কথোপকথন

মায়ার সুতো ছিঁড়ে

: একদিন হঠাৎ উধাও হয়ে যাব। খবর পাবে, আমি আর এদেশে নেই। শুধু কিছু স্মৃতি পড়ে থাকবে ছায়ার মতো। নিজেকে সবার চোখের আড়ালে নিয়ে যাব, যেখানে কেউ খুঁজেও পাবে না।

সবার কাছে বড়ো বেশি সহজলভ্য হয়ে গেছি।

একটা রোগ হয়েছে আমার, ঘোরের রোগ। এ রোগ যাকে ধরে, তাকে কাছের মানুষদের কাছ থেকে অনেক দূরে সরে যেতে হয়। অভিমানে নয়, বরং নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদে।

নিজেকে সবচেয়ে বেশি অবহেলা আমিই করি। তাই কেউ সম্মান করে না। মাটিতে পিষে দিয়ে চলে যায়, যেন আমি কিছুই নই।

কার‌ও কাছেই আমার কোনো মূল্য নেই। আমি নিজেই তো নিজেকে মূল্য দিতে শিখিনি।

সব জায়গা থেকে মায়ার সুতো ছিঁড়ে ফেলতে হবে। একদম একা বাঁচব।

সবার মন থেকে মুছে যেতে চাই। একান্ত নিজের মতো করে বাঁচব। সন্ন্যাসীর কপাল নিয়ে এসেছি, ও দিয়ে সংসার হয় না।

: এত অভিমান হঠাৎ কোথা থেকে এল?

: আমি তো এমনই। চিরকালই এমন ছিলাম।

: না। তুমি হঠাৎ অনেক বেশি এমন হয়ে গেছ।

: একা থাকার মধ্যেই সবচেয়ে বড়ো সুখ, সবচেয়ে গভীর শান্তি।

মানুষ যখন সম্পূর্ণ একা, শুধু নিজে আর নিজের কাজ, তখন জীবনের কোনো অপ্রাপ্তি, কোনো শূন্যতা তাকে ছুঁতে পারে না।

যত মানুষ, যত সম্পর্ক, তত অশান্তি, তত জটিলতা।

আমি কি জীবনে কোনোদিন একটুখানি ভালো থাকতে পারব না? আর কত অপেক্ষার পর একটু শান্তি আসবে? আর কতটা সহ্য করলে বিধাতা আমাকে একটা সুখের দিন উপহার দেবেন? নিশ্চিন্ত একটা জীবন কি আমার কপালে কোনোদিনই লেখা নেই?

কী করব বলো তো?

সবাই ভাবে, আমার যাওয়ার কোনো জায়গা নেই, তাই এমন কোনো অসম্মান নেই, যা বাকি রাখে। সম্মান যদি চাই, তাহলে এদের সবাইকে ছেড়ে দূরে সরে যেতে হবে। বুঝিয়ে দিতে হবে, আমি নিজেকে নিয়ে বাঁচতে পারি; আমাকে অসম্মান করলে আর কেউ আমাকে তাদের মাঝে খুঁজে পাবে না।

কিন্তু আমি এতটাই ভীতু, এতটাই দুর্বল যে, একা থাকতেই পারি না। বাকি জীবন সম্পূর্ণ একা কাটাতে হবে, এই কথাটা ভাবলেই শিরদাঁড়া দিয়ে ভয় নামে। কেন সাহস করতে পারি না আমি? কী করব?

আমাকে এই দুর্বলতার খাঁচা থেকে বের করে আনতে পারবে?

একটু সাহস দিতে পারবে? কিংবা এই সব কিছুর একটা পথ বের করে দিতে পারবে?

: অবশ্যই পারব। তোমার মতো সাহসী নারী আমি খুব কমই দেখেছি। তোমাকে সাহস দেওয়া আমার সাজে না। তবুও দেবো, তুমি চাইলে।

: মানুষ নিজের বেলায় সাহসী হতে খুব কমই পারে। তুমি একটু পাশে থেকো।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *