দর্শন ও মনস্তত্ত্ব

শূন্যের সপ্তক: ১



প্রেম ও বিপর্যয়ের ভেতর দিয়ে একটি আত্মার যাত্রা: গুপ্ত ধনভাণ্ডার


সুফি পরম্পরায় একটি বাণী আছে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মরমিদের বুকে জ্বলে আসছে: "কুনতু কানযান মাখফিয়্যান, ফা-আহবাবতু আন উ'রাফা, ফা-খালাক্বতুল খালক্বা লি-কাই ইউ'রাফ।" অর্থ—আমি ছিলাম এক গুপ্ত ধনভাণ্ডার। আমি চাইলাম, আমাকে জানা হোক। তাই আমি সৃষ্টি করলাম—যাতে আমি পরিচিত হই।


এটি সুফি পরম্পরায় হাদিস কুদসি হিসেবে বহুল উদ্ধৃত হলেও প্রামাণ্য হাদিসশাস্ত্রে একে সহীহ, হাসান, এমনকি দুর্বল হাদিস হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করা যায় না; বরং ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন, এর কোনো পরিচিত সনদ নেই; আস-সাখাউই বলেছেন, এর কোনো ভিত্তি নেই; এবং মোল্লা আলি আল-কারি একে মাউদু' (ভিত্তিহীন) বলেছেন। তা সত্ত্বেও ইবনে আরাবি থেকে রুমি, গাজ্জালি থেকে জামি—প্রায় প্রতিটি বড়ো সুফি চিন্তক এই বাণীকে গ্রহণ করেছেন এর আধ্যাত্মিক গভীরতার জন্য। এই কথাটির ভেতরে সৃষ্টির এমন একটা ব্যাখ্যা আছে, যা অন্য কোথাও এত সরলভাবে পাওয়া যায় না।


ব্যাখ্যাটা কী? সাধারণত মানুষ ভাবে—আল্লাহ্ সৃষ্টি করেছেন পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। ভালো করলে জান্নাত, মন্দ করলে জাহান্নাম। কিন্তু এই বাণী বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। এই বাণী বলছে—সৃষ্টির কারণ শাস্তি নয়, পুরস্কার নয়, পরীক্ষা নয়। সৃষ্টির কারণ—প্রেম। আল্লাহ্ একা ছিলেন। গুপ্ত ছিলেন। কেউ তাঁকে চিনত না—কারণ চেনার মতো কেউ ছিলই না। আর তিনি চাইলেন—কেউ আমাকে চিনুক। কেউ আমাকে দেখুক। কেউ আমার সৌন্দর্যে বিস্মিত হোক।


তাই তিনি সৃষ্টি করলেন।


যেন অনন্ত নিজেই নিজের মুখ দেখতে চেয়েছেন—সসীমের আয়নায়। যেন অদৃশ্য নিজেকে দৃশ্যের কপালে একবার স্পর্শ করে জানতে চেয়েছেন—আমার সৌন্দর্যের প্রতিধ্বনি কতদূর যায়।


সমুদ্র যেমন নিজেকে দেখতে পায় না—তরঙ্গ তৈরি করে, তরঙ্গের মুখে নিজের রূপ দেখে। আল্লাহ্ও তেমনি—তুমি, আমি, এই গাছ, এই পাখি, এই চাঁদ—আমরা সবাই তাঁর তরঙ্গ। তিনি আমাদের মধ্যে দিয়ে নিজেকে দেখছেন। আমরা তাঁর আয়না।


এটাই ইবনে আরাবির তাজাল্লি—ঈশ্বরের স্ব-প্রকাশ। এটাই বেদান্তের লীলা—ব্রহ্মের আনন্দময় খেলা। সুফি বলেন—তিনি গুপ্ত ছিলেন, প্রকাশিত হতে চাইলেন। বেদান্তী বলেন—"তদৈক্ষত বহু স্যাং প্রজায়েয়েতি" (ছান্দোগ্য উপনিষদ, ৬.২.৩)—সেই সত্তা ইচ্ছা করলেন: আমি বহু হই, আমি প্রকাশিত হই। ভাষা আলাদা, সুর এক—সৃষ্টি প্রেমের উচ্ছ্বাস, শাস্তির প্রকল্প নয়।


নলখাগড়ার কান্না


একটা বাঁশি আছে—তার সুর শুনে সারা পৃথিবী কাঁদে। কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করে না—বাঁশি নিজে কেমন আছে?


সে কাঁদে। সবার চেয়ে বেশি কাঁদে। কারণ তাকে কেটে আনা হয়েছে। সেই নলবন থেকে—যেখানে সে একদিন শেকড় দিয়ে মাটি ধরে দাঁড়িয়ে ছিল, বাতাসে দুলছিল, পূর্ণ ছিল—তাকে সেখান থেকে ছিঁড়ে, কেটে, ফাঁপা করে বাঁশি বানানো হয়েছে। আর এখন সে গায়। কিন্তু তার গান আসলে কান্না—সেই বাগানের জন্য কান্না, যেখান থেকে তাকে উপড়ে আনা হয়েছে।


এই কথাটাই রুমি বলেছিলেন।


রুমি—পুরো নাম জালালুদ্দিন মুহাম্মাদ রুমি। জন্ম ১২০৭ সালে, পারস্যের বালখ শহরে। মৃত্যু ১২৭৩ সালে, তুরস্কের কোনিয়ায়। পৃথিবীর ইতিহাসে যত কবি এসেছেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বড়োদের একজন। তিনি একটা মহাকাব্য লিখেছিলেন—নাম মাসনাভি-ই-মানাভি। ছয় খণ্ড। পঁচিশ হাজারের বেশি পঙ্‌ক্তি। আধ্যাত্মিক কবিতার এক মহাসমুদ্র। আর সেই মহাসমুদ্রের একেবারে প্রথম পঙ্‌ক্তিতে—প্রথম শ্বাসে—রুমি একটা নলখাগড়ার কান্না শোনালেন: "বেশনো আয নেই, চুন হেকায়াত মিকোনাদ / আয জোদায়িহা শেকায়াত মিকোনাদ"। সহজ বাংলায়: শোনো এই নলখাগড়ার কথা—সে কেমন করে বিচ্ছেদের অভিযোগ জানাচ্ছে।


রুমি পঁচিশ হাজার পঙ্‌ক্তি লিখেছিলেন। কিন্তু পুরো মাসনাভির সারকথা এই প্রথম দুই লাইনেই আছে। বাকি পঁচিশ হাজার পঙ্‌ক্তি এই দুই লাইনের ব্যাখ্যা মাত্র।


কী বলছেন রুমি?


বলছেন—আমরা প্রত্যেকে সেই নলখাগড়া। আমরা একসময় কোথাও পূর্ণ ছিলাম—আল্লাহ্‌র কাছে, সেই আদি নলবনে। সুফিরা একে বলেন আলাম-ই-আরওয়াহ—আত্মাদের জগৎ—যেখানে সমস্ত আত্মা সৃষ্টির আগে আল্লাহ্‌র সান্নিধ্যে ছিল। কুরআনে (সূরা আল-আ'রাফ ৭:১৭২) আছে—আল্লাহ্ সমস্ত আত্মাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আলাস্তু বি-রাব্বিকুম?"—আমি কি তোমাদের রব নই? আত্মারা বলেছিল: "বালা"—হ্যাঁ। সেই "হ্যাঁ" বলার মুহূর্তটাই নলবন। সেখানে আমরা পূর্ণ ছিলাম। তারপর আমাদের এই পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে—ছিঁড়ে, কেটে, ফাঁপা করে।


