তুমি আঁকড়ে ধরো আমায়—
যেমন সমুদ্র তীরকে ধরে, ছাড়ে, আবার ধরে;
কিছু বলে না, কিছু চায়ও না—
শুধু ফেরে, শুধু ফেরে...
যেন ফেরাটাই তার প্রার্থনা,
যেন ছোঁয়াটুকুই তার সমস্ত কথা।
তুমি চেয়ে বসো আমায়—
সেই চাওয়া, যা চোখে দেখা যায় না,
গলায় কম্পিত হয় না,
শুধু বুকের ভেতর একটা কাঁপন হয়—
যেমন ঘুমন্ত শিশুর গায়ে কেউ আলতো করে কম্বল টেনে দেয়,
শিশু জানে না, তবু গভীরে কোথাও জানে—
কেউ আছে, কেউ আছে, কেউ আছে।
তুমি খুঁজে চলেছ আমায়—
পথ যেমন চলে...জানে না, কোথায় যাচ্ছে,
তবু থামে না, থেমে গেলে
যে-পা হেঁটেছে, তার কোনো অর্থ থাকে না—
তুমি কখনও অর্থ খোঁজো না,
তুমি শুধু হাঁটো, হাঁটো, হাঁটো—
যেন হাঁটাটাই পৌঁছোনো,
যেন পথটাই ঘর।
এই হাঁটা, এই ফেরা, এই কম্বল-গায়ে-দেওয়া ভালোবাসা—
এসবের ভেতর দিয়ে তুমি দিয়েছিলে পুরোটা,
রাখোনি কিছুই—
মোমবাতি যেমন রাখে না,
গলে যায় আলো ছড়াতে ছড়াতে,
ছোটো হতে হতে—
আর শেষে যখন নেভে,
তখনও মোমের গন্ধ থেকে যায় ঘরে,
উষ্ণতা থেকে যায় হাতের তালুতে,
অনেকক্ষণ, অনেকক্ষণ।
সেই উষ্ণতায়
আমার ভেতরের সব অন্ধকার নরম হয়েছে।
যেখানে ঢোকা যেত না, ভয় ছিল—
সেখানে এখন আলো আসে,
যেমন আসে মায়ের হাত কপালে—
জ্বর মাপতে নয়, শুধু থাকতে,
শুধু বলতে—এই যে আমি, ভয় নেই।
বুকের গভীরে কিছু শব্দ আছে—
যা কোনোদিন ভাষা হয়ে উঠবে না,
কিন্তু তোমার কাছে পৌঁছে গেছে আগেই—
তুমি যে থাকো শব্দেরও আগে,
নীরবতারও পরে,
সেই জায়গায়—যেখানে কেউ কিছু বলে না,
শুধু পাশে বসে থাকে,
আর পাশে বসে থাকাতেই
সব বলা হয়ে যায়।
ফেরার প্রার্থনা
লেখাটি শেয়ার করুন