ভগ্নহৃদয়ের নীড়ে



তুমি কি এই ভগ্নহৃদয়ে বাস করবে, নীড়?
যা তোমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে,
সেই ব্যাধি আমায় ফিরতে দেবে না তোমার কাছে।

কতদিন পর, আজ তুমি আমায় "নীড়" বলে ডাকলে!
জানো? এই কাঁটাভরা পথে,
তোমার অনুভব আমাকে ভীষণ কাঁদায়।
কেন করছ এমন?
আমি পুড়ছি অর্ন্তদহনে,
আর তুমি—তুমিই আমাকে ছুঁয়ে দেখলে?
কেন ফিরে যাও না?
তবে কি, একদিন... তুমিও ভালোবেসেছিলে আমায়?

শরীর ডুবিয়ে নিঃশ্বাস নিতে পারি না—
ভালো লাগে না, নীড়।
তোমার স্পর্শ বুঝতেই বুক কাঁপে,
এলোমেলো হয়ে ওঠে ভেতরটা।
কবে আসবে তুমি?
আমি নিস্তব্ধতায় তোমায় জড়িয়ে রাখব।

তুমি বললে, "এত কাছে আসতে চাও?"
তবে এসো, মিশে যাও আমার রক্তের শেষবিন্দুতে।

আহ্! শান্তি...
বুঝতে পারছ, আমি তোমার কতটা কাছে?
চোখ বন্ধ করো—তোমার নিঃশ্বাসে
মিশে থাকে এক অস্থিরতা,
তোমার পরিচিত শরীরজুড়ে
সে মাদকীয় সুবাসে আমি পাগল হয়ে যাই।
কী করে বোঝাই?
তোমার শরীরজুড়ে থাক শুধুই আমার দীর্ঘশ্বাস...
আরও কাছে এসো!
তোমার আলিঙ্গনে থেমে যাক আমার সমস্ত দোলাচল।

– “শান্ত হও,” তুমি বলো,
“আমি আছি, তোমার খুব কাছে।”

আহ্! এত আদর!
আমি কি এর যোগ্য?
তোমার তীব্র ছোঁয়া সহ্য করার ক্ষমতা ঈশ্বর দেননি আমায়—
ভীষণ কষ্ট বাড়ে, অমন কোরো না।

– “আদর নিতে যোগ্যতা লাগে না,” তুমি বলো,
“লাগে শুধু একটুকু আকর্ষণ।
শরীর ছুঁতে প্রেম বা ভালোবাসা নয়,
লাগে কেবল অতিমাত্রার উত্তেজনা।”

কিন্তু আমার তো এসব কিছুই নেই...
তবে কি আমাকে চলে যেতে হবে?

– “যেতে হলে যাও,
আমি আটকে রাখি না কাউকে।
তবে তুমি এক বিস্ময়—
যে আমার দৃষ্টিহীন চোখে আলোর মতো এসেছ,
আমাকে বার বার ক্ষতবিক্ষত করেছ।
আমি সাহসী মানুষ ভালোবাসি।”

তুমি কি ভালোবাসো আমায়?
থাক, বোলো না।
তুমি "ভালোবাসি" বললেই
একটা অপরাধবোধ তাড়া করে বেড়ায় আমাকে।

– “বোকা মেয়ে!”
তুমি না থাকলেও,
তোমার নিঃশ্বাসে রেখে দিয়ো আমায়—
তোমার বুকের লোমকূপে,
আমার অস্তিত্ব জেগে থাকুক।
ভয় পেয়ো না, আমি আর কষ্ট দেবো না।

তিথি,
তুমি কি জানো,
তোমার ভালোবাসার তীব্রতা যখন অনুভব করি,
নিজেকে আর আটকে রাখতে পারি না—
তোমায় আগলে রাখি রোজ।

তোমার নাম—তিথি—
নীল-রঙা বেদনার মতো।
তোমার মতো।
হঠাৎ “তিথি” বলে ডেকে
চমকে দিতে চেয়েছিলাম তোমায়—
সেই সময়টুকু দিতে পারতে!

এত নিষ্ঠুর কেন তুমি?

– “কেন আগে এসব বলোনি?”
আজ, আমার নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারলে?
আগে কতবার বলতাম—
তোমার মনের কথাগুলো শুনতে চাই... মনে আছে?

মানুষ এমনই, তাই না?
মৃত শরীরের কষ্ট বোঝে,
জীবিত অনুভবকে পায়ে মাড়ায়।

ধীরে ধীরে, ভেজা চোখে
যখন এগিয়ে গিয়েছিলাম তোমার দিকে—
তুমি কেন দেখলে না আমায়?

সেদিন যদি একবার,
শুধু একবার তোমার দৃষ্টিতে আমায় খুঁজে নিতে,
তবে শীতের বাতাসে তছনছ হয়ে যেতে...

অযথাই এসে তোমার বুকে চোখ বুজলাম।
তোমার দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে আছি এখনও,
নির্জনতা ছুঁয়ে, নিঃশব্দে।
তুমি দেখবে না?

তাকিয়ে দেখো—
এখন আর আমার চোখে জল নেই।

(শেষ)