছিল না। মানে কী? মানে—পেয়ালার একটা তল ছিল, একটা সীমা ছিল, মদ শেষ হয়ে গেছে। প্রেমিক চেয়েছিল অসীম—পেয়েছে সসীম। চেয়েছিল চিরকাল—পেয়েছে কিছুদিন। আর সেই "কিছুদিন"-এর স্বাদ এত তীব্র যে, এখন "সবদিন" ফাঁকা লাগে।
কিন্তু সত্য হলো—সমস্যা প্রেমে নয়, সমস্যা আমাদের ধরার ভঙ্গিতে। আমরা চিরন্তনকে ক্ষণস্থায়ী রূপে আটকে রাখতে চাই। অসীমকে একটা মুখে বন্দি করতে চাই। সেখানেই ব্যথা জন্ম নেয়।
কী অদ্ভুত এ হৃদয়! যে-জানালা দিয়ে সে প্রথম ভোরের আলো দেখেছিল, সেই জানালাতেই সে পাথর ছোড়ে। মানে—যে-মানুষটার মাধ্যমে সে প্রথম প্রেম চিনেছিল, সেই মানুষটাকেই সে দোষ দেয়। গোলাপ পুঁতে রেখে কাঁটার চাষ করে, তারপর কাঁদে যে, বাগানে সুগন্ধ নেই। মানে—নিজেই প্রেমকে অবহেলা করেছে, তারপর অভিযোগ করে যে, প্রেম নেই।
হাফিজ ও রাবেয়া
হাফিজ শিরাজি (আনুমানিক ১৩১৫-১৩৯০) শিরাজের সেই মহান কবি, যাঁকে "লিসানুল গায়েব"—অদৃশ্যের জিহ্বা—বলা হয়। তাঁর গজলের আবহে একটা সত্য আছে: পেয়ালা ভাঙলেও সাকির হাত ভাঙে না।
এর মানে—প্রেমের পাত্র ভাঙতে পারে, সম্পর্ক শেষ হতে পারে, মানুষ চলে যেতে পারে—কিন্তু যিনি প্রেমরস ঢেলেছিলেন, তিনি অক্ষত আছেন। পাত্র নষ্ট হয়, রসের রহস্য নষ্ট হয় না। যে-প্রেমরস একদিন হৃদয় ছুঁয়েছিল, তার উৎস শুকোয় না। মানুষ গেছে, প্রেম যায়নি। ভাঙনও স্মরণের একটা রূপ—কারণ ভাঙার শব্দ তো সেই হাতের স্পর্শেরই ফল। আর স্মরণই প্রেমের সবচেয়ে সৎ রূপ।
রাবেয়া আল-আদাউইয়া—অষ্টম শতাব্দীর বসরার সেই নারী সাধিকা, যিনি সুফি প্রেমের ধারাকে চিরকালের জন্য বদলে দিয়েছিলেন। রাবেয়া নিজে কোনো লিখিত রচনা রেখে যাননি—তাঁর কথাগুলো পরবর্তী সুফি সাধুচরিত-সাহিত্যে, বিশেষত আত্তারের তাযকিরাতুল আউলিয়ায়, সংরক্ষিত হয়েছে। তাই এসব উক্তির ঐতিহাসিক নিশ্চয়তা সীমিত—কিন্তু আধ্যাত্মিক তীব্রতা অসন্দিগ্ধ।
রাবেয়ার নামে বহুলউদ্ধৃত প্রার্থনা: "আমি যদি জাহান্নামের ভয়ে ইবাদত করি—তবে আমাকে জাহান্নামে পোড়াও। আমি যদি জান্নাতের আশায় ইবাদত করি—তবে আমার জন্য জান্নাত হারাম করো। কিন্তু আমি যদি কেবল তোমার জন্যই ইবাদত করি—তবে তোমার চিরন্তন সৌন্দর্য আমার কাছ থেকে লুকিয়ো না।"
এটা ভেঙে বুঝি।
রাবেয়া তিনটে ইবাদতের কথা বলছেন। প্রথম—জাহান্নামের ভয়ে। বেশিরভাগ মানুষ এখানে আছে। তারা ভালো কাজ করে, যার কারণ শাস্তির ভয়। দ্বিতীয়—জান্নাতের আশায়। অনেকে ভালো কাজ করে, যার কারণ পুরস্কারের লোভ। তৃতীয়—কেবল তোমার জন্য। না ভয়, না লোভ—শুধু তুমি। এটাই নিঃশর্ত প্রেম—সুফিরা যাকে বলেন ইশক-ই-হাকিকি—প্রকৃত প্রেম।
এবার পেয়ালা-ভাঙার প্রসঙ্গে ফিরে আসি। যে পেয়ালা ভাঙে আর পেয়ালাদাতাকে গালি দেয়—সে রাবেয়ার ভাষায় এখনও ভয়ে বা আশায় প্রেম করছে। সে চাইছিল, প্রেম তাকে কিছু দিক—সুখ, স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা। যখন পায়নি—ক্ষুব্ধ হয়েছে। কিন্তু নিঃশর্ত প্রেমে পেয়ালা ভাঙলেও মানুষ হাসে—কারণ ভাঙার শব্দটাও তো সাকির হাতের স্মৃতি। যে সত্যিই ভালোবাসে, সে ক্ষতিতেও কৃতজ্ঞ। ক্ষতও স্মৃতি। অশ্রুও দান। হারানোও বলে—একদিন আমি পেয়েছিলাম। ক্ষতও একদিনের নৈকট্যের সাক্ষী, অশ্রুও এক বিশেষ দানের নাম। কারণ ক্ষতি মানে একসময় পাওয়া ছিল, আর পাওয়াটাই তো দান। তুমি থাকলেই যথেষ্ট—তুমি না থাকলে সবই অনাথ।
বাউল গানে এই সুর বার বার আসে: প্রেম অন্ধ—প্রেম জানে না, কারে কয় ভালো, কারে কয় মন্দ। কিন্তু এই অন্ধত্ব আসলে সর্বদর্শিতা। যে সব দেখে—সে বিচার করে না। যে কেবলই আংশিক দেখে, সে ভালো-মন্দের খাতা খোলে। পূর্ণদৃষ্টি বিচারশূন্য—কারণ পূর্ণদৃষ্টিতে সব কিছু তাঁরই প্রকাশ, সব কিছু তাঁরই লীলা—ভাঙনও, গড়নও।
কোনটা স্বপ্ন?
এবার একটা প্রশ্ন—যা এই সমগ্র যাত্রার সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন: আমি স্বপ্নের ভেতর তাঁর সেই গান ধরি, আর আঁকড়ে ধরি সেই ঘুমের প্রান্তটুকু, যেখানে তিনি আছেন—ঠিক যখন জগৎ আমাকে জাগাতে আসে। কিন্তু বলো: কোনটা স্বপ্ন? যেখানে আমি তাঁকে ধরে আছি—না কি যেখানে আমি চোখ খুলি আর দেখি, তিনি নেই?
সাধারণত আমরা ভাবি—জেগে থাকাটাই সত্য, স্বপ্ন মিথ্যা। কিন্তু প্রেমিক উলটো অনুভব করে। স্বপ্নে সে প্রেমাস্পদকে পায়—সেটাই তার কাছে সত্য। জেগে উঠলে প্রেমাস্পদ নেই—সেটাই তার কাছে মিথ্যা। তাহলে জাগরণ কি সত্যিই জাগরণ? না কি জাগরণ আসলে আরেকটা স্বপ্ন—যেখানে আমরা ভুলে যাই, আমরা কে?
রুমি এই প্রশ্নের উত্তর দিতেন না—কারণ উত্তর দেওয়াটাই ভুল। তিনি বলতেন: বাহ্যিক চোখ বন্ধ করো। অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখো। যে-প্রেমিক সত্যিই দেখেছে—সে ভোরের সাথে তর্ক করে না। সে জানে—জাগরণ আর স্বপ্ন একই সমুদ্রের দুই ঢেউ। এ প্রশ্নের উত্তর তর্কে আসে না—আসে, যখন হৃদয় নিজেই আলো হয়ে ওঠে। বাইরের চোখ বন্ধ হলে ভেতরের চক্ষু একদিন ফোটে।
আর সেই নদীর নাম?
সুফিরা বলেন—আশেকি—প্রেমপিপাসা। বাউলেরা বলেন—মনের মানুষের তৃষ্ণা। ঋষি বলেন—আত্মা। রুমি বলেন—বিরহ।
তিনটে নাম। একটাই নদী। তৃষ্ণার উৎসও তিনি, তৃষ্ণার প্রশান্তিও তিনি। সেই নদী, যার উৎস সেই আদি নলবনে—যেখান থেকে আমাদের কেটে আনা হয়েছে। আর সেই নদীর মোহনা? সেই একই নলবন। উৎস আর গন্তব্য এক। শুরু আর শেষ এক। বিচ্ছেদ আর মিলন এক।
এর কারণ, নদী সমুদ্রে মেশে—আর সমুদ্র থেকেই বৃষ্টি হয়, আর বৃষ্টি থেকেই নদী জন্মায়। চক্র কখনও ভাঙে না। ফেরা চিরকালের।
এই পথে এসে আশেকের কণ্ঠ বদলে যায়। সে আর বলে না—আমাকে দাও। সে শুধু বলে—আমাকে নাও। সে আর আলো চায় না—সে নিজেই প্রদীপ হতে চায়। সে আর পথ খোঁজে না—সে পথের ধুলা হতে চায়। সেখানে প্রার্থনা আর পাবার দরখাস্ত নয়—সেখানে প্রার্থনা মানে প্রিয়তমের সামনে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে দাঁড়ানো।
মানুষ তখন বুঝতে শেখে—আমার শক্তি আমার নয়, আমার প্রেম আমার নয়, আমার কান্নাও আমার নয়। আমার ভেতরে যে-আগুন জ্বলে, তা দূরের কোনো শিখা থেকে এসেছে। আমি যে তাঁকে খুঁজি, এই খোঁজও তাঁরই দান। আমি যে কাঁদি, এই কান্নাও তাঁরই পথ।
আর তখন ঠোঁট নীরবে বলে—শেষে সব প্রশ্ন গলে গিয়ে এক নরম জ্ঞান জন্মায়। এই পৃথিবীর সমস্ত প্রেম, সমস্ত সৌন্দর্য, সমস্ত বেদনা, সমস্ত বিরহ—সবই সেই একের ছায়াপথ।
আমি পথ হারাইনি—আমাকে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমি শূন্য হইনি—আমাকে পূর্ণতার জন্য ফাঁকা করা হয়েছে, সুর হবার জন্য ফাঁকা করা হয়েছে। আমি ভাঙিনি—আমাকে বাঁশির মতো খালি করা হয়েছে। আমি একা নই—আমার নিঃসঙ্গতার গভীরেও এক সঙ্গী জেগে আছেন। আমি শুধু তাঁকে খুঁজছি না—তিনিও আমাকে টানছেন।
এই টানই তওবা। এই টানই প্রেম। এই টানই সাধনা। এই টানই ফেরার প্রথম কাঁপন।
আর আদিতে যে এক ছিল—সে-ই আমার বুকের ভেতর বহু হয়ে কেঁদেছে, বহু হয়ে ডেকেছে, আর শেষে বহু থেকে আবার একের দিকেই ফিরতে শিখিয়েছে।
শূন্যের সপ্তক: ৪
লেখাটি শেয়ার করুন