আর এখন আমরা যা-কিছু করি—গান গাই, কবিতা লিখি, প্রেম করি, কাঁদি—সবটাই সেই প্রথম বিচ্ছেদের স্মৃতি। সবটাই ফেরার আকুতি। বাঁশি সুন্দর শোনায়—কিন্তু বাঁশির সৌন্দর্যের মূলে আছে তার ক্ষত। তাকে কাটা হয়েছে বলেই সে গাইতে পারে। তাকে ফাঁপা করা হয়েছে বলেই তার ভেতর দিয়ে বাতাস বয়ে গিয়ে সুর তৈরি করে। তার ভেতরে কিছু নেই বলেই তার ভেতর দিয়ে অনন্ত কথা বলে।


এই শেষকথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত আমরা ভাবি—খালি মানে খারাপ। শূন্য মানে অভাব। কিন্তু বাঁশি উলটো কথা বলছে—আমি খালি বলেই আমার ভেতর দিয়ে অসীম বয়ে যেতে পারে। আমি শূন্য বলেই আমি পূর্ণ। যে-পাত্র ভরা, তাতে আর কিছু ঢালা যায় না। কিন্তু যে-পাত্র খালি, সে সমুদ্র ধরতে পারে।


এখানে সুফি দর্শনের সবচেয়ে গভীর সত্যটা লুকিয়ে আছে: ক্ষত না থাকলে সংগীত নেই। ভাঙন না থাকলে সৌন্দর্য নেই। বিচ্ছেদ না থাকলে প্রেমের গান নেই।


পৃথিবীতে যত মহৎ কবিতা লেখা হয়েছে, যত মহৎ সংগীত রচিত হয়েছে, যত মহৎ চিত্রকলা আঁকা হয়েছে—সব কিছুর মূলে আছে একটা ক্ষত। একটা না-পাওয়া। একটা বিচ্ছেদ। সুখী মানুষ কবিতা লেখে না—কবিতা লেখে সেই মানুষ, যে হারিয়েছে। হারানোটাই সৃষ্টির জ্বালানি।


এটাই রুমির প্রথম শিক্ষা। এটাই মাসনাভির প্রথম কথা। এটাই নলখাগড়ার স্বীকারোক্তি।


অচিন পাখি


রুমি পারস্যের কবি। এবার বাংলার মাটিতে আসি।


লালন ফকির—বাংলার সবচেয়ে বড়ো বাউল সাধকদের একজন। কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় ছিল তাঁর আখড়া—যেখানে তিনি গান গাইতেন, সাধনা করতেন, শিষ্যদের শেখাতেন। তাঁর জন্মসাল নিয়ে মতভেদ আছে—বাংলাপিডিয়ায় ১৭৭২ আর ১৭৭৪ দুটোই পাওয়া যায়। মৃত্যু ১৮৯০ সালে।


লালন একটা গান গেয়েছিলেন। সেই গানের কথা বাংলার মাটিতে এমনভাবে মিশে গেছে যে, গ্রামের কৃষক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক—সবাই চেনে: "খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়—ধরতে পারলে মনবেড়ি দিতাম পাখির পায়।"


খাঁচা মানে এই শরীর। হাড়, মাংস, চামড়া—এই যে-দেহটা, এটা একটা খাঁচা। আর সেই খাঁচার ভেতরে একটা পাখি বাস করে—যাকে লালন বলছেন "অচিন পাখি।" অচিন মানে অচেনা—যাকে চেনা যায় না, দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না।


এই পাখি হলো আত্মা। রূহ। সেই সত্তা, যা তোমার ভেতরে আছে, কিন্তু তুমি তাকে কোনোদিন হাত দিয়ে ধরতে পারবে না। সে আল্লাহ্‌র কাছ থেকে এসেছে—আর একদিন আল্লাহ্‌র কাছেই ফিরে যাবে। সে এই খাঁচায় কিছুদিনের অতিথি।


লালন বলছেন—এই পাখি "কেমনে আসে যায়"—সে আসে, সে যায়, কিন্তু আমি বুঝতেই পারি না…কীভাবে। ঘুমের মধ্যে সে কোথায় যায়? জন্মের আগে সে কোথায় ছিল? মৃত্যুর পরে সে কোথায় যাবে?


তারপর লালন বলছেন—"ধরতে পারলে মনবেড়ি দিতাম পাখির পায়।" মনবেড়ি মানে মনের শেকল। আমি যদি এই আত্মাকে ধরতে পারতাম, মনের দড়ি দিয়ে তাকে বেঁধে রাখতাম, যেন সে আর পালাতে না পারে।


কিন্তু এখানেই লালনের আসল কথা লুকিয়ে আছে—তিনি বলছেন "ধরতে পারলে।" মানে—পারি না। আত্মা ধরা যায় না। কারণ সে এই খাঁচার চেয়ে বড়ো। সে এই শরীরের চেয়ে বড়ো। সে মনের শিকলের চেয়ে বড়ো।


সুফি পরিভাষায় এটাই রূহ—আল্লাহ্‌র ফুঁ-দেওয়া প্রাণ—কুরআনে (সূরা আল-হিজর ১৫:২৯) আছে, আল্লাহ্ আদমের দেহে নিজের রূহ ফুঁকে দিলেন। বেদান্তের ভাষায় এটাই আত্মন—যা জন্মায় না, মরে না, কাটা যায় না, পোড়ানো যায় না—গীতায় (২.২০) কৃষ্ণ ঠিক এই কথাই বলেছেন। লালন, রুমি, কৃষ্ণ—তিনজন তিন ভাষায় একটিমাত্র সত্য বলছেন: তোমার ভেতরে এমন কিছু আছে, যা তোমার চেয়ে বড়ো।


রুমির নলখাগড়া কাঁদে নলবন থেকে বিচ্ছেদের কারণে। লালনের অচিন পাখি খাঁচায় বসে থাকে—কিন্তু খাঁচাকে ঘর মনে করে না। দু-জনে দুই দেশের, দুই ভাষার, দুই শতাব্দীর—কিন্তু কথা একটাই: আমরা যেখানে আছি, সেখানকার নই। আমরা অন্য কোথাও থেকে এসেছি। আর সেই "অন্য কোথাও"-র টান আমাদের বুকের ভেতরে চিরকাল বাজতে থাকে—কখনো বাঁশির সুরে, কখনো পাখির ডানার শব্দে।


মানুষ সত্য


চণ্ডীদাস—চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতকের বাঙালি কবি। তাঁর নামে একটা কথা বাংলায় এমনভাবে ছড়িয়ে গেছে যে, এটা আর শুধু কবিতা নেই—বাংলার বিবেক হয়ে গেছে: "সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।"


শাস্ত্র আছে—বেদ আছে, কুরআন আছে, বাইবেল আছে। মন্দির আছে, মসজিদ আছে, গির্জা আছে। বিধান আছে—কী করা যাবে, কী করা যাবে না। এত কিছুর ওপরে কী? চণ্ডীদাস বলছেন—মানুষ। মানুষ সত্য। তাহার উপরে নাই।


এটা শুধু মানবতাবাদ নয়—এটা মরমি সত্য। চণ্ডীদাস বলছেন না যে, ঈশ্বর নেই। বলছেন—ঈশ্বর মানুষের বাইরে নেই। ঈশ্বর পাথরের মন্দিরে থাকেন না—ঈশ্বর মানুষের বুকে থাকেন। তুমি যদি মানুষকে অপমান করো, তুমি ঈশ্বরকে অপমান করলে। তুমি যদি মানুষকে ভালোবাসো, তুমি ঈশ্বরকে ভালোবাসলে।


সুফিরা একে বলেন ইনসানুল কামিল—পরিপূর্ণ মানুষ—যার ভেতরে আল্লাহ্‌র সমস্ত গুণ প্রতিফলিত হয়। কুরআনে (২:৩৪) আল্লাহ্ ফেরেশতাদের বললেন, আদমকে সিজদা করো—কেন? কারণ আদমের ভেতরে আল্লাহ্ এমন কিছু রেখেছিলেন, যা ফেরেশতাদেরও নেই। উপনিষদ বলে "তত্ত্বমসি"—তুমিই সেই। তুমি যাকে খুঁজছ, তুমি নিজেই সেই।


রুমির নলখাগড়া কাকে খোঁজে? সেই পূর্ণতাকে—যা একসময় তার ছিল। লালনের অচিন পাখি কোথায় লুকিয়ে? এই দেহের ভেতরেই—এই মানুষের ভেতরেই। চণ্ডীদাস বলছেন—খুঁজছ কেন বাইরে? মানুষের ভেতরেই তো সেই সত্য।


তিনজন তিন শতাব্দীর, তিন ভাষার—কিন্তু আঙুল তুলে দেখাচ্ছেন একই দিকে: ভেতরে।


মীরার গিরিধর


এবার রাজস্থানের দিকে তাকাই।


মীরাবাঈ—মেবারের রাজকুমারী। জন্ম আনুমানিক ১৪৯৮ সালে। রাজপরিবারে বড়ো হয়েছেন—মাথায় মুকুট, গায়ে রেশম, পায়ের নিচে মর্মর পাথরের মেঝে।


কিন্তু মীরা এসব চাননি। মীরা চেয়েছিলেন কৃষ্ণকে। শুধু কৃষ্ণকে। এতটাই চেয়েছিলেন যে, রাজপ্রাসাদ ছেড়ে দিলেন। সম্পদ ছেড়ে দিলেন। সম্মান ছেড়ে দিলেন। পথে পথে গান গেয়ে বেড়াতে লাগলেন—খালি পায়ে, খোলা চুলে, চোখে অশ্রু আর ঠোঁটে কৃষ্ণের নাম। তাঁর সবচেয়ে পরিচিত ভজন: "মেরে তো গিরিধর গোপাল, দুসরো ন কোই।" আমার তো কেবল গিরিধর গোপাল—দ্বিতীয় কেউ নেই।


সুফি পরিভাষায় মীরা হলেন মাজনুন—প্রেমে উন্মত্ত। রাবেয়া আল-আদাউইয়া যেমন বলেছিলেন—জাহান্নামের ভয়ে নয়, জান্নাতের আশায় নয়, কেবল তোমার জন্যই—মীরাও ঠিক তা-ই বলছেন। মুক্তি চাই না, স্বর্গ চাই না, শুধু তুমি চাই। এটাই সুফিদের ইশক-ই-হাকিকি—প্রকৃত প্রেম—যেখানে প্রেমিক আর কিছু চায় না, শুধু প্রেমাস্পদকে চায়।


এবার তিনটে প্রেমকে পাশাপাশি রাখি।


রুমির নলখাগড়ার একটিই নলবন—সেখান থেকে সে কাটা পড়েছে, সেখানেই সে ফিরতে চায়। লালনের অচিন পাখির একটিই খাঁচা—এই দেহ, যেখানে সে বন্দি, যেখান থেকে সে মুক্ত হতে চায়। মীরার একটিই গিরিধর—যাঁকে ছাড়া তাঁর জগৎ শূন্য।


তিনটে আলাদা রূপ। তিনটে আলাদা দেশ। কিন্তু প্রেমাস্পদ একজনই—শুধু নামটা বদলায়। কেউ বলে আল্লাহ্, কেউ বলে ব্রহ্ম, কেউ বলে গিরিধর, কেউ বলে মনের মানুষ—কিন্তু যাকে ডাকা হচ্ছে, সে একজনই। চিরকাল একজনই।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *