ভাবনাদেয়ালের পলেস্তারা

ভাবনাদেয়ালের পলেস্তারা: ১৫০





ভাবনা: এক হাজার পয়ত্রিশ
..........................................................
এক। তোকে আমার অনেক আদর লাগে, অথচ তোকে আমার ভয় পাবার কথা ছিল।

ইচ্ছে করে…তোকে আমার বুকের ভেতরকার, সেই অদ্ভুত মানুষটার সাথে একবার পরিচয় করিয়ে দিই। আমি  নিশ্চিত, তোর ভালো লাগবে। তুই জানিস, অনুভূতিগুলো ভীষণ একান্ত হলেও…আমার ভেতরঘরে তোর স্পর্শ বাড়ে অবিরত—এই একটা জায়গাতেই তুই শুধু আমার।

তোর সাথে যে-সময়টুকু থাকছি...ওটা ভেবেই আমি একটু ভালো রাখতে পারি নিজেকে। তোর সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো আমি ভুলতেই পারি না রে! এখনও মনে হচ্ছে...তুই আমাকে তোর বুকের মধ্যে নিয়ে রাখছিস…তোকে ছাড়া থাকাটা আমার জন্য অনেক বেশি কঠিন হবে।

দুই। তোকে খুঁজে পাচ্ছি না...
আমি লিখতে পারছি না।

তুই কেমন আছিস? 
আমি ভালো নেই।

আমি তোর সাথে থাকতে চাই...
সম্ভব নয়।

তিন। : তুই কখনো আমার দিকে...সেভাবে মনোযোগ দিয়ে দেখেছিস?
: দেখেছি রে।
: প্রথমদিকে, তাই না? তখন তোর চোখজুড়ে ভীষণ উৎকণ্ঠা ছিল;
আমি কত-কী ঠিক করে রেখেছিলাম, জানিস!
তোকে জড়িয়ে ধরে রাখব সারাক্ষণ, 
তোর নিঃশ্বাসে কান পেতে শুনতে পাবো— 
তুইও আমাকে 'ভালোবাসি' কথাটা বলতে চেয়েছিস বহুবার।

এসবের কিছুই হবে না।
আমি বুঝি, আমার সাথে থাকাটা খুবই অস্বস্তির। আমি তোকে বিরক্তি ছাড়া আর কিছুই দিতে পারিনি।

আমি মরে গেলে তোর কাছে খবরটা কে পৌঁছে দেবে? তুই কি আমাকে খুঁজবি?—না কি অভিমান কিংবা রাগ করে থাকবি?

এসব কথা সিরিয়াসলি নিস না। আমি এতটাও অবুঝ না...হা হা হা। যদি তুই কখনো জানতে পারিস—এর থেকেও বেশি অবুঝ আমি…তখন তুই কি ভীষণ অবাক হয়ে যাবি?


চার। অবশেষে, আমি বুঝতে পেরেছি...তোমার জীবনে আমি এক নির্জীব ফ্যাকাশে জড়বস্তু, যা খুব সহজেই ফেলে রাখা যায়। হাত দিয়ে ছুঁতেই...ধুলো লেপটে যাবার ভয়ে, এককোনায় রেখেছিলে আমায়। খুব সাবধানে তাই জানালার বাইরে ছুড়ে ফেললে—যেন সহজেই ভেঙে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাই।

অনেকটা সময় কেটে গেল এটা বুঝতেই যে—আমি আসলে তোমার কেউই নই। তোমার সুন্দর সময়গুলোর—কোত্থাও আমি নেই, তোমার ব্যস্ত সময়জুড়েও নেই আমার আনাগোনা…কিংবা, তোমার ক্লান্তিহীন শরীরে নেই আমার স্পর্শ। তোমার বুকের পাঁজরে আশ্রয় খুঁজে…স্রেফ নিঃশ্বাসটুকুই ভারী হলো!

আমি ভীষণ নির্বোধ‌ই হয়তো! তবুও চাই, তুমি এই অভিনয় থেকে মুক্ত হ‌ও।




পাঁচ। আমি নিশ্চিতভাবেই এক দুঃস্বপ্নের পেছনে ছুটে চলেছি। কিন্তু, আমি যা পেয়েছি…তা ছিল কল্পনাতীত—তোমার ভালোবাসা, তীব্র অপেক্ষায় বদলে-যাওয়া আক্ষেপ এবং এমন কিছু…যা আমি কখনও অর্জন করিনি।

আমার অক্ষমতা কি সত্যিই তুমি মেনে নিয়েছিলে? আমার সমস্ত অসুখ বাড়ছে জেনেও—তুমি বলেছিলে, “সব ঠিক আছে।" কিন্তু লোকে কেন ওটাকে "সমস্যা" বলে ডাকত?

কেবল দূর থেকেই সেই অনুভূতিগুলো লিখতে পারাটা ভাগ্যের ব্যাপার—”যদি তুমি আমার ব্যথা বুঝতে চাইতে, তবে আমায় ঘৃণা করতে।”

তুমি একবার বলেছিলে, আমাকে তোমার সাথে কাদায় হাঁটতে হবে, ছেঁড়া কাপড় পরে। তাই তুমি একটি পুরোনো গাড়ি ধার করেছিলে—সেদিন প্রথম তুমি আমার শরীরের ক্ষতগুলো, গভীর আলিঙ্গনে পিষে ফেললে…রক্তপাত বন্ধ হলো না কিছুতেই।

তোমায় কতখানি ভালোবাসি—জানতে পারলাম। অবশ্য, সেই উপত্যকাতে এসেই তুমি উধাও হয়েছিলে। এই মুহূর্তে, আমি ভীষণ তৃষ্ণার্ত…

তোমাকে স্পর্শ করা প্রয়োজন।




ছয়। সুন্দর সময়গুলো কত দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তাই না? ওরকম কিছু মুহূর্ত সারাটা জীবন পার হয়ে গেলেও, আর ফেরে না—এমন কেন মনে হয়?

ওই সময়ের পর কি…আর ভালো থাকিনি? ওই মুহূর্তগুলোর চেয়ে, ভালো কোনো সময়…আর আসেইনি? সেই সময়ের চেয়ে বেশি সুখী কি…আমি নিজেকে আর একটা বারও রাখতে পারিনি?

বুঝতে পারছি, বর্তমানটা খারাপ যাচ্ছে। তাই অতীতের সেই মুহূর্তগুলোকে ভেবে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। এখন কেন জানি…কোনো ভালো মুহূর্তকে উপভোগ করতে পারি না, তেমন করে মনে গাঁথতে পারি না। সময়টা ভালো কাটলেও, তার কদর করতে পারি না। সেই সেন্সটাই আজ চলে গিয়েছে।

পুরোনো মানুষগুলোও যেন বদলে গিয়েছে—তাদের শরীরের সেই মিষ্টি সুবাসটা আর তেমন খুঁজে পাই না। কাউকেই আপন লাগে না। নতুন মানুষগুলোকে জীবনে সেভাবে স্থানই দিতে পারিনি…তাদের সাথে দিনগুলোও দায়সারাভাবেই কাটছে। সব মিলিয়ে, আমি একজন অসহ্য মানুষই বটে।

আমি একজনকে ভীষণ ভালোবাসি—তার কাছে প্রত্যাশাও রাখি না…কেননা, সে দূরে থেকেই ভালো আছে। আমি চাই না…আমার ভয়গুলো তাকে জানাতে, বলতে চাই না…তার জন্য আমার বুকের ভেতরটা কতখানি অস্থির থাকে।

জানি শুধু…সে আমায় ছাড়া বড়ো ভালো আছে—হয়তো তার মতন করে…যার কোত্থাও আমি নেই।

আমরা মাঝেমধ্যে আমাদের ভালোবাসার মানুষটার কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিই—এতে কী হয় আমি জানি না। তবে নিজের সাথে একটা বোঝাপড়া তৈরি হয়।

কেন জানি না, আমার এসব বোকা বোকা অনুভূতির কথা আজকাল তোকে বললেও কীরকম ইতস্তত লাগে…

তবুও, জানিস, আমার তোকে খুউব কাছে থেকে দেখতে ইচ্ছে করে! তোকে ভীষণ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, একবার বলতে ইচ্ছে করে—তুই-ই আমার সব।




সাত। আমার কাছে ধর্মচর্চার মানে একটাই—ভালো হওয়া বা ভালো হতে চাওয়া। এর বাইরে আর যা-কিছু, তা নিয়ে আমার সাধারণত কোনো মাথাব্যথা থাকে না। ওইটুকু তো যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

ভালো লোকের ধর্ম জেনে আমার কী কাজ? ভালোত্বের চেয়ে বড়ো ধর্ম আর কী আছে?

মন্দ লোকের ধর্ম মেনে আমার কী কাজ? মন্দত্বের চেয়ে বড়ো অধর্ম আর কী আছে




আট। একটা মানুষ; মুখফুটে কখনও কিছু বলে না, সবসময় চুপ করে থাকে; এর মানে এ নয় যে, সে কোনো কিছুতেই কষ্ট পায় না। কষ্ট সে ঠিকই পায়, কিন্তু সহ্য করে। সবাই তো আর হইচই-চ্যাঁচামেচি করতে পারে না, তাই না? এটা বোঝাটা খুব জরুরি।

ভালোবাসা না পেলেও মানুষের তেমন কিছু ক্ষতি হয় না, কিন্তু দিনের পর দিন কষ্ট পেলে মানুষ ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। তার ভেতরটা দেখা গেলে সবাই দেখত, ওখানে কিচ্ছু নেই, কীরকম জানি কালো হয়ে আছে। ভালোবাসাহীনতায়ও বাঁচা যায়, কিন্তু শান্তিহীনতায় বাঁচা খুব কঠিন।

যে কষ্ট দেয়, দুর্ব্যবহার করে, চেহারায় সারাক্ষণই বিরক্তি আর কর্কশভাব ধরে রাখে, সে নিজেও কিন্তু ভালো নেই। এসব থেকে সরে এলে তার নিজের কষ্টই কমত সবার আগে। এই সহজ ব্যাপারটা তার মাথায় আসে না।

কারও সাথেই এমন করতে নেই, এমন করাটা পাপ। পাপের প্রায়শ্চিত্ত না করে কেউ পৃথিবী ছাড়তে পারে কি?




নয়। জীবনকে তার যন্ত্রণা-সহ গ্রহণ করো।




ভাবনা: এক হাজার ছত্রিশ
.................................................
এক। তোর কাছাকাছি যে সবসময় থাকতে পারে, সে অনেক লাকি! আমার ভাগ্যটাই খারাপ।

তোমাকে ধন্যবাদ—তুমি করুণা করে আমায় 'ভালোবাসি' বলেছিলে।

তোকে কাছে পেলে আর ছাড়তাম না!

দুই। তোমার চোখের দিকে খুব বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না। যেন ক্রমশই, এক গভীর…ঠান্ডা, অথচ তীব্র দৃষ্টির আড়ালে প্রতিনিয়ত তুমি অপ্রস্তুত হয়ে পড়ছ। বিদায়ের মুহূর্তে, পুরোটা সময়জুড়ে তোমার চোখদুটো ছলছল করছিল—যেন কেউ ভেতরে প্রচণ্ড কষ্ট, রাগ বা হতাশা নিয়ে দীর্ঘদিন নিজেকে শ্বাসরোধ করে রেখেছে।

অসহ্য বিষণ্ণতার মোড়কে রাখা বিশ্বাস, ভয়ংকর অপরাধবোধ এবং একধরনের নিকৃষ্ট অভিশাপ…যা-কিছু থেকে তুমি মুক্ত হতে পারোনি আজও…তা-ই নিখুঁতভাবে তোমার চোখে স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হলো। অথচ, তোমার স্পর্শে সমস্ত সুখের অনুভূতি পুনরায় জ্যান্ত হবার কথা ছিল।

তুমি যে-মুহূর্তে আমায় ছেড়ে গিয়েছিলে—এক মিশ্র অনুভূতির আর্তনাদে আমার বুকের পাঁজরটা ছিঁড়ে যাচ্ছিল…দুঃখ, আত্মনিন্দা, আর নিঃসঙ্গতায়।

তিন। একান্ত ভেতরের মানুষটার কাছেও নিজেকে মাঝেমধ্যে বাড়াবাড়ি রকমের বোঝা মনে হয়, জানো! সেই অর্থে, তুমি আমায় অনেক তো সহ্য করলে…এভাবে আর কত?

আর কখনও আমায় নিয়ে ভেবো না…এমনকি আমার জন্য বুকের গভীরের রক্তপিণ্ডটা জমাট বাঁধতে দিয়ো না। অতিরিক্ত অনুভূতির প্রকাশ্যে… বিদ্রুপের হাসি লুকোনোর যন্ত্রণা কতখানি, তুমি জানো?

নাহ্! তুমি এসবের কিছুই জানো না। তাই, তুমি নিশ্চিতভাবেই আজ আমায় হারালে।

চার। ভালোবাসার হালচাল কেমন অদ্ভুত!
যার কাছে সে পেল স্বস্তি, যেখানে আত্মার নিঃশব্দ নিদ্রা হয়,
ভাবে—তারেই বুঝি বাসে সে ভালো।

অথচ তার মন পড়ে থাকে অন্য কোথাও,
সেই বাঁড়ুয্যে বাড়ির চৌকাঠে…
যেখানে তার প্রাণের ধন মাটির ঢেলা নিয়ে
আচ্ছা করে খেলে নিচ্ছে।

পাঁচ। – কেমন আছ তুমি?
– ভালোই তো।
– এড়িয়ে যাচ্ছ কিছু?
– তা-ই মনে হয়?
– আমার তো মনে হয়, সুখের পরতে রেখেছ ঢেকে ভেতরের পরত-পরতের রক্তক্ষরণ।

ছয়। একটা সময় মানুষ মুক্ত পাখির মতো ছিল; নিজের মতো ঘুরে বেড়াত, হাসত, গান গাইত। অ্যালবাট্রসের মতো সারাআকাশে নিজেকে ছড়িয়ে দিত, তারপর আবার ঠিক নিড়ে ফিরত।

তোমার কাছে গেলেও আমার নিজেকে এতটাই মুক্ত মনে হয়। তোমার কাছে গেলেই কেমন কথা-অকথা পায় আমার। তোমার কাছেই নিজেকে রাখি পুজোর অর্ঘ্যের মতো, যা ফিরিয়ে নেবার নয়। তবুও, তুমি কেমন আশীর্বাদ করে আমায় আমাকে ফিরিয়ে দাও।

মানুষ কী অদ্ভুত, না? ঘর বাঁধতে চায়, কিন্তু ঘরে থেকে যেতে চায় না।

সাত। খারাপ লোকেদের সাথে প্রতিযোগিতা করে জেতার চাইতে বরং ভালো লোকেদের সাথে প্রতিযোগিতা করে হেরে যাওয়াও ভালো।

আট। আমি বিকল্প পথে হাঁটতে শুরু করি…
এই বিশেষ পথটি বিশ্রামের জন্য নয়, বরং অযৌক্তিকতা থেকে মুক্তির জন্য।

আচমকা লক্ষ করি…
এই স্থানটি পরিত্যক্ত, আমার ক্লান্ত আত্মা কেবল তোমার কথা বলে চলেছে—যা আমার স্মৃতিতে অহেতুক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে এবং এর অর্থও আমার কাছে স্পষ্ট।

এর কারণ, মূলত এই ক্লান্তির আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্তর্জাগরণ।

আমি ভীষণ সংবেদনশীল মনের মানুষ—তোমার উপেক্ষা আমাকে অজস্র দ্বন্দ্বের নিচে ফেলে একেবারে দম বন্ধ করে দেয়।

এক বিক্ষিপ্ত ভয়ে তাকিয়ে থাকি আমি…তোমার পথ চেয়ে।
ঠিক সেই মুহূর্তে যা আমার শরীর ও মনকে আচ্ছন্ন করে তোলে—তা হলো নীরবতা, শান্তি...ক্ষণিকের জন্য তোমায় ফিরে পাবার আকাঙ্ক্ষা।

কিন্তু সেই বিশুদ্ধ, সরল অস্তিত্বের আকাঙ্ক্ষায় ছটফট করতে করতে গড়িয়ে পড়ে আমার শেষ রক্তবিন্দুটিও।

নয়। তোমাকে ছুঁয়ে দেখার আগপর্যন্ত
আমার মনে হয়েছিল,
তোমাকে পাওয়া অসম্ভব।

তোমাকে ভালোবেসে ফেলার
আগমুহূর্ত অবধিও, মনে হয়েছিল—
তুমি খুব সাধারণ।

দশ। তোর সাথে আজ আবার ভীষণ কথা বলতে ইচ্ছে করছিল,
তাই কিছু লেখার অসম্পূর্ণ অংশ ছুঁয়ে দেখলাম...
যদিও তেমন কিছুই বলতে পারিনি।

এগারো। ঠিক যে-মুহূর্তে তুমি জেনে গেলে
তোমায় ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি,
সেই মুহূর্ত থেকেই
তুমি আমায় দুর্বল ভেবে নিলে।

তোমার সেই ভাবনাই—
আমাকে তোমার থেকে দূরে সরিয়ে দিল।

বারো। আপনার সন্তানকে দুঃখ পেতে শেখান, পরাজয় সহজে মেনে নিতে শেখান। বোঝান, সুখ-দুঃখ-জয়-পরাজয় জীবনের একেকটা অংশ।
তাকে দুঃখ কিংবা পরাজয় থেকে পুরোপুরি বাঁচিয়ে দেওয়া বন্ধ করুন। বাঁচালে তাকে বিপদ থেকে বাঁচান, দুঃখ কিংবা পরাজয় থেকে নয়।
হার-জিত থাকবেই জীবনে। ননীর পুতুলের মতন তার গায়ে ফুলের আঁচড়টুকুও লাগতে না দিলে হঠাৎ কোনো মাঝারি ধরনের দুঃখ কিংবা পরাজয় সে সহজে মেনে না নিতে পেরে আত্মঘাতী হতেও পারে।
শক্ত হতে শেখান, ঠিক পাথরের মতন। শক্ত আঘাতেও যেন তাকে ভাঙা না যায়।




লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *