বাঁচতে গেলে চ্যালেঞ্জ আসবে এবং আসতেই থাকবে। তার সাথে আসবে কঠিন সময়। তাই সহজ সময়ের জন্য অপেক্ষায় না থেকে সামনে যা আছে, তা মেনে নিয়ে যা আমাদের দরকার, তার কাছাকাছি নিজেকে নিয়ে যেতে হবে। নিজেকে যেভাবে মেলে ধরা উচিত, ঠিক সেভাবেই মেলে ধরতে হবে আরও অপেক্ষায় না থেকে। জীবনের নানান প্রতিকূলতার প্রতি বিতৃষ্ণ না হয়ে বরং সেগুলিকে মেনে নিয়ে নিজের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনাই শ্রেয়। নির্দয়তা নয়, দয়াই সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার ভালো পথ। মৃত্যু আগে আসবে, না কি সাফল্য আগে আসবে, তা তো আমরা কেউই জানি না। ভালোবাসার চাইতে সহজ রাস্তা আর কী আছে বাঁচার? ঘৃণার বদলে ভালোবাসা আঁকড়ে ধরে রাখে যারা, ওরা সত্যিই কি খুব বাজেভাবে ঠকে যায়? তুমি গতকাল, গতমাস, গতবছর যা ছিলে, আজ তা না হলেও কোনও ক্ষতি নেই। যে যা-ই বলুক না কেন, তুমি নিজে মেনে নিতে শেখো, তোমার এই বদলে যাওয়াটা সুন্দর ও স্বাভাবিক, কেননা নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে এটা তোমার দরকার ছিল। আমরা বেঁচে আছি বদলে যাই বলেই। আজকের এই আমি কালকে অন্য আমি হয়ে যাব। মানুষ বদলায়। পরিবর্তনই আয়ুর উপহার। তোমার পরিবর্তন যে মেনে নিতে পারে না, সে তোমার সাথে বরং না থাকুক। যার পরিবর্তন তুমি মেনে নিতে পারো না, তার সাথে তুমি বরং না থাকো। আর কিছু নয়, একদমই সহজ হয়ে যাও। জটিল যারা, ওদের এড়িয়ে চলো সচেতনভাবেই। তোমার সময়ের দাম আছে, ওটা যাকে-তাকে দিয়ে নিজের মনমেজাজ খারাপ করে ফেলার কোনও মানে নেই। সবাইকেই সময় দেবার কিছু নেই। সহজ হয়ে বাঁচলে নিঃশ্বাস নেওয়া সহজ, অন্যকে বাঁচতে দেখা সহনীয়, নিজের দুঃখগুলিকে উদ্যাপন করাও আনন্দের। প্রকৃতির কাছে গেলে যা পাওয়া যায়, ফেইসবুকে তা কখনোই পাওয়া যায় না। যখনই মনে হবে, মাথায় কিছুই আসছে না, অনেক ভেবেও পথ খুঁজে পাচ্ছ না, নিজেকে নিজের কাছেই একদম তুচ্ছ লাগছে, তখন প্রকৃতির কোলে ডুব দিলে জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়। বেশি কিছু না করে যদি স্রেফ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকো জানালাটা খুলে বা বারান্দায় গিয়ে কিংবা বাইরে কোথাও হেঁটে আসো একা একা, তবে মনের অনেক কষ্টই সারিয়ে ফেলা যায় অনায়াসেই। একটা সত্যি কথা বলি। দুঃখ নিয়েও বাঁচা যায়, দুঃখ নিয়েই বাঁচতে হয়। দুঃখ কবে চলে যাবে আর তখন আমরা সুখী হব, এই অপেক্ষায় না থেকে দুঃখকে সঙ্গে নিয়ে বাঁচতে শিখে নিলেই ভালো। যে যত দুঃখ সহ্য করে বাঁচতে পারে, সে তত স্বস্তিতে বাঁচে। আমরা প্রায়ই অপেক্ষা করি আর করতেই থাকি...কবে সুন্দর সময় আসবে, পরিস্থিতি কবে অনুকূলে আসবে, ভিন্ন কিছু বা ভালো কিছু কবে আসবে...এই অপেক্ষার যেন শেষ নেই! আমরা প্রায়ই ভুলে যাই ও ভুলে থাকি, ঠিক এই মুহূর্তের সময়টাই জীবন। আজকের দিনে আমি কী করতে পারি? এই মুহূর্তটাকে কীভাবে কাজে লাগাতে পারি? কাকে কাকে ক্ষমা করে দিয়ে নিজেকে কী কী কষ্টের হাত থেকে মুক্তি দিতে পারি? নিন্দা ও প্রশংসার প্রতি নিঃস্পৃহ হয়ে নিজেকে কীভাবে প্রত্যাশা, তথা কষ্টের হাত থেকে মুক্ত করতে পারি? আয়ুর সুস্থতার জন্য এইসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মাঝে মাঝে ভাবতে হয়। মানুষ সবসময়ই সুখের সঙ্গে বাঁচতে না পারলেও নিজের সঙ্গে ঠিকই বাঁচতে পারে। এই বাঁচাটা শিখে নিতে হয় দুঃখকে সহজভাবে নেবার মধ্য দিয়ে।
নিজের সঙ্গে বাঁচতে গিয়ে
লেখাটি শেয়ার করুন
sir apnake onek valo lage
আপনার লেখার মধ্যে একটা জীবন্ত আত্মা আছে যা আমাকে আমার জীবনে সহজভাবে চলতে শেখায়, কঠিন মুহূর্ত গুলোকে লাথি মেরে উড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে। হ্যাঁ, আপনার লেখাগুলো আমাকে বাঁচতে শেখায়।
ধন্যবাদ ভাই
so happy.. . ossadaron
thank you sir apnar Kota gulo sune nijeke change Korte parsi…
অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার আপনাকে। আপনার লেখা প্রতিটা কথা যে ভাবনার গভীরে নিয়ে যায়।