কথোপকথন

নিঃসঙ্গতার কাছে সমর্পণ



: শেষ। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি—বিচ্ছেদ।

এই পরিণতি চাইনি। কিন্তু যতটুকু পথ হেঁটেছি, প্রতিটি পদক্ষেপে ছিল অপমান, অবহেলা আর অপদস্থতার কাঁটা। আর এই পথে হাঁটার শক্তি নেই। এবার থেকে নিজের ছায়া নিজেই হব। সবার কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে, নিজের মাটিতে নিজেই দাঁড়াব। তারপর কে এল, কে চলে গেল—সে হিসাব আর রাখব না।

বোধ হয় আমার কপালে একাকিত্বই লেখা ছিল।

নিজেকে প্রমাণ করার দৌড়ে আর থাকব না। কারণ ভালো থাকা এক জিনিস, আর সারাক্ষণ দুনিয়াকে বোঝানো যে, "আমি ভালো আছি"—সেটা সম্পূর্ণ অন্য এক যন্ত্রণা।

সামনে এখন শুধুই বিস্তীর্ণ এক শূন্যতা...আর নিঃসঙ্গতার অন্ধকার। এটুকুই এখন থেকে আমার জগৎ। আমার সব কিছু।

আর কারও পায়ে মাথা ঠেকিয়ে সমাজের দরবারে "গ্রহণযোগ্য" হওয়ার ভিক্ষে চাইব না।

: আর এদিকে আমি? মনের ভেতর একটা কথা টগবগ করে ফুটছে—অথচ বলার কেউ নেই।

পুরুষ হয়ে জন্মানোর দুটো কাফফারা দিতে হয় আজীবন—একটা, চাকরি সহ্য করা; আরেকটা, সংসার সহ্য করা। আমার জীবনে একটাই স্বপ্ন বেঁচে আছে—একদিন এই দুই শেকল ছিঁড়ে মুক্ত আকাশে শ্বাস নেব।

বিয়ে এই পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্ঠুর শাস্তি। আর বিচ্ছেদ? সবচেয়ে গভীর স্বস্তির নিঃশ্বাস। সৃষ্টিকর্তাকে শুকরিয়া জানাও যে, এখনও সন্তান আসেনি—ঘরে সন্তান এলে শেকল ভাঙা আর সহজ হয় না। একটা সময় পর গিয়ে মানুষ শুধুই সন্তানের কারণে সংসার করে বা টেকায়।

: হয়তো এজন্যই সৃষ্টিকর্তা এখনও আমার কোল ভরেননি। তিনি তো আগে থেকেই জানতেন—এই ঘর টিকবে না। সব কিছু তাঁর হাতেই সমর্পণ করলাম। আর কোনো কিছুর জন্য বুক ভাঙব না।

যা আঁকড়ে ধরতে চাইলেও বালির মতো আঙুলের ফাঁক দিয়ে গলে যায়—তাকে জোর করে ধরে রাখতে গেলে নিজের হাত‌ই কেবল রক্তাক্ত হয়। যে যেখানে যাকে নিয়ে শান্তিতে আছে—থাকুক। সৃষ্টিকর্তা সকলকে সুখ দিন।

তবে একটা ভয় ভেতরে কুরে কুরে খাচ্ছে—লোকনিন্দের ভয়। একাকিত্ব হয়তো সইতে পারব, কিন্তু মানুষের বিষাক্ত কথার ছুরি? তা যে প্রতিদিন একটু একটু করে খুন করে—নীরবে।

: লোকের মুখে তো আর তালা দেওয়া যায় না—তাই ওদের কথায় কান দিয়ো না। আমরা যতই রক্ত ঝরাই না কেন, ওদের কাছে তা শুধুই বিনোদন।

: আচ্ছা, বলো তো, আমি কি পারব—একটু নিষ্ঠুর হতে? আর একটু পাষাণ? মনে হয়, সেই চর্চাটা আজ থেকেই শুরু করা উচিত। কারণ চারিদিকে তাকিয়ে একটাই সত্য দেখি—যারা নির্দয়, তারাই সবচেয়ে সুখে আছে।

: পারবে না।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *