গল্প ও গদ্য

বাবারা যেমন হয়

আচ্ছা, বাবারা কেমন হয়?

ভীষণ কান্না পেলে কাছে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়? বিষণ্ণতায় চোখ বুজে এলে গালে চুমু খায়? পেরেকে পা বিঁধে গিয়ে দরদর করে রক্ত বেরোলে সেই পেরেক রাগে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে দেয় পরম মমতায়?

আচ্ছা, কেমন লাগে তখন?

বাবার চুমুর অনুভূতি কেমন? খুব করে বকে দিয়ে বুকে জড়িয়ে নিলে বুকের ভেতরে অস্থিরতায় ধুকধুক করে? না কি নদীর মতন শান্ত হয়ে যায় মন?

আচ্ছা, মুখ কাঁচুমাচু করে বন্ধুদের সাথে ট্যুরে যাবার আবদারে বাবার কাছ থেকে টাকা চাইতে ভয় হয়, না কি সুখ?

যখন খুব প্রিয় কেউ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে অন্য কারও হাত ধরে চলে যায়, যখন বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটি বিশ্বাস ভেঙে দেয়, দুঃখের ভারে একলা রুমে কাঁদতে কাঁদতে ফোলা চোখ দেখে তখন কি বাবারা ঠিক বুঝে যায়, তুফান এসে তোলপাড় করে দিয়ে গেছে ঘর-মন-দুয়ার…সব? তখন কি হাতে পাঁচ-শো টাকা গুঁজে দিয়ে 'বাইরে গিয়ে কিছু খেয়ে আয়' বলে?

আচ্ছা, সবার ঘরেই যদি ছাদ থাকে, ঝড়-বৃষ্টি-রোদ এলেও সাহস করে দাঁড়িয়ে থাকার মতন মাথার উপর মজবুত ছাতা থাকে, তবে আমার কেন নেই? ঈশ্বর আমার সাথে এ কোন বোঝাপড়ায় গেলেন?

বিষণ্ণতায় আমি কাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদব? ঝড়ে ঘর ভেঙে উড়ে গেলে আমি কোন খুঁটিটা ধরে ঝড় সামলাব? আমি কী করে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে গর্বভরে বলব…আমার ভয় নেই! আমি একা নই!
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *