গল্প ও গদ্য

ভাঙনের খসড়া



এক। তোর কথা হঠাৎ মনে পড়লে...
চোখে জল এসে যায় আমার, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে।

তোর বুকের গভীরে...
একটুকরো জায়গা যেন একান্তই আমার—
এমনটাই ভেবেছিলাম।

কেন ভাবতে যাই ওসব?

দুই। তুই ঠিকই বলেছিলি—আমি তোকে না পেলে বড়ো বেশি অস্থির হয়ে পড়ি। আমি যতটা স্ট্রং প্রিটেন্ড করি নিজেকে, এর কিছুই আমি নই।

আমি নিজেকে ভালো রাখতে সত্যিই পারিনি। যেমনটা—তোকে ভুলে থাকতে পারিনি, তোকে ছুঁতে চাওয়ার ইচ্ছেটাও কমাতে পারিনি...ওসব একেবারেই বিলাসিতা।

আমি আসলে পেরেছিটা কী?

তিন। কতখানি অপেক্ষার পর কিছু সুন্দর মুহূর্ত স্পর্শ করা যায়? উত্তরটা জানা ছিল না আমারও।

সেদিন আমাকে জড়িয়ে ধরলে ভুল হতো না। মিলিয়ে নিয়ো। আমাদের আর কখনও দেখা হবে না।

চার। যখন একজন মানুষ ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেয়...বাস্তবতাগুলো তার চোখে ভিন্নভাবে ধরা দেয়।

খুবই সামান্য অবহেলায় যে-মানুষটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যেত...সে এখন নিজেকে গড়তে ব্যস্ত!

বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই অনুভূতিগুলো শব্দে রূপ নিতে অক্ষম। যারা এ অক্ষমতা ভেঙেছে, আমি কি তবে তাদের দলে?

অনুভূতিকে শব্দে রূপ দেওয়া ভীষণ বিক্ষিপ্ত চিন্তারাশির প্রতিফলন—মানুষ সাধারণত সরলভাবে তাদের চিন্তার ধরনকে প্রকাশে আগ্রহী। বিক্ষিপ্ত কল্পনা মস্তিষ্ককে ছোটো ছোটো কম্পার্টমেন্টে বিভক্ত করে তোলে, যার একেকটি বিস্তৃত সব অনুভূতিতে ঠাসা। অস্বাভাবিক গতিতে যখন তারা ছুটতে থাকে গন্তব্যলাভের আশায়—ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি।

এ থেকে মুক্তি মানুষটা সম্ভবত কখনোই পায় না, পাবে কী করে?—এই খেলাটিতে সে এতটাই আসক্ত যে, মুক্তিলাভের চিন্তা-সহ সকল জাগতিক বাস্তবতা তার দৃষ্টিতে একেবারেই তুচ্ছ'; পৃথিবীতে যতগুলো মহৎ সৃষ্টি আছে—এর অধিকাংশই অসীম মানবিক, অধিক গভীর।

সৃষ্টির শুরুটাও কি এভাবে হয়েছিল?
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *