দর্শন ও মনস্তত্ত্ব

শূন্যের সপ্তক: ১৫



এই আমানত বা ঐশী দায়িত্ব কী? সুফি ব্যাখ্যায় এটি হলো আল্লাহ্‌কে চেনার ক্ষমতা, তাঁর আয়না হওয়ার যোগ্যতা—যা পাহাড় পারেনি, আকাশ পারেনি, কিন্তু মানুষ নিজের ঘাড়ে তুলে নিয়েছে। এই আমানত বহন করাই মানুষের সবচেয়ে বড়ো গৌরব আর সবচেয়ে বড়ো ভার—কারণ আয়নায় যখন মরচে ধরে, তখন আমানত হারায় না, কিন্তু প্রতিফলনের ক্ষমতা হারায়। আর প্রতিটি আত্মাই ইনসানুল কামিলের বীজ বহন করে, তবে অধিকাংশ বীজ মাটির নিচে ঘুমিয়ে থাকে। বেদান্তের ভাষায় এর নিকটতম অনুরণন জীবন্মুক্ত—যিনি দেহে থেকেও দেহাতীত, সংসারে থেকেও মুক্ত—তবে দুটো ধারণার শাস্ত্রগত পটভূমি স্বতন্ত্র।

কুরআনের ক্ষুদ্রতম অথচ গভীরতম সূরাগুলোর একটি সূরা আল-ইখলাস (১১২)। এটি চারটি আয়াতে তাওহিদের সমগ্র সত্য ধারণ করে: "কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ, লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল লাহু কুফুওয়ান আহাদ"—বলো, তিনি আল্লাহ্, এক; আল্লাহ্ অমুখাপেক্ষী (সামাদ—যাঁর কাছে সবাই যায়, যিনি কারও কাছে যান না); তিনি জন্ম দেননি, তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি; আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। সুফিরা বলেন—"আহাদ" (এক) শব্দটি "ওয়াহিদ" (একটি) থেকে ভিন্ন; "ওয়াহিদ" মানে একটি—যার পাশে দ্বিতীয় থাকতে পারে; কিন্তু "আহাদ" মানে এমন এক, যার পাশে দ্বিতীয়ের ধারণাই অসম্ভব—কারণ সব কিছু তাঁতেই। মাণ্ডূক্য উপনিষদের (৭) তুরীয়ের বর্ণনায়ও এই সুর শোনা যায়: "অদ্বৈতম্"—দ্বিতীয়রহিত, যেখানে "এক" বলাটাও অতিরিক্ত, কারণ "এক" বলতে হলে "দুই"-এর ধারণা থাকতে হয়, আর সেখানে "দুই"-এর ধারণাই নেই।

পবিত্র কুরআনের সূরা ইখলাসে বিধৃত ‘আহাদ’ অর্থ পরম একক, অনন্য, অদ্বিতীয় এবং মাণ্ডূক্য উপনিষদে উল্লিখিত ‘অদ্বৈতম্’ অর্থাৎ, যাঁর কোনো দ্বিতীয় নেই—এই দুটি শব্দ দুটি স্বতন্ত্র ধর্মদর্শন ও আধ্যাত্মিক পরম্পরার অন্তর্গত। শাস্ত্রীয় ও তাত্ত্বিক বিচারে এদের প্রেক্ষাপট এক নয়; একটিতে তাওহিদের পরম ঐক্য, অন্যটিতে চৈতন্যের দ্বিতীয়রহিত সত্য। তবু মরমি পাঠে, যেখানে ভাষা কেবল মতবাদের বাহন নয়, অন্তরাত্মার উন্মোচনেরও আভাস, সেখানে এই দুই উচ্চারণের মধ্যে এক গভীর দ্বিতীয়রহিততার অনুরণন শোনা যায়। এই সাদৃশ্যকে অভিন্নতা বলা দার্শনিক বিচারে অসতর্কতা হবে; বরং এটা বলা অধিক সংগত যে, এটি দুই ভিন্ন ঐতিহ্যের মধ্যে এক সূক্ষ্ম দূর-সাম্য, এক রহস্যময় সাযুজ্য রয়েছে, যেখানে খোঁজা ও পাওয়া, অন্বেষণ ও আত্মসমর্পণ, আহ্বান ও অবগাহন শেষপর্যন্ত এক অন্তর্গত সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে।

এই স্তরে এসে সুফি ও বেদান্তী কখনো কখনো এমন এক প্রান্তে এসে দাঁড়ান, যেখানে তাঁদের উচ্চারণ পরস্পরকে স্পর্শ করে, যদিও একে অন্যের মধ্যে বিলীন হয়ে যায় না। শঙ্করাচার্যের ব্যাখ্যায় বৃহদারণ্যক উপনিষদের মহাবাক্য ‘অহং ব্রহ্মাস্মি’—আমিই ব্রহ্ম (বৃহদারণ্যক উপনিষদ ১.৪.১০)—জীব ও ব্রহ্মের অদ্বিতীয় সত্যকে উদ্‌ঘাটন করে; অপরদিকে মনসুর আল-হাল্লাজের ‘আনাল হক’—আমিই সত্য—সুফি অভিজ্ঞতায় সেই অবস্থার সাক্ষ্য দেয়, যেখানে ব্যক্তিগত আমিত্ব ঐশী সত্যের প্রভায় নিজেকে বিলুপ্ত করে ফেলে। আর আবু ইয়াজিদ বিস্তামি, যিনি বায়েজিদ নামেই অধিক পরিচিত, তিনি পারস্যের বিস্তামে জন্মেছিলেন এবং সুফি পরম্পরায় “সুলতানুল আরিফিন” নামে সমাদৃত। তাঁর সেই বিস্ময়কর উচ্চারণ—“সুবহানি, মা আ'যামা শা'নি”: আমি কত পবিত্র, আমার মাহাত্ম্য কত বিশাল—আপাতদৃষ্টিতে চরম আত্মম্ভরিতার মতো শোনালেও, সুফি ব্যাখ্যায় তা অহংকারের নয়, বরং অহং-লয়ের ভাষা। কারণ বায়েজিদ যখন “আমি” বলেছিলেন, তখন তাঁর ভেতরে জাগতিক “আমি” আর অবশিষ্ট ছিল না; সেখানে ব্যক্তিমানসের কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, আর তখন সমস্ত উচ্চারণই করছিলেন স্বয়ং আল্লাহ্‌, যেমন শূন্য বাঁশি নিজের কোনো ভাষা নিজে বলে না, বাতাস তার মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়ে সুর সৃষ্টি করে।

তবু সুফি সাধনার ভেতরেই এই অভিজ্ঞতার একটি পরিণততর ব্যাখ্যা উপস্থিত হয় জুনায়েদ বাগদাদির কাছে। বাগদাদের এই মহান সাধক, যিনি “সাইয়িদুত তাইফা” নামে পরিচিত এবং সংযত বা “সাহু” সুফিবাদের প্রবক্তা বলে স্বীকৃত, বায়েজিদের “সুকর” তথা ঐশী উন্মত্ততার ভাষাকে চূড়ান্ত সত্যের শেষ প্রকাশ বলে গ্রহণ করেননি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ফানার পর বাকা আসে; আত্মবিলোপের পর স্থিতি, উচ্ছ্বাসের পর স্বচ্ছতা, মাতাল নিবিষ্টতার পর পরিপক্ব সংযম। অর্থাৎ, সাধনার এক স্তরে সাধক ঐশী প্রেমে এমনভাবে আপ্লুত হন যে, তাঁর পৃথক সত্তা যেন ডুবে যায়; কিন্তু পরিণত সিদ্ধি সেখানে, যেখানে তিনি ঐশী স্পর্শ বহন করে পুনরায় স্থির, জাগ্রত, সংযত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করেন। এই দৃষ্টিতে মাতলামি অভিজ্ঞতার তীব্রতা নির্দেশ করে, আর সংযম নির্দেশ করে তার পরিপক্বতা।

এই কারণে শঙ্করের ‘অহং ব্রহ্মাস্মি’, মনসুরের ‘আনাল হক’, এবং বায়েজিদের “সুবহানি” উচ্চারণ—তিনটির মধ্যেই আত্মপরিচয়ের এক অগ্নিময় দীপ্তি থাকলেও, তাদের শাস্ত্রগত ভিত্তি, ধর্মতাত্ত্বিক ভাষা, এবং সত্তা-ভাবনার কাঠামো এক নয়। অদ্বৈত বেদান্তের ব্রহ্মতত্ত্ব, সুফি তাওহিদের মরমি উন্মোচন, এবং ফানা-বাকার অন্তর্গত পথ—এরা পরস্পরকে আলোকিত করতে পারে, কিন্তু একে অন্যে নিঃশেষে রূপান্তরিত হয় না। তাই এদের অভিন্ন বলা উচিত নয়; বলা উচিত, এরা অনুরণিত। যেন ভিন্ন ভিন্ন পর্বতশিখর থেকে উচ্চারিত স্বর, যার উৎসপথ পৃথক, প্রতিধ্বনির ভঙ্গি পৃথক, তবু গভীরে কোথাও একটি দ্বিতীয়রহিত আহ্বান তাদের মধ্যে সাড়া জাগায়।

আমি গতরাতে তোমাকে নিয়ে প্রথম স্বপ্ন দেখলাম। সত্যি? সে হাসে। কীসের স্বপ্ন? অবিকলটা মনে নেই—কিন্তু পুরো সময় আমি জানতাম: তুমি আমার নও। তুমি নিজেই খনি—আর আমি সেই সোনা, যা জানত না, সে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। আর স্বপ্নটা ছিল মাটির নিজমুখে বলা: যথেষ্ট হয়েছে। ওপরে ওঠো। আলোতে ওঠো।

রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলিতে লিখছেন: "বিপদে মোরে রক্ষা করো, এ নহে মোর প্রার্থনা—বিপদে আমি না যেন করি ভয়।"—রক্ষা চাওয়া নয়, সাহস চাওয়া। মাটি থেকে সোনা বের হতে হলে মাটিকে খনন সহ্য করতে হয়; স্বপ্ন থেকে জাগতে হলে স্বপ্নের মিঠে ঘুম ছাড়তে হয়—আর সেই ছাড়াটাই নতুন পূর্ণতার জন্য জায়গা করে।

যখন ছোটো ছিলাম, আকাশের দিকে তাকাতাম আর ভাবতাম, ওটা শুধুই আকাশ। গান গাইতাম, তবে জানতাম না, কার জন্য গাইছি।

তারপর একদিন পর্দার আড়াল থেকে সেই লুকোনো মুখটি বেরিয়ে এল—আর প্রতিটি গান তোমার দিকে ঝুঁকে পড়ল, আর প্রতিটি রাস্তা স্বীকার করল, সে চিরকাল মাশুকের দিকে যাবার রাস্তাই ছিল।

সাদি শিরাজি (আনু. ১২১০-১২৯১/৯২) শিরাজের মহান কবি ও নীতিকথক। তাঁর গুলিস্তান ও বুস্তান-এ এই সুর আছে: অন্ধ সে নয়, যার চোখ নেই—অন্ধ সে, যে দেখেও চেনে না। আমি দেখেছিলাম। কিন্তু চিনতে পারিনি। চেনার জন্য যে-চোখ লাগে, সেটা শরীরের চোখ নয়—সেটা হৃদয়ের চোখ—বাউলেরা যাকে বলে, এ চর্মচক্ষু নয়, জ্ঞানচক্ষু—আর জ্ঞানচক্ষু খোলে কেবল তখনই, যখন চর্মচক্ষু কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত হয়ে বন্ধ হয়। কুরআন বলে (সূরা আল-হাজ্জ ২২:৪৬): "ফা-ইন্নাহা লা তা'মাল আবসার, ওয়ালাকিন তা'মাল কুলুব"—চোখ অন্ধ হয় না, বরং হৃদয় অন্ধ হয়। আসল দৃষ্টি বুকে, চোখে নয়।

দোঁহা: চর্মচোখে দেখি যত, ততই বিভ্রম বাড়ে, জ্ঞানচোখে একটি জ্যোতি—সব অন্ধকার ছাড়ে।

তোমার হাত আমার হাত ধরে। আমরা চুমু খাই—প্রথমে প্রশ্ন হিসেবে, তারপর উত্তর হিসেবে, তারপর নামাজ হিসেবে। গীতায় (৪.২৪) কৃষ্ণ বলেন: "ব্রহ্মার্পণং ব্রহ্ম হবির্ব্রহ্মাগ্নৌ ব্রহ্মণা হুতম্ / ব্রহ্মৈব তেন গন্তব্যং ব্রহ্মকর্মসমাধিনা"—অর্পণও ব্রহ্ম, আহুতিও ব্রহ্ম, অগ্নিও ব্রহ্ম, যিনি আহুতি দেন তিনিও ব্রহ্ম—যে এই দৃষ্টি রাখে, তার গন্তব্যও ব্রহ্ম। সহজ কথায়—যখন প্রতিটি কাজ, প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি শ্বাস পবিত্র হয়ে যায়, তখন আর আলাদা করে নামাজ পড়ার দরকার পড়ে না—জীবন নিজেই নামাজ। চুমু যখন নামাজ হয়ে যায়, তখন ঠোঁটও ব্রহ্ম, স্পর্শও ব্রহ্ম, যে স্পর্শ করে, সে-ও ব্রহ্ম—আর সেই মুহূর্তটুকু হয়ে যায় ইবাদত—কারণ সেখানে "আমি" আর "তুমি" নেই, আছে কেবল সেই একের বিভিন্ন অঙ্গে নিজেকে ছোঁয়া। তুমি আমার মুখ থেকে ওড়না সরিয়ে দাও। "তুমি সুন্দর।"

আমি চোখ নামাই। "তুমি আয়না। প্রতিবিম্বের প্রশংসা কোরো না। সেই আলোর প্রশংসা কোরো, যা প্রতিবিম্বকে সম্ভব করে।"

সূরা আন-নূর (২৪:৩৫)-এ আল্লাহ্ বলেন: তাঁর আলো যেন একটি কুলুঙ্গি—তার মধ্যে একটি প্রদীপ—প্রদীপ একটি কাচের আবরণে—কাচ যেন একটি উজ্জ্বল তারকা। "নূরুন আলা নূর"—আলোর উপর আলো। সৌন্দর্য কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়—সৌন্দর্য আল্লাহ্‌র নূরের তাজাল্লি বা প্রকাশ—মানুষের মুখে। সুফি দর্শনে আল্লাহ্‌র দুটি মুখ আছে—জামাল (সৌন্দর্য, কোমলতা, নৈকট্য) আর জালাল (মহিমা, ভীতি, অতিক্রমণ)। জামাল হলো ফুল ফোটা, জালাল হলো বজ্রপাত। জামাল হলো প্রেমাস্পদের হাসি, জালাল হলো তাঁর নীরবতা। দুটোই তাঁর তাজাল্লি—কিন্তু একটি কোমলে টানে, অন্যটি ভয়ে জাগায়। আর প্রকৃত সাধক দুটোকেই সমান চোখে দেখেন, কারণ দুটোই তাঁর মুখ। একইভাবে, সুফি কালামে দুটি পরস্পরবিরোধী সত্য একসাথে চলে: তানযিহ—তিনি জগতের ঊর্ধ্বে, কোনো কিছুই তাঁর মতো নয় ("লাইসা কামিসলিহি"); আর তাশবিহ—তিনি জগতের মধ্যে, সব কিছুতে তাঁর ছাপ ("আইনামা তুওয়াল্লু")।

ইবনে আরাবি বলতেন, যে শুধু তানযিহ মানে, সে আল্লাহ্‌কে সীমিত করে দূরত্বে; যে শুধু তাশবিহ মানে, সে আল্লাহ্‌কে সীমিত করে রূপে; প্রকৃত জ্ঞানী দুটোকে একসাথে ধারণ করেন। বেদান্তেও এই দুই সত্য একসাথে চলে—নির্গুণ ব্রহ্ম (গুণাতীত, রূপাতীত, অনির্বচনীয়—তানযিহের অনুরণন) আর সগুণ ব্রহ্ম (ঈশ্বর, ব্যক্তিরূপী, ভক্তের আরাধ্য—তাশবিহের অনুরণন)। শঙ্কর বলেন, পারমার্থিক দৃষ্টিতে ব্রহ্ম নির্গুণ, ব্যাবহারিক দৃষ্টিতে ঈশ্বর সগুণ—আর দুটোই সত্য, কেবল দৃষ্টিকোণ ভিন্ন। যখন তুমি বলো, "তুমি সুন্দর", তখন তুমি আসলে নুরকে দেখছ, কিন্তু ভাবছ, মুখ দেখছ। গীতায় (১১.১২) সঞ্জয় বলেন: "দিবি সূর্যসহস্রস্য ভবেদ্যুগপদুত্থিতা / যদি ভাঃ সদৃশী সা স্যাদ্ভাসস্তস্য মহাত্মনঃ"—আকাশে যদি হাজার সূর্য একসাথে উদিত হয়, তবু সেই দীপ্তি সেই মহাত্মার তেজের সমান হতে পারে কি না সন্দেহ। প্রেমাস্পদের মুখে যে-সৌন্দর্য দেখা যায়, সেটা মুখের নয়—সেটা সেই হাজার সূর্যের আলো, যা প্রতিটি আত্মার গভীরে জ্বলছে, কিন্তু প্রেমের মুহূর্তেই কেবল চোখে ধরা পড়ে।

যদি তুমি আমাকে ভালোবাসো আমি যেমন বা যা দেখতে, তার জন্য, তাহলে কেবল তোমার চোখ আমার দিকে ঘুরেছে, আর চোখ একসময় ক্লান্ত হয়। যদি ভালোবাসো আমি যা বলি, তার জন্য, তাহলে তুমি প্রতিধ্বনি ভালোবাসো, কণ্ঠ নয়। যদি ভালোবাসো লুকোনো আর সমগ্রকে, তাহলে তুমি সেইভাবে ভালোবাসো, যেভাবে আল্লাহ্ আত্মাকে ভালোবাসেন।

কিন্তু যদি তুমি আমার ছায়াকে আমার আলোর সাথে, আমার শীতকে আমার বসন্তের সাথে ভালোবাসতে না পারো—তাহলে তুমি কিছুই ভালোবাসোনি।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